fbpx
           
       
           
       
সকাল-সন্ধ্যার ফযিলত পূর্ণ আমল
জানুয়ারি ২২, ২০২১ ৩:৪২ অপরাহ্ণ

উসমান বিন আ.আলিম।।

উভয় জাহানের প্রশান্তি পেতে কে না চায়(?) কে না চায় দুনিয়ার সব ধরনের বিপদাপদ থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে ! জান্নাত পাওয়ার সহজ উপায় লাভ করতে! অল্প আমলে অনেক পুরষ্কার পেতে! মুসলিম মাত্রই আমাদের এতটুকু চাওয়া-পাওয়া।আজ আমি আপনাদের সামনে এরকমই সকাল-সন্ধ্যার ছোট-ছোট বিশেষ ফজিলতপূর্ণ কিছু ‘আমল’ হদীসের আলোকে বর্ণনা করবো,ইনশাআল্লাহ। যেসব ‘আমল’ আমাদের জন্য অত্যন্ত উপকারের ও ফযিলত পূর্ণ।

১.সকল ধরণের (”আসমানী এবং ‘যমিনী’)বিপদাপদ থেকে হেফাজত থাকার দোয়া। উসমান বিন আফফান রা. থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন। যেই ব্যক্তি প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা তিনবার করে এই দোয়াটি পাঠ করবে, তাকে কোনো জিনিসের ক্ষতি পৌঁছাতে পারবেনা।দোয়াটি হলো: উচ্চারণ: বিস্‌মিল্লা-হিল্লাযী লা ইয়াদ্বুররু মা‘আ ইস্‌মিহী শাইউন ফিল্ আরদ্বি ওয়ালা ফিসসামা-ই, ওহুয়াস্ সামী‘উল-আলীম

অর্থ: ‘আল্লাহ্‌র নামে; যাঁর নামের সাথে আসমান ও যমীনে কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না। আর তিনি সর্বশ্রোতা, মহাজ্ঞানী’।(তিরমিজি, হাদিস-৩৪১০)

অর্থাৎ সেই বান্দা সব ধরণের বালা-মুসিবত থেকে হেফাজত থাকবেন’।তাকে কোনো জিনিসে ক্ষতি করতে পারবেনা। ২.কেয়ামতের ময়দানে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্ট লাভের দোয়া।

হজরত ছাওবান রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:’যে ব্যক্তি দৈনিক সকাল-সন্ধ্যা তিনবার এই দোয়া টি পড়বে, তাহলে আল্লাহ তায়ালা নিজের ওপর আবশ্যকীয় করে নেন কেয়ামতের দিন সেই বান্দাকে খুশি করানোর।দোয়ার উচ্চারণ : ‘রাযীতু বিল্লাহি রব্বাওঁ ওয়াবিল ইসলামী দ্বী-নাওঁ ওয়াবি মুহাম্মাদিন নাবিয়্যা’।

অর্থ: আমি আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নবী হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট।(সুনানে তিরমিজি,হাদিস- ৩০১১)

অর্থাৎ, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা তাকে অগণিত সাওয়াব দিয়ে সন্তুষ্ট করে দিবেন।এবং সে তখন এই সাওয়াবের পাল্লা ভারি হওয়ার কারণে জান্নাতে প্রবেশ করবে। ৩.আল্লাহর (রাত-দিনের) শুকরিয়া আদায় করার দোয়া।

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে গনাম রা. থেকে বর্ণিত আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে সকালে বলে,
উচ্চারণ :- আল্লাহুম্মা মা আসবাহা বী মিন নি’মাতিন আও বি-আহাদিন মিন খলকিকা ফা-মিনকা ওহদাকা লা-শারীকা’লাক,লাকা’লহামদু ওলাকা-শশুকরু’।

অর্থ: ‘ইয়া আল্লাহ! এই সকালে আমার মাঝে বা আপনার যে কোনো সৃষ্টির মাঝে যা কিছু নেয়ামত, সব আপনারই তরফ থেকে। আপনি একক, আপনার কোনো শরীক নেই। সুতরাং,আপনারই হামদ, আপনারই শোকর’

সে ব্যক্তি এ দিনের শোকর আদায় করল। আর যে সন্ধ্যায় (নিম্নোক্ত দোয়া) পড়লো সে ঐ রাতের শোকর আদায় করল।
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা মা আমসী বী মিন নি’মাতিন আও বি-আহাদিন মিন খালকিকা ফা-মিনকা ওহদাকা লা-শারীকা’লাক,লাকা’লহামদু ওলাকা-শশুকরু’।

