fbpx
           
       
           
       
শিরোনাম :
আনুশকার মৃত্যু ও দায়ভার: কয়েকজন তরুণের ভাবনা
জানুয়ারি ১০, ২০২১ ৪:৩০ অপরাহ্ণ

মাস্টারমাইন্ড স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী আনুশকা নূর আমিন ওরফে শাহনূরীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের প্রেমিক ইফতেখার ফারদিন দিহানকে আটক করেছে পুলিশ। শিক্ষার্থী ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি দিহানের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন মেয়েদের সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঢাকা মেডিকেলের ফেরনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ জানান, বিকৃত যৌনাচারের কারণেই এ মর্মান্তিক ঘঠনা ঘটেছে। আনুশকার মৃত্যু ও আমাদের দায়ভার। এ বিষয়ে আওয়ার ইসলামের সঙ্গে ভাবনা বিনিময় করেছেন খাগড়াছড়