fbpx
           
       
           
       
শিরোনাম :
হিজাব ইজ মাই ফ্রিডম! হিজাব ইজ মাই চয়েস!
ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২১ ৮:৩১ অপরাহ্ণ

কাজী একরাম

আজ পহেলা ফেব্রুয়ারি বিশ্ব হিজাব দিবস। ‘হিজাব ইজ মাই ফ্রিডম’, ‘হিজাব ইজ মাই প্রটেকশন’, ‘হিজাব ইজ মাই চয়েস’, ‘হিজাব ইজ মাই কভার’ ইত্যাদি শ্লোগানে প্রতিবছর এই দিনে পালিত হয় বিশ্ব হিজাব দিবস। ২০১৩ সালে নিউইয়র্ক প্রবাসী বাংলাদেশী নারী নাজমা খান কতৃক প্রতিষ্ঠিত একটি বার্ষিক কার্যক্রম।

কার্যক্রমটি প্রতিবছর ১ লা ফেব্রুয়ারি বিশ্বব্যাপী ১৪০ টি দেশে অনুষ্ঠিত হয়। এটি চালু করার উদ্দেশ্য হলো, সমস্ত ধর্ম এবং স্তরের নারীদের হিজাব পরিধান এবং অভিজ্ঞতা অর্জনে উৎসাহিত করা। কার্যক্রমটির আয়োজকেরা এটিকে অমুসলিম নারীদের হিজাবের অভিজ্ঞতা অর্জনের একটি বিশেষ সুযোগ হিসাবে বর্ণনা করেন।
যেমন নাজমা খান বলেন, হিজাব পরিধান করার জন্য যে মুসলিম হতেই হবে এমন কোনো কথা নেই। হিজাব মূলতঃ শালীনতার জন্য পরিধান করা হয়। তাই তিনি এটা পরিধান করায় কোনো সমস্যা দেখেন না। তার এই কথায় ব্যাপক সাড়া মেলে। ফলে দেখা যায়, হাজারো অমুসলিম নারী হিজাব পরে দিবসটি পালন করে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিবছরের মতো আজ ১ ফেব্রুয়ারি ২০২১, সোমবার পালিত হচ্ছে বিশ্বব্যাপী ‘বিশ্ব হিজাব দিবস’। এ প্রেক্ষাপটে হিজাব ও পর্দা বিষয়ে খণ্ডিত কিছু আলাপ করা যায়।


হিজাব-পর্দা প্রসঙ্গে একশ্রেণীর প্রগতিশীল মহল সওয়াল তুলে থাকেন যে, হিজাব-পর্দা হচ্ছে উচ্চশিক্ষার অন্তরায় এবং আধুনিক সভ্যতা থেকে পিছিয়ে পড়া ও পশ্চাৎপদতার লক্ষণ।

তাদের মন্তব্য নিয়ে কোনধরণের ‘সেকেলে আলাপ’ না করে, আমি বরং তাদের সমীপে পাল্টা প্রশ্ন রাখতে চাই যে, আচ্ছা, এই হিজাবের আবরণ শরীরের জন্য না কি মেধা-মস্তিস্কের উপর? নিশ্চয়ই শরীরের আবরণী হিসেবেই এটা পরা হয়ে থাকে। যদি এই হিজাব ও পর্দা শরীরের জন্যই হবে, এর সম্পৃক্ততা যদি মেধার সাথে না থাকে, তবে শিক্ষা বা উচ্চ শিক্ষার প্রশ্ন কেন জড়াবে হিজাবের সাথে? শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চা তো একান্তই মেধা ও মস্তিষ্ক নির্ভর বিষয়। যদি তাই হয় বাস্তবতা, তাহলে কেন শিক্ষা, সভ্যতা, প্রগতিশীলতা এবং এগিয়ে যাওয়াটা নারীদের নগ্ন হওয়া বা হতে পারার মাঝে বিবেচনা করা হবে?

হিজাব-বোরখা নারীদের জন্য বড়ো কোন ক্যারিয়ার গড়ার পক্ষে বাঁধ সাধে—এমন কথা নিতান্তই অযৌক্তিক এবং অবাস্তব মনে হয়। কারণ, হরহামেশাই বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়, টিভির পর্দায়, এবং আমাদের দৃশ্যমান চারপাশে এমন অসংখ্য উন্নত ও আধুনিক উচ্চ শিক্ষিত নারীদের দেখা মিলে, যারা প্রাত্যাহিক জীবনে হিজাবের চর্চায় পুরোদস্তুর অভ্যস্ত। কৈ, হিজাব ও পর্দা তো তাদের শিক্ষা ও উন্নতির ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায় নি? বর্তমান আধুনিক পৃথিবীর উচ্চ শিক্ষিতা ও সংস্কৃতিবান নারী, যারা তাদের শিক্ষা ও সংস্কৃতি নিয়ে রীতিমতো গর্বিত, তারা যদি হিজাব পরিধান করে, তবে কি এতে করে তাদের সেই জ্ঞান ও শিক্ষা উড়ে যাবে তাদের মাথা থেকে? বলা হবে কি তারা অশিক্ষিত এবং অপসংস্কৃতিতে আচ্ছন্ন? অনুরূপভাবে যদি কোনো মন্ত্রী কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা বা অধ্যাপিকা হিজাব পরেন, সে কি নিছক হিজাবী হওয়ার অজুহাতে মুর্খ বা পশ্চাৎপদ হয়ে যাবেন? অসভ্য ও পশ্চাৎপদ হিসেবে গণ্য হবেন?

সবিনয়ে জানতে চাই কী হবে সেই তথাকথিত পর্দাবিরোধী প্রগতিশীলদের উত্তর! কী-ই বা হতে পারে তাদের জবাব!

কথা হলো, সমস্যা আসলে হিজাব বনাম মুর্খতা বা পশ্চাৎপদতার না, বরং সমস্যা অন্য কোথাও। কাহিনি অন্য কিছু? ডাল মেঁ কুচ কালা হ্যঁয়!

এভাবে আরও নানা অজুহাত দেখিয়ে আধুনিক দুনিয়ার নানা দেশে এই হিজাব ও পর্দার বিরোধিতার প্রচলন ও আন্দোলন জারি আছে। এমনকি হিজাবের বিরুদ্ধে আইন পর্যন্ত করা হয়েছে, যার লঙ্ঘনে ধার্য করা হয়েছে উচ্চধরের জরিমানা। এ যেমন, ‘ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শের সঙ্গে সংঘাতপূর্ণ’ বলে ২০১০ সালে ফ্রান্স হিজাব নিকাব নিষিদ্ধ করে। ইউরোপে ফ্রান্সই হলো সেই দেশ, যারা প্রথম হিজাববিরোধী এমন পদক্ষেপ নেয়। শুধু বোরকা বা নিকাবই নয়, ফ্রান্স মুখ ঢাকা যে কোন পোশাক—মুখোশ, বালাক্লাভা, হেলমেট বা হুড সবই নিষিদ্ধ করেছে। অমান্য হলে ৩২ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানার বিধান ঘোষণা করে তাদের তথাকথিত সেই হিজাববিরোধী আইন। এরপর ধীরেধীরে হিজাববিরোধী এ ধারা ও সক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে পৃথিবীর দেশে দেশে।

পর্দা ও হিজাবের বিরুদ্ধে আধুনিক পশ্চিমাদের এবং তাদের তাবেদারদের সমস্ত তৎপরতার নেপথ্যে মুলত একটা গোপন উদ্দেশ্য ও মনোভাব সক্রিয় রয়েছে বলে সঙ্গতকারণেই মনে করা যায়। সেটা এই যে, মুসলিম নারীরা যখন হিজাব পরিধান করে নিজেদের ইজ্জত-আব্রু রক্ষা করছেন, আত্মমর্যাদা রক্ষা করে চলছেন, নিজেদেরকে সস্তা বাজারি পন্যের মতো মার্কেটিং করে বেড়াচ্ছেন না, রূপ-সৌন্দর্যের পসরা সাজিয়ে পরপুরুষের নয়ন-মনের তেষ্টা মেটাচ্ছে না, তখন তাদের আশপাশের সেই আব্রুহীন বিবসনা নগ্নশরীর মহুয়া ললনাদের আত্মাভিমানে ঘা লাগাই স্বাভাবিক বৈকি। এতে তারা নারাজ হবে বৈকি। কারণ, নেংটো তো তার পাশের সবাইকে তার মতোই দেখতে চাইবে! অপরদিকে ভোগ-সর্বস্ব সেই পুরুষসমাজ কেন চাইবে ‘কিছু সৌন্দর্য’ হিজাব-বোরকায় ঢেকে তাদের লোভাতুর চোখের অদেখায় থাকবে? কেন তাদের কামতাড়িত মনের ক্ষুৎপিয়াস মেটাতে বাধ সাধবে?

দুই.
তাজ্জুব হলো, কথায় কথায় ‘ফ্রিডম অব চয়েস’ এর ব্যক্তিগত স্বাধীন-নীতির কথা বলে তারা। অথচ, বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে যে, সে স্বাধীনতা প্রযোজ্য হবে নারীদের স্রেফ ‘নগ্ন হওয়া’র ক্ষেত্রে, হিজাব-বোরকা পরার ক্ষেত্রে নয়। প্রগতিশীল আধুনিকতার দাবিদারদের এমন স্ববিরোধী, স্বার্থবাদী নীতি-নিয়মের প্রতি প্রশ্ন তুলে প্রেসিডেন্ট ইমরান খান সেদিন জাতিসংঘে দাঁড়িয়ে সর্বসমক্ষে বলেছিলেন, “পশ্চিমে নারীদের শর্ট পোশাক পরিধানে যদি আপত্তি না থাকে, তবে কেন আপত্তি থাকবে হিজাব ও পর্দার উপর?”

সত্যি বলতে, অবাক না হয়ে পারা যায় না যখন দেখা যায় নারীদেরকে নগ্ন ও উলঙ্গ করতে এরা কাড়ি কাড়ি পয়সা ঢালছে আর পর্দা ও হিজাব পরিধান করলে উল্টো করা হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে বিচিত্র আইন ও জোর-জরিমানা!!

এসব বাস্তবতা থেকে এই সারবস্তুটাই উঠে আসে যে, ‘শিক্ষায় পশ্চাৎপদতা’, ‘নারীপ্রগতির পথে বাধা’, ‘ধর্মনিরপেক্ষতার সাথে সাংঘর্ষিকতা’ ইত্যাকার তত্ত্বকথা নিছক মনভোলানো লেবেলমাত্র, আদতে নারীদের মাধ্যমে অশ্লীল যৌন-কামনা পূরণ এবং সবিশেষ ইসলামের বিরোধিতা এবং মুসলমানদের প্রতি বিদ্বেষপোষণের চিরায়ত পশ্চিমা ঐতিহ্যের মধ্যেই রয়েছে এসবের নেপথ্যের আসল বাস্তবতা!

তিন.
পর্দা-হিজাব যেমন করে নারীদের পক্ষে আত্মরক্ষার কাজ করে, তেমনিভাবে তা পুরুষদের জন্যও ধর্মীয়ভাবে তাদের ফেতনা ও পদস্খলন থেকে মুক্তির রক্ষাকবচ বনে! একজন নারী যখন বেপর্দা হয়ে বের হয়। বেপরোয়া হয়ে চলাফেরা করে। ইঙ্গিতপূর্ণ অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করে হাটে। নানাভাবে নিজের সৌন্দর্যের পসরা সাজায়। তখন একজন পুরুষ নিমজ্জিত হয় অগণিত পাপাচারে। তার চোখ তখন ব্যাভিচার করে—দর্শনের মাধ্যমে। তার মুখ তখন ব্যাভিচার করে —কথা বলার মাধ্যমে। তার কান ব্যাভিচার করে, কথা শোনার মাধ্যমে। তার হাত ব্যাভিচার করে, স্পর্শ করার মাধ্যমে। তার পা ব্যাভিচার করে, পদক্ষেপের মাধ্যমে।

সন্দেহ নেই, নারীদের এমন উলঙ্গ ও অসংযত উতপাৎ, চলাফেরা আর সৌন্দর্যপ্রদর্শনই ধর্ষণ, ইভটিজিং, ব্যাভিচারের মতো মারাত্মক ঘটনা ঘটে চলছে। যা আমরা অহরহ দেখতে পাচ্ছি।

বস্তুত, প্রদর্শন এবং দর্শন— এ দুই সুত্র থেকেই এসমস্ত অপরাধের জন্ম নেয়। হাদিসে এসেছে— ‘চোখ, শয়তানের তীরসুমূহ থেকে অন্যতম একটি তীর।’ আর তাই পবিত্র কুরআন মুমিন নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য দৃষ্টি সম্পর্কে নিয়ন্ত্রণ-বিধি আরোপ করেছে। বলেছে, হে বিশ্বাসী পুরুষদল! তোমরা নিজেদের দৃষ্টিকে নিম্নমুখী করে রাখো এবং সংযত রাখো নিজেদের যৌনাঙ্গ। এটা তোমাদের পবিত্রতার পক্ষে সর্বাধিক সহায়ক।’ এভাবে নারীদের নির্দেশ দিয়েছে— হে বিশ্বাসী নারীদল! তোমরা তোমাদের দৃষ্টিকে নিম্নমুখী করে রাখো এবং হেফাজত করো নিজেদের লজ্জাস্থান। এটা তোমাদের পবিত্রতার পক্ষে সর্বাধিক কার্যকর।’ (সুরা নূর)

পর্দার গুরুত্ব ও প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরে কুরআন স্পষ্টভাষায় ঘোষণা করেছে—‘হে নবী! আপনি আপনার পত্নীগণকে ও কন্যাগণকে এবং মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরকে নিজেদের উপর টেনে নেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে। ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না।’ (সুরা আহযাব)

বস্তুত, পর্দা-হিজাবের মাহাত্ম্য, আভিজাত্য এবং বাস্তব জীবনে এর অনুসরণের গুরুত্ব বুঝা ও বুঝানোর জন্য কুরআনের এই একটি আয়াতই আমাদের মুসলিম নারীদের জন্য যথেষ্ট। যেখানে আল্লাহ সরাসরি পূণ্যাত্মা উম্মাহাতুল মুমিনীন এবং নবী-নন্দিনীদের পর্দা ও হিজাব পরিধানের নির্দেশ দিচ্ছেন এবং তারা তা রীতিমতো পালন করে একটি অপরাধহীন পুণ্যময় জীবনযাপন করে গেছেন। অতএব, সাধারণ মুসলিম নারীদের জন্য, সবিশেষ আজকের এই নাযুক ও নষ্ট সময়ের বাস্তবতায় সেই পর্দা ও হিজাবের বিধান পালনে কতটা গুরুত্ব দেওয়া দরকার—সেটা সহজেই অনুমেয় ।

চার.
শরীয়তসম্মত হিজাব বা পর্দার মর্মার্থ ও উদ্দেশ্যগত তাৎপর্য হলো, নারীদের সারা শরীর আপাদমস্তক এমনভাবে আবৃত করে রাখা যেন, শরীরের কোন সৌন্দর্যই প্রকাশ না পায়। উপরন্তু সেই আবরণী পোশাককে হতে হবে নেহায়েত সাদাসিধে, যেন তাতে আলাদা আকর্ষণ না থাকে। এভাবে সে পোশাককে হতে হবে নিতান্তই ঢিলেঢালা, যেন শরীরের অন্তর্গত কোন অবয়ব সহজে দৃষ্টিগ্রাহ্য না হয়।

যে নারীরা পর্দার উপরোক্ত শর্ত ও উদ্দেশ্য রক্ষা করে পর্দা পালন করে চলেন, আমরা সন্দেহাতীত ভাবে বলতে পারি যে, তারা সাধারণত কোনপ্রকার হয়রানি, ইভটিজিং কিংবা ধর্ষণের মতো মারাত্মক রকম দূর্ঘনার শিকার হয় না, হতে পারে না। পক্ষান্তরে যারা পর্দার নামে ফ্যাশন এখতিয়ার করে চলে। আধুনিক স্টাইলের তথাকথিত বোরকা-হিজাব পরিধান করে, যে, শরীরের আভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য আবৃত হওয়ার বদলে উল্টো আরও ভালোভাবে প্রকাশ্য হয়ে উঠে। পরন্তু চালচক্করে ফুটে উঠে একধরনের আবেদনময়ীভাব, সেই নারীরাই মুলত ইভটিজিং বা ধর্ষণের শিকার হয়। হয়ে থাকে।

এখন তথাকথিত এসব ‘হিজাবী নারীদের’কে উদাহরণ হিসেবে টেনে এনে যদি বলা হয় যে, বোরকা পরে, পর্দা-হিজাব করেও তো অনেক নারী ধর্ষনের শিকার হচ্ছে, নানারকম যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে, তাহলে পর্দা করে হিজাব পরে লাভ কী?
তবে এক্ষেত্রে আমরা প্রথমত বলব, ঠিক আর দশটা সমস্যার মতোই এ সমস্যার দায় বর্তাবে বর্তমান সমাজ বাস্তবতার উপর। সবরকম অন্যায় অপরাধ যে সমাজের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে, যখন সমাজ নৈতিক, মানবিক মুল্যবোধের অবক্ষয়ে এতটাই পচে গেছে যে, এ থেকে স্বভাবতই ভালো কিছু আশা করা একরকম অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে, তখন এমন অপ্রত্যাশিত দূর্ঘটনা ঘটা আদৌ বিচিত্র কিছু নয়। সর্বগ্রাসী সেই অবক্ষয়ের অনিবার্য ফল হিসেবেই সমাজে নির্বিচারে এমন ঘটনা ঘটছে এবং নিয়মিত ঘটে চলছে। এ বাস্তবতাটুকু বুঝতে আমরা ‘শিশুধর্ষণের’ ব্যাপারটা বিবেচনায় নিতে পারি। কাজেই সমস্যা প্রধাণত বিধানের নয়, সমস্যা বর্তমান সমাজের এবং প্রচলিত সমাজব্যবস্থার! প্রশ্ন মুলত পর্দা-হিজাবের নয়, প্রশ্ন সর্বগ্রাসী নৈতিক সংকটের!

দ্বিতীয়ত, বলব, ইসলামের নির্দেশিত পর্দার সাথে বর্তমান সময়ের তথাকথিত পর্দা-হিজাবের কোনো সাজুয্য ও সাদৃশ্য নেই। এমন পর্দাকে কোনভাবেই শরীয়ত নির্ধারিত পর্দা-হিজাবের সংজ্ঞা-সীমায় ধারণ করা যায় না। কি ভাবেই বা যাবে, যে পর্দায় আত্মআবরণের চেয়ে আত্মপ্রদর্শনটাই বেশি করে হয়। যে বোরকা-হিজাব পরপুরুষকে আরও চমৎকারভাবে আকর্ষণ করে নিজেদের দিকে। তাছাড়া সেসব পরিহিত পর্দা-পোশাক এতটাই আঁটসাঁট হয় যে, শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আর উঁচুনিচু অবয়ব দর্শকের সামনে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়ে উঠে অনায়াসেই। উপরন্তু পারফিউম-প্রসাধনী গায়ে মেখে আবেদনময়ী অঙ্গভঙ্গি করে চলাফেরা তো আছেই!

কাজেই এদের ক্ষেত্রে ঘটে যাওয়া দূর্ঘটনার দায় যেমন ইসলাম নিবে না, তেমনিভাবে এ ধরনের পর্দা-হিজাব দিয়ে ইসলামের প্রকৃত পর্দাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করা যায় না, বরং এ ক্ষেত্রে সম্পুর্ন দায়-দোষ তার, যে পর্দার নাম করে এমন পোশাক পরিধান করেছে এবং শরীয়ত পরিপন্থী ধারায় ও ধরনে নিজেকে নিজের মতো করে প্রদর্শিত ও পরিচালিত করেছে।

-কেএল

সর্বশেষ সব সংবাদ