fbpx
           
       
           
       
শিরোনাম :
কওমি মাদরাসা রাজনীতি মুক্ত থাকবে: ব্যাখ্যায় চার বুদ্ধিজীবী আলেম
এপ্রিল ২৫, ২০২১ ১১:০১ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশ কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ শিক্ষা অথরিটি আল হাইয়াতুল উলইয়ার বিশেষ বৈঠক রোববার অনুষ্ঠিত হয়েছে রাজধানীর জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়া যাত্রাবাড়ী মাদরাসায়। বর্তমান পরিস্থিতিতে কওমি মাদরাসায় চলমান নানা সংকট নিয়ে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বৈঠকে। এর মধ্যে ২নং সিদ্ধান্তটি ছিল ‘কওমি মাদরাসার ছাত্র ও শিক্ষকগণ প্রচলিত সর্বপ্রকার রাজনীতি থেকে মুক্ত থাকবে’। এ ‘সর্বপ্রকার রাজনীতি থেকে মুক্ত থাকা’ বলতে আসলে কী বোঝানো হচ্ছে জানতে দেশের চার বুদ্ধিজীবী আলেমের সঙ্গে কথা বলেছেন আওয়ার ইসলামের সাব এডিটর  নুরুদ্দীন তাসলিম
________________________________________

মাদরাসায় ছাত্র-শিক্ষকরা রাজনীতি শিখবেন, শেখাবেন, কিন্তু প্রতিষ্ঠানে প্রয়োগ করবেন না: মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী

এবিষয়ে রাষ্ট্রচিন্তক ও সমাজ বিশ্লেষক, মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী বলেছেন, ‘এটা খুবই সহজ বিষয়। মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকরা রাজনীতি শিখবেন, শেখাবেন, কিন্তু তারা প্রতিষ্ঠানে থাকাবস্থায় রাজনীতি করবেন না।

উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, মাদারাসাতে কিতাবুল বুয়ুসহ (ব্যবসা-বাণিজ্যের অধ্যায়) অনেক কিছু পড়ানো হয়, কিন্তু পড়াশোনার সময় ছাত্র-উস্তাদ কেউ প্র্যাকটিক্যালি ব্যবসায় নেমে পড়েন না, ঠিক তেমনি ছাত্ররা মাদরাসায় রাষ্ট্র-রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে পড়বে, শিখবে, তবে প্রতিষ্ঠানকে তা প্রয়োগের ক্ষেত্র বানাবে না।

‘আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে মাদরাসায় রাজনীতি করলে ধরপাকড়, হয়রানি এমনকি মসজিদ-মাদরাসা বন্ধ হওয়ার মতো আশঙ্কাও তৈরি হয়। তাই কলেজ ইউনিভার্সিটিতে যেমন রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে পড়ানো হয়, নিষিদ্ধ থাকলে সেখানেও রাজনীতি করা হয় না, তেমনি মাদরাসায় রাজনীতি পড়া, বোঝা, শেখা নিষিদ্ধ না, তবে মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষক থাকাকালীন রাজনীতি করবে না।’

নদভী বলন, ‘প্রত্যেকের ব্যক্তি স্বাধীনতা আছে, চাইলে তারা রাজনীতি করতে পারে। কিন্তু মাদ্রাসার পরিবেশে রাজনীতি করা কোনোভাবেই ঠিক হবে না। পড়াশোনা, তালিম তরবিয়তের পরিবেশই মাদ্রাসার জন্য উপযোগী।’

শিক্ষার প্রয়োজনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রাজনীতি মুক্ত থাকা চাই: মাওলানা লিয়াকত আলী

এদিকে শিক্ষাবিদ ও বিশ্লেষক আলেম, দারুর রাশাদ মাদরাসার শিক্ষাসচিব মাওলানা লিয়াকত আলী বলেছেন, শিক্ষার উন্নয়ন ও মান বিবেচনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো দলীয় রাজনীতি থেকে মুক্ত থাকা একান্ত জরুরি। তিনি বলছেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার কারণে শুধু কওমি মাদ্রাসা না সবধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার ক্ষতি হয়। অনেক সময় দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকতে গিয়ে পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটে।

এ সিদ্ধান্তকে সঠিক এবং মাদ্রাসা রক্ষার স্বার্থে বর্তমানে এ সিদ্ধান্ত কার্যকরী- বলছেন তিনি।

ব্যত্তি স্বাধীনতা ও অধিকার থেকে চাইলে যে কেউ রাজনীতি করতে পারেন, তবে অবশ্যই তা প্রতিষ্ঠানের বাইরে গিয়ে একান্ত রাজনৈতিক পরিবেশে হওয়া কাম্য- বলছিলেন শিক্ষাবিদ ও বিশ্লেষক আলেম মাওলানা লিয়াকত আলী।

রাজনীতির স্বার্থেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে রাজনীতিকে আলাদা করা প্রয়োজন: মাওলানা মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীন

এদিকে শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিবীজী আলেম, দারুল উলুম রামপুরার মুহাদ্দিস মাওলানা যাইনুল আবিদীন বলেছেন, বর্তমানে আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যেভাবে রাজনীতি চলছে, এই ধারায় চলতে থাকলে আমাদের ঘরোনার রাজনীতি কখনো প্রতিষ্ঠা পাবে বলে মনে হয় না।

সম্মানের সাথে মাথা উঁচু করে বাঁচতে হলে এবং আমাদের ধর্মকে সাথে নিয়ে চলতে হলে অবশ্যই আমাদের ঘরনার রাজনীতির শক্তিশালী অবস্থান প্রয়োজন, তাই আমাদের ধারার রাজনৈতিক শৃঙ্খলার ও শক্তিশালী অবস্থানের জন্য তাকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরে আলাদা জায়গা ও নিজস্ব শৃঙ্খলার মধ্য থেকে পরিচালিত হওয়া দরকার বলে মনে করেন মাওলানা যাইনুল আবিদীন।

এই লেখক ও মুহাদ্দিস বলেন, আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যেভাবে আলাদাভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, ঠিক তেমনি রাজনৈতিক দলগুলো যদি আলাদা অফিস, নিজস্ব শৃঙ্খল, নিজস্ব ঠিকানার মধ্যে পরিচালিত হয় তবেই আমাদের আকাঙ্ক্ষিত রাজনীতি প্রতিষ্ঠা পেতে পারে বলে আমি মনে করি।

সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় হাইয়ার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক মনে হয়েছে: মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ

এদিকে ইনস্টিটিউট অব জার্নালিজম অ্যান্ড দাওয়া বাংলাদেশের পরিচালক, মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ প্রতিবেদককে বলেছেন, কওমি মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকগণ প্রচলিত সর্বপ্রকার রাজনীতি থেকে মুক্ত থাকবে- এই সিদ্ধান্তের সঠিক ব্যাখ্যা দায়িত্বশীলরাই দিতে পারবেন। তবে আমার কাছে মনে হয়েছে বর্তমানে পরিস্থিতির যে প্রতিকূলতা তাতে যারা রাজনীতির সাথে জড়িত এবং মাঠ পর্যায়ে সক্রিয়, রাজনৈতিক সংগঠন হোক অথবা আধা রাজনৈতিক, অরাজনৈতিক বা অন্য কোন দল, তারা কেউ বর্তমানে এ সংকট থেকে উত্তরণে ভূমিকা রাখতে পারছেন না।

এমন পরিস্থিতিতে অন্য বেশ কিছু শর্তের সাথে হাইয়াতুল উলইয়ার যেই শর্তটি যুক্ত করেছে, আপাতদৃষ্টিতে একে কিছুটা ভিন্ন রকম মনে হলেও পরিস্থিতির প্রতিকূলতা দূর করে মাদ্রাসাগুলো খুলে দেওয়া, পরিবেশের মধ্যে এক ধরনের আনুকূল্য ফিরিয়ে আনা, গ্রেফতারি, সরকারি রুষ্টতা, হয়রানি বন্ধ, সাহরি ও ইফতারে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতের খাতিরে এই ছোট্ট একটি বিষয়কে এত বড় করে দেখার সুযোগ আছে বলে আমার মনে হয় না’ বলেছিলেন মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ।

এছাড়া তার মতে দ্বিতীয় আরেকটি বিষয় হলো, এই বৈঠকে হেফাজতের বড় বড় নেতা যেমন মাওলানা নুরুল ইসলাম জিহাদী, মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, মাওলানা মাহফুজুল হকসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন, যেহেতু তাদের উপস্থিতিতেই শর্তটি রাখা হয়েছে, তাই বোঝা যায় তারা সবদিক বিবেচনা করেই সিদ্ধান্তটি মেনে নিয়েছেন।

শরীফ মুহাম্মদ বলছেন, বৈঠকে বলা হয়েছে প্রচলিত ধারার রাজনীতি থেকে মুক্ত থাকার কথা। উলামায়ে কেরাম যদি প্রচলিত ধারার রাজনীতির বাইরে গিয়ে অন্য কোনো ধরনের সঠিক, সুষ্ঠু, পদ্ধতি বের করতে পারেন, যেখানে প্রচলিত ধারার রাজনীতি থাকবে না- তাহলে হয়তোবা দলগুলো এই শর্ত থেকে বেরিয়ে এসে চাইলে কার্যক্রম চালাতেও পারে।

 

আরো পড়ুনআল-হাইআতুল উলয়ার স্থায়ী কমিটির সভায় ৬ সিদ্ধান্ত

-এটি

সর্বশেষ সব সংবাদ