fbpx
           
       
           
       
শিরোনাম :
সাকিবের মসজিদ নিয়ে তসলিমাদের গাত্রদাহ যে কারণে: মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ
মার্চ ১৪, ২০২১ ২:৪৬ অপরাহ্ণ

মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ।।

সাকিব আল হাসান তার নানা বাড়ি এলাকায় একটি মসজিদ নির্মাণ করেছেন, এই নিউজ গতকাল থেকে গণমাধ্যমে ঘুরছে। মসজিদ নির্মাণ করে তিনি কত বড় কাজ করেছেন এবং কতটা ধর্মপ্রাণতার পরিচয় দিয়েছেন- এখানে আলোচনার মূল বিষয়ে এটি নয়। বরং চোখ ফেরানোর আহ্বান অন্য একটি বিষয়ে।

আপনি লক্ষ্য করলে দেখবেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমের ফেসবুক লিংকের কমেন্টে সাকিব-আল-হাসান বিরোধী নানারকম বিষোদগার প্রকাশ করছে ইসলামবিদ্বেষী, নাস্তিক্যবাদীদের একটি দল। সাকিব হাসপাতাল বা বিজ্ঞান গবেষণাগার না করে মসজিদ কেন করল, এ নিয়ে তাকে তুলোধুনো করা হচ্ছে। যেন মসজিদ বানিয়ে সে মস্ত বড় অপরাধ করে ফেলেছে! নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষীদের শয়তানজননী তসলিমাও স্ট্যাটাস দিতে ছাড়েনি।

এ ঘটনায় একটা জিনিস বোঝা গেল, কয়েক বছর আগে ক্রিকেটার মুশফিক যখন কুরবানীর রক্তমাখা হাত নিয়ে ছবি পোস্ট করেছিলো, এবং তার বিরুদ্ধে নাস্তিকচক্র হামলে পড়েছিল, তখন মাঝখান থেকে অনেকে বলার চেষ্টা করেছে, ‘রক্তমাখা ছবি এভাবে পোস্ট করা মুশফিকের ঠিক হয়নি’। মনে হচ্ছিল ‘রক্তে’র পরিবর্তে শান্তিধর্মী কোনো ধর্মীয় তৎপরতায় এদের বিরোধিতা নেই! অথচ দেখুন, এই চক্রই এখন সাকিবের মসজিদ নির্মাণের বিরুদ্ধে লেগে গেছে।

এর মানে হলো, কোরবানির রক্তমাখা ছবি বড় কথা ছিল না, ইসলামবিদ্বেষীদের দরকার ছিল ছুতোনাতা। মসজিদ নির্মাণের পরিবর্তে সাকিব যদি ইসলাম প্রচারমূলক কোনো প্রতিষ্ঠানের হয়ে দরিদ্র মানুষের মধ্যে সমাজকল্যাণমূলক সাধারণ কোনো কাজও করতো তাহলেও এরা নিন্দা করতে ছাড়তো না। অপরদিকে (কাল্পনিক অর্থে) সাকিব যদি ওই এলাকায় একটা নেশার বার বানিয়ে দিত, তাহলে এরা বাহ বাহ করতো। এরা মূলত ইসলামবিদ্বেষী। ইসলাম বিদ্বেষের এই সূত্র ও ধারাবাহিকতা সম্পর্কে অনুশীলনশীল মুসলিম-গাফেল মুসলিম-সবার সজাগ থাকা দরকার। (লেখকের ফেসবুক থেকে)

প্রসঙ্গত, ধর্মপ্রাণ মসুল্লিদের নামাজ আদায়ের জন্য বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান তার নানাবাড়ি এলাকায় একটি মসজিদ নির্মাণ করে দিয়েছেন। গত বছরের এপ্রিলে মসজিদটি উদ্বোধন করা হলেও এতদিন গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়নি। মসজিদ তৈরি করে দেওয়ার এ মহৎ কাজটি সাকিব নিজেও প্রচার করতে চাননি বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাগুরায় জন্ম নেওয়া সাকিব একই জেলার আলোকদিয়ার বারাশিয়ায় নানার বাড়ি এলাকায় একটি মসজিদ নির্মাণ করেছেন। বারাশিয়া পূর্বপাড়া জামে মসজিদটি নির্মাণে প্রায় ৩৫ লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে। একতলা বিশিষ্ট ওই মসজিদের ভেতরে ছয়টি কাতার করা হয়েছে। প্রতি কাতারে ৪০ জনের মতো মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন।

গত বছরের এপ্রিলে মসজিদটি উদ্বোধন করা হয়। মসজিদটিতে ইমাম হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন মুফতি মো. আতিক উল্লাহ। মুফতি আতিক উল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মসজিদটি উদ্বোধনের পর থেকে তিনি ইমামতি করছেন। নানাবাড়ি এলাকায় সাকিবের এ মহৎ কাজে এলাকাবাসী খুবই খুশি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাকিবের ছোট মামা স্থানীয় একটি মাদরাসার শিক্ষক বাবলুর রহমান বলেন, সাকিব নিজের অর্থায়নে এখানে একটি মসজিদ নির্মাণ করেছে। তবে বিষয়টি সে প্রচার করতে চায়নি।

বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের এ প্রচারবিমূখ উদ্যোগ মানুষকে আপ্লুত করেছে। ধর্মপ্রাণ মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। তবে তার এ মসজিদ নির্মাণ সহ্য হয়নি বিতর্কিত ও সমালোচিত লেখক তসলিমা নাসরিনের। ইসলাম নিয়ে তার এলার্জিতে নুতন মাত্রা যোগ হয়েছে।

সাকিব আল হাসানের মসজিদ নির্মাণ বিষয়ে তসলিমা নাসরিন তার ফেসবুক পোস্টে লিখেন, ‘সাকিবের প্রচুর টাকা। নিউ ইয়র্কে বিশাল বাড়ি তাঁর। আর কোন কোন শহরে বাড়ি কিনেছেন জানা নেই আমার। তবে আজকের খবর হলো, তিনি তাঁর নানাবাড়ি মাগুরায় একখানা মসজিদ বানিয়ে দিয়েছেন। আমার প্রশ্ন, ওখানে কি অভাব ছিল মসজিদের? আমি নিশ্চিত, অভাব ছিল না। যদি অভাব কিছুর থেকে থাকে তবে ভালো হাসপাতালের, ভালো কলেজের, ভালো বিজ্ঞান একাডেমির, ভালো ন্যাচারাল হিস্টরি মিউজিয়ামের, ভালো পাবলিক লাইব্রেরির। কিন্তু সাকিব তাঁর টাকার শ্রাদ্ধ করলেন কচুরিপানা ভর্তি পুকুরে আরও একখানা কচুরিপানা ছেড়ে।’

তিনি আরো লিখেন, ‘কী হবে এরপর? ক’দিন পর মসজিদের ইমাম কোনও শিশুকে ধর্ষণ করবেন, ক’দিন পর মুয়াজ্জিন করবেন, ক’দিন পর মসজিদ কমিটি একটি ধর্ষণাগার ওরফে মাদ্রাসা বানানোর জন্য সাকিবের কাছে আবেদন করবেন। দৃশ্যগুলো তো আমরা চোখ বুজেই দেখতে পাচ্ছি।’

বিতর্কিত এ লেখকের ইসলাম বিদ্ধেষ নতুন নয়। দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরেই তিনি এসব করে আসছেন। এসবের কারণে দেশান্তর হতেও বাধ্য হয়েছিলেন তিনি।

-কেএল

সর্বশেষ সব সংবাদ