fbpx
           
       
           
       
শিরোনাম :
হিজড়াকে বিয়ে করার বিধান কী?
মার্চ ০৮, ২০২১ ৫:১৫ অপরাহ্ণ

আওয়ার ইসলাম: হিজড়া। আমাদের সমাজে ভিন্নভাবে বসবাসকারী একটি গোষ্ঠী। সম্প্রতি তাদের নিয়ে অনেক কাজ হচ্ছে বাংলাদেশে। সাধারণ মানুষের মতো জীবন-যাপনের পদ্ধতি শিখিয়ে দেয়া হচ্ছে তাদের। তাদের জন্য তৈরি করা হয়েছে আলাদা মাদরাসা। সরকারের পক্ষ থেকেও দেওয়া হয়েছে তাদের আলাদা স্বীকৃতি। এই ভিন্নভাবে বসবাস করা গোষ্ঠীকে কি বিয়ে করা যাবে? এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে পড়ুন মুফতি নুরুজ্জামান নাহিদ এর পাঠানো জবাব–মোস্তফা ওয়াদুদ, নিউজরুম এডিটর।।


প্রশ্ন: কোনো মুসলিম পুরুষ কি ‘হিজড়া’কে বিয়ে করতে পারবে?
উত্তর: হিজড়াকে আরবিতে খুনসা বলা হয়। খুনসা সাধারণত দুই রকম হয়। ১. খুনসা মুশকিলাহ, ২. খুনসা গাইরে মুশকিলাহ

খুনসা মুশকিলাহ: কোনভাবেই যাদের লিঙ্গ (জেন্ডার) নির্ধারণ করা সম্ভব হয় না। তারা পুরুষ না মহিলা-বোঝা যায় না।
এমন খুনসা বা হিজড়াকে বিয়ে করা বৈধ নয়। (ফতোয়ায়ে শামি: ৬/৭২৯)

খুনসা গাইরে মুশকিলাহ: বিভিন্ন আলামতের মাধ্যমে যাদের লিঙ্গ নির্ধারণ করা যায়। অর্থাৎ স্ত্রীবাচক বা পুরুষবাচক কোনো আলামতের মাধ্যমে ধারণা করা যায় তাদের লিঙ্গ (জেন্ডার) এই ধরণের। এদেরকে বিয়ে করা জায়েজ।

বিয়ের পদ্ধতি হলো লামতের মাধ্যমে যদি স্ত্রীগোত্রীয় প্রমাণিত হয় তাহলে পুরুষের সাথে এবং পুরুষগোত্রীয় প্রমাণিত হলে স্ত্রীলোকের সাথে বিয়ে দেওয়া হবে। (ফতোয়ায়ে তাতারখানিয়া : ২০/২০১)

লিঙ্গ নির্ধারণের পদ্ধতি:

১. সাবালক বা সাবালিকা হওয়ার আগে তার পেশাব করার ধরণ দেখে নেওয়া। অর্থাৎ সে যদি পুরুষদের মত পেশাব করে পুরুষগোত্রীয়, যদি মেয়েদের মত পেশাব করে নারীগোত্রীয় গণ্য হবে।

২. যদি দাড়ি গজায় তাহলে পুরুষগোত্রীয় আর যদি বুক স্ফীত হয় নারীগোত্রীয় ধরা হবে।
৩. স্বপ্নদোষ থেকেও আন্দাজ করা যায়। যদি পুরুষালী স্বপ্ন দেখে পুরুষ, যদি মেয়েদের মত স্বপ্ন দেখে নারী।
৪. অনেক সময় হিজড়া পুরুষ স্ত্রীসম্ভোগের আগ্রহ বা স্ত্রী লোকের প্রতি আকর্ষণ বোধ করে বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। কেবল এই কারণে এক হিজড়া থেকে রাসুলুল্লাহ সা. তার স্ত্রীদের পর্দা করতে বলেছিলেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং- ৪৩২৪, সহিহ মুসলিম, হাদিস নং-২১৮০)
৫. অনেক সময় হিজড়া নারীর হায়েজ হয় বলেও প্রমাণ পাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে তাকে স্ত্রীলোক বলে গণ্য করা হবে।

স্মরণ রাখা প্রয়োজন: দ্বিতীয় প্রকারের হিজড়াকে বিবাহ করা জায়েজ বলে যদিও ফুকাহায়ে কেরাম মত দিয়েছেন। কিন্তু একই সাথে তারা সতর্ক করেছেন, স্বামী-স্ত্রী কেউ যেন অবৈধ পন্থায় তাদের যৌন চাহিদা পূরণ না করে। সুতরাং বিয়ে করার আগে অবশ্যই আবেগকে বিসর্জন দিয়ে বিবেক দিয়ে চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আল্লাহ তাআলা সর্বজ্ঞ ও সর্বাধিক প্রজ্ঞাবান।

উত্তর প্রদানে: মুফতি নুরুযযামান নাহিদ, মুহাদ্দিস, আল-জামিআ আল-আরাবিয়া দারুল হিদায়া, পোরশা, নওগাঁ

এমডব্লিউ/

সর্বশেষ সব সংবাদ