অর্থ: ইয়া আল্লাহ! এই সন্ধ্যায় আমার মাঝে বা আপনার যে কোনো সৃষ্টির মাঝে যা কিছু নেয়ামত, সব আপনারই তরফ থেকে। আপনি একক, আপনার কোনো শরীক নেই। সুতরাং আপনারই হামদ, আপনারই শোকর।(সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৫০৭৩)(সুনানে তিরমিজি, হাদিস -৩৪১৩)

অর্থাৎ, সকালে দোয়া পড়ার সময় শুরুতে ‘মা আসবাহা বী’ আর সন্ধ্যায় দোয়া পড়ার সময় শুরুতে ‘মা আমসী বী’ বলতে হবে বাকী দুআ অভিন্ন।

৪.জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তির দোয়া।
হজরত মুসলিম ইবনে হারেস তামিমি (রা.) বলেন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে কানে কানে বললেন, যখন মাগরিবের নামাজের সালাম ফেরাবে, তখন কারো সঙ্গে কথা বলার আগে এই দোয়াটি সাত বার পড়বে।
উচ্চারণ :’আল্লাহুম্মা আজিরনী মিনান্ নার’।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করুন।

যদি তুমি পড় আর ওই রাতেই তুমি মারা যাও তাহলে তোমার জাহান্নাম থেকে মুক্তির ফায়সালা লিখে দেয়া হবে।ফজরের নামাজের পরও এ(উপরোক্ত) দোয়াটি একই নিয়মে সাতবার পড়বে।

যদি তুমি পড়ে থাক আর ওই দিনেই তুমি মারা যাও তাহলে তোমার জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তির ফায়সালা লিখে দেয়া হবে। (আবু দাউদ-৫০৮১। নাসায়ি সুনানে কুবরা-৯৯৩৯, সহি ইবনে হিব্বান-২০২২)

অর্থাৎ, যদি কেউ মাগরিবের নামাজ শেষ করে সাতবার এই দোয়াটি পাঠ করে এবং ঐ রাতেই তার মৃত্যু হয় তবে সে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে। এমনিভাবে যদি ফজরের পর পাঠ করে এবং ঐ দিন তার মৃত্যু হয় তাহলে সে জাহান্নামে থেকে মুক্তি পাবে।
৫.দুনিয়া ও আখেরাতে প্রশান্তি লাভের দোয়া।

হজরত ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সন্ধ্যায় ও সকালে উপনীত হয়ে নিম্নোক্ত দোয়া পড়তেন-

উচ্চারণ :আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকাল ‘আফওয়া ওয়াল- ‘আ-ফিয়াতা ফিদ্দুনইয়া ওয়াল আ-খিরাতি। আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকাল ‘আফওয়া ওয়াল-‘আ-ফিয়াতা ফী দ্বীনী ওফী দুনইয়াইয়া, ওয়া আহ্‌লী ওয়া মা-লী, আল্লা-হুম্মাসতুর ‘আওরা-তী ওয়া আ-মিন রাও‘আ-তি। আল্লা-হুম্মাহফাযনী মিম্বাইনি ইয়াদাইয়্যা ওয়া মিন খালফী ওয়া ‘আন ইয়ামীনী ওয়া শিমা-লী ওয়া মিন ফাওকী। ওয়া আ‘ঊযু বি‘আযামাতিকা আন উগতা-লা মিন তাহ্‌তী’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট দুনিয়া ও আখেরাতের ক্ষমা ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট ক্ষমা এবং নিরাপত্তা চাচ্ছি আমার দ্বীন, দুনিয়া, পরিবার ও অর্থ-সম্পদের। হে আল্লাহ! আপনি আমার গোপন ত্রুটিসমূহ ঢেকে রাখুন, আমার উদ্বিগ্নতাকে রূপান্তরিত করুন নিরাপত্তায়। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে হেফাযত করুন আমার সামনের দিক থেকে, আমার পিছনের দিক থেকে, আমার ডান দিক থেকে, আমার বাম দিক থেকে এবং আমার উপরের দিক থেকে। আর আপনার মহত্ত্বের অসিলায় আশ্রয় চাই আমার নীচ থেকে হঠাৎ আক্রান্ত হওয়া থেকে’।(আবূ দাউদ,হাদিস- ৫০৭৪; ইবন মাজাহ্‌, হাদিস- ৩৮৭১)

৬.দুশ্চিন্তা ও ঋণ থেকে মুক্তি লাভের দোয়া।
হজরত আবূ সায়ীদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : ‘যে ব্যক্তি উক্ত দোয়াটি সকাল-সন্ধ্যা পাঠ করবে,আল্লাহ তায়ালা তার সমস্ত ঋণ ও দুশ্চিন্তা দূর করে দিবেন।দোয়াটি হলো-

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিনাল হাম্মী, ওয়াল হুযনি, ওয়া-আউযুবিকা মিনাল আজযি, ওয়াল কাছালি, ওয়া-আউযুবিকা মিনাল বুখলি, ওয়াল জুবনি, ওয়া-আউযুবিকা মিন গালাবাতিদ দাইনি, ওয়া-ক্বাহরির রিজাল’।

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার আশ্রয় নিচ্ছি দুশ্চিন্তা ও পেরেশানি থেকে, আরও আশ্রয় নিচ্ছি অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, আরও আশ্রয় নিচ্ছি কৃপণতা ও কাপুরুষতা থেকে আরো আশ্রয় নিচ্ছি ঋণের প্রবলতা ও মানুষের চাপপ্রয়োগ থেকে’। (সুনানে আবূ দাউদ, হাদিস-১৫৫৫)
৭.সকল অনিষ্ট থেকে হেফাজত থাকার দোয়া।(তিন কুল)

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে খুবাইব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা এক বর্ষণমুখর অন্ধকার রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে খুঁজতে বের হলাম,যেন তিনি আমাদের নিয়ে নামায পড়েন। তাঁর সাথে যখন সাক্ষাৎ হল তিনি বললেন, ‘কুল’ অর্থাৎ, বল। আমি নিশ্চুপ রইলাম। তিনি আবার বললেন,’কুল’ অর্থাৎ, বল। আমি নিশ্চুপ রইলাম। তিনি আবার বললেন, ‘কুল’অর্থাৎ বল। আমি আরজ করলাম, আল্লাহর রাসূল! কী বলব? তিনি বললেন;‘কুল হুয়াল্লাহু আহাদ’ ও ‘মুয়াওয়াযাতাইন’(অর্থাৎ, সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক,সূরা নাস)সন্ধ্যায় ও সকালে তিনবার।এ (সূরাগুলো) পড়বে,সব কিছু থেকে তোমার হেফাজতের জন্য যথেষ্ট হবে।(সুনানে আবু দাউদ, হাদীস-৫০৮২; জামে তিরমিযী, হাদীস -৩৫৭৫)

৮.বিষধর প্রাণীর ক্ষতি থেকে নিরাপত্তার দোয়া।

হজরত আবূ-হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন,রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :যে ব্যক্তি বিকাল বেলা এই দোয়াটি ৩ বার পড়বে, সে রাতে কোন বিষধর প্রানী তার ক্ষতি করতে পারবে না।
উচ্চারণ : ‘আ‘ঊযু বি কালিমা-তিল্লা-হিত তা-ম্মা-তি মিন শাররি মা খালাক্ব’

অর্থ :আল্লাহ্‌র পরিপূর্ণ কালেমাসমূহের ওসিলায় আমি তাঁর নিকট তাঁর সৃষ্টির ক্ষতি থেকে আশ্রয় চাই’।(সুনানে তিরমিজি, হাদিস-৩৬৬৫।মুসনাদে আহমাদ-২/২৯০, হাদিস-৭৮৯৮।নাসাঈ, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ, হাদিস-৫৯০)
৯.দশটি দাস মুক্তির সাওয়াব এবং শয়তান থেকে নিরাপদ থাকার দোয়া।

হজরত আবূ আয়্যাশ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছে: যে ব্যক্তি সকালে উপনীত হয়ে এই দোয়া(নিম্নোক্ত) পড়ে এটা তার জন্য ইসমাঈল (আঃ) বংশীয় একটি গোলাম ‘আযাদ’ করার সমান হবে, তার জন্য দশটি পুণ্য হবে ও দশটি পাপ মোচন করা হবে এবং তার দশটি মর্যাদা বুলন্দ করা হবে এবং শয়তান থেকে নিরাপদ থাকবে যতক্ষণ না সন্ধ্যা হয়। আর যদি সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে তা বলে, তাহলে ভোর পর্যন্ত অনুরূপ ফজিলত পাবে। বর্ণনাকারী হাম্মাদ (রহঃ)-এর বর্ণনায় রয়েছেঃ এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে স্বপ্নে দেখে প্রশ্ন করলো, হে আল্লাহর রাসূল! আবূ আয়্যাশ (রাঃ) আপনার নামে এই এই বলেছে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আবূ আয়্যাশ সত্যিই বলেছে।দোয়াটি হলো-
উচ্চারণ : লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু, ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া ‘আলা কুল্লি শাই’ইন ক্বাদীর)।
অর্থ :একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই, সমস্ত প্রশংসাও তাঁর, আর তিনি সকল কিছুর উপর ক্ষমতাবান’।(আবূ দাউদ, হাদিস-৫০৭৭।বুখারী,হাদিস- ৩২৯৩। ইবন মাজাহ, হাদিস- ৩৭৯৮। আহমাদ হাদিস- ৮৭১৯।মুসলিম, হাদিস-২৬৯১।)

১০.জান্নাত পাওয়ার দোয়া (সাইয়্যিদুল ইসতিগফার)। হজরত শাদ্দাদ বিন আওস রাদি. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে দিনের শুরুতে সাইয়্যিদুল ইস্তেসফার পাঠ করবে, সে ঐ দিনে ইন্তিকাল করলে জান্নাতী হবে, আর যদি সন্ধ্যায় পাঠ করে এবং এ রাতেই তার ইন্তিকাল হয়, তাহলে সে জান্নাতী হবে।দোয়াটি হলো- উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা আন্তা রাব্বী লা-ইলাহা ইল্লা আন্তা খালাক্বতানী ওয়া আনা আব্দুকা ওয়া আনা আলা- আহ্দিকা ওয়া ওয়া’দিকা মাস্তাতা’তু আঊ-যুবিকা মিন শাররী মা সানা’তু আবূউ লাকা বিনি’মাতিকা আলাইয়্যা ওয়া আবূউ বিযান্বি ফাগ্ফিরলী ফাইন্নাহু লা ইয়াগ্ফিরুয্ যুনূবা ইল্লা আন্তা’।
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি আমার প্রতিপালক।

আপনি ব্যতীত আর কোন উপাস্য নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। আর আমি আপনার গোলাম। আমি আপনার ওয়াদা-প্রতিশ্রুতির ওপর আছি যথাসম্ভব। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। আমি আমার উপর আপনার অনুগ্রহ স্বীকার করছি। আবার আমার গুনাহের কথাও স্বীকার করছি। অতএব, আমাকে ক্ষমা করে দিন। কারণ, আপনি ব্যতীত আর কেউ গুনাহসমূহ ক্ষমা করতে পারবে না।(সহিহ বুখারী : ৬৩০৬)

১১.আয়াতুল কুরসী।
যে ব্যক্তি এই আয়াতুল কুরসী প্রতিদিন সকালে পড়বে সে বিকাল হওয়া পর্যন্ত জিন্ন শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয়ে থাকবে, আর যে ব্যক্তি বিকালে তা পড়বে সে সকাল হওয়া পর্যন্ত জিন শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয়ে থাকবে

উচ্চারণ: আল্লা-হু লা ইলা-হা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যূল কাইয়্যূমু লা তা’খুযুহু সিনাতুঁও ওয়ালা নাউম। লাহূ মা-ফিসসামা-ওয়া-তি ওয়ামা ফিল আরদ্বি। মান যাল্লাযী ইয়াশফা‘উ ‘ইনদাহূ ইল্লা বিইযনিহী। ইয়া‘লামু মা বাইনা আইদীহিম ওয়ামা খালফাহুম। ওয়ালা ইয়ুহীতূনা বিশাইইম মিন্ ইলমিহী ইল্লা বিমা শাআ। ওয়াসি‘আ কুরসিয়্যুহুস সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদ্ব। ওয়ালা ইয়াউদুহূ হিফযুহুমা ওয়া হুয়াল ‘আলিয়্যূল ‘আযীম’।

অর্থ: আল্লাহ্, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ্ নেই। তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না, নিদ্রাও নয়। আসমানসমূহে যা রয়েছে ও যমীনে যা রয়েছে সবই তার। কে সে, যে তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর কাছে সুপারিশ করবে? তাদের সামনে ও পিছনে যা কিছু আছে তা তিনি জানেন।

আর যা তিনি ইচ্ছে করেন তা ছাড়া তাঁর জ্ঞানের কোনো কিছুকেই তারা পরিবেষ্টন করতে পারে না। তাঁর ‘কুরসী’ আসমানসমূহ ও যমীনকে পরিব্যাপ্ত করে আছে; আর এ দুটোর রক্ষণাবেক্ষণ তাঁর জন্য বোঝা হয় না। আর তিনি সুউচ্চ সুমহান।
আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে,সকাল-বিকাল উপরোল্লিখিত হাদিস সমূহের বিশেষ ফজিলত পূর্ণ দোয়া গুলো আমল করার তৌফিক দান করুক, আমিন।

লেখক: গবেষক, মোহাদ্দেস, দারুলউলুম মোহাম্মদ পুর কওমি মাদ্রাসা। রেলবাজার,চাটমোহর,পাবনা।

-এটি