fbpx
           
       
           
       
জমজম কূপের পানি ওঠার উৎসস্থল দেখা ড. ইয়াহিয়ার ইন্তেকাল
মার্চ ০৪, ২০২১ ৪:০৯ অপরাহ্ণ

আওয়ার ইসলাম: জমজম কূপের সবেচেয়ে বড় পরিষ্কার কাজে নেতৃত্বদানকারী, কূপে প্রবেশ করা প্রথম সারির ব্যক্তিদের একজন, যিনি কূপের পানি ওঠার উৎসস্থল দেখেছিলেন ইঞ্জিনিয়ার ড. ইয়াহিয়া কোশক ইন্তেকাল করেছেন।

গত সোমবার (১ মার্চ) বিকেলে সৌদি আরবে ইঞ্জিনিয়ার ইয়াহিয়া কোশক ইন্তেকাল করেন। তিনি সৌদি আরবের পানি ও নিকাশী কর্তৃপক্ষের প্রাক্তন মহাপরিচালক ছিলেন। এই প্রকৌশলী, পবিত্র মক্কা নগরীর প্রাক্তন মেয়র ডঃ আবদুল কাদিরের ভাই।

১৯৭৯ সালে বাদশাহ খালিদ বিন ফয়সলের সময়ে ইয়াহিয়া কোশকের নেতৃত্বে জমজম কূপ পরিষ্কার করা হয়েছিলো। তিনি এবং তার দল আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মির সাহায্যে জমজমকে ভালভাবে নির্বীজন করেছিলেন। তিনি এটি তার “জমজম ফুড ফর স্বাদ এবং অসুস্থতার নিরাময়ের” নামে একটি বইয়ে উল্লেখ করেছেন।

পবিত্র নগরী মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদের প্রান্তে যে মূল্যবান ও পবিত্র জমজম কূপ রয়েছে তা প্রায় চার হাজার বছর পূর্ব থেকে পানি সরবরাহ করে আসছে। তা এখনো শক্তিশালীভাবে চলছে। নিয়মিত প্রতিদিনে জমজমে গড়ে একশ ঘনমিটার যা শুক্রবারে দ্বিগুণ দুইশ ঘনমিটার হয়ে যায় এবং রমজান ও হজ মৌসুমে এক হাজার ঘনমিটারেরও বেশি পানি উত্তোলন হয়।

বিশ্বজুড়ে কেবল হজ এবং ওমরার জন্য আসা হজ ও ওমরাহ যাত্রীরাই নয়, স্থানীয়রা এটিকে তাদের হৃদয়ের মাঝে স্থান দিতে এবং পানি পান করতে প্রতিদিন হাজার হাজার ক্যান ঘরে নিয়ে যায়। রমজানে জমজমের ব্যবহার স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায় কারণ মক্কায় বিপুল সংখ্যক ওমরাহ যাত্রী আসেন। একই সাথে হারামাইন কর্তৃপক্ষ মদিনার নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মসজিদে জমজম পরিবহণ ও সরবরাহ করে আসছে।

গ্র্যান্ড মসজিদে জমজম পানি বিতরণের পরিচালক আইফান আল জুয়েদ এক বিবৃতিতে বলেছিলেন যে, রমজান মাসে মসজিদে প্রতিদিন তিন মিলিয়ন কাপ জমজম পান করা হয়। রমজানে প্রতিদিন ১,৮০০ ঘনমিটারেরও বেশি পানি মসজিদের অভ্যন্তরে এবং এরচেয়েও বেশি চত্বরে ব্যবহার করা হয়।

জিয়ারতকারিরা মসজিদের অভ্যন্তরে ১,১০০টি ট্যাপের পাশাপাশি ৯০টি পানির মেশিন থেকে জমজম পান করতে পারেন এবং বাইরে ১০০টি নল ও ৪৩টি পানির মেশিন থেকে পানি পান করছেন।

আল জুয়েদ বলছিলেন যে, বেসমেন্টে, প্রথম, দ্বিতীয় তলায় এবং মাসায়ায় নতুন পানির মেশিন বসানো হয়েছে। উত্তরের চত্বরেও আরও পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। দর্শনার্থীরা প্রচুর জমজমের পানি পান করেন। জমজমের ফজিলত, উপকারিতা এবং নিরাময়ের মূল্যবোধকে মহানবী (সা.), তাঁর সাহাবাগণ এবং অন্যান্যদের দ্বারা প্রচুর বিবরণ রয়েছে। প্রয়াত বাদশাহ ফয়সাল জমজম পানি বিতরণ ব্যবস্থার উন্নতিতে যথেষ্ট আগ্রহ দেখিয়েছিলেন।

পূর্বের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় পবিত্র পানি বিতরণের জন্য আর্থিক ও প্রশাসনিক আইন প্রণয়ন এবং ১৯৮২ সালে জমজম ইউনাইটেড অফিস প্রতিষ্ঠা করে, যা ইবাদতকারীদের বিশেষত হজ ও রমজানের সময় যাতে তাদের পছন্দসই পরিমাণে পানি পানে কোনও অসুবিধা না হয়।

ড. ইয়াহিয়া হামজা কোশক তার জমজম গল্পের “জমজম: পবিত্র পানি” নামে ডকুমেন্ট করেছেন। তিনি ওয়েল অফ জমজমের সাথে তার প্রথম অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আরবি, ইংরেজি, ফরাসি, উর্দু, বাহাসা, মালয়ু এবং তুর্কি ভাষায় “জমজম: পুষ্টি ও নিরাময়ক” নামে একটি ডকুমেন্টারি ফিল্মও প্রযোজনা করেছেন।

১৩৯৯ সালে হিজরী (১৯৭৫ খ্রী.), বাদশাহ ফয়সালের সময়কালে জমজমের পুরানো ভবনগুলি কাবার আশেপাশের অঞ্চলটি প্রশস্ত করার জন্য সংষ্কার করা হয়েছিলো, যে কাজটি এক বছরের মধ্যে শেষ সম্পন্ন হয়। বাদশাহ খালেদের সময়ে দ্বিতীয় বারের মতো প্রশস্তকরণের জন্য জমজমের সমস্ত প্রবেশদ্বার সরানো হয়েছিলো। খোঁড়াখুঁড়ি করার সময় ভূগর্ভস্থ পানিতে অনেক জায়গায় প্লাবিত হয়। সেইসময় একটা ঝুঁকিও ছিলো। সেটা সুরক্ষার জন্য গবেষণাও চালাতে হয়েছিলো।

-এটি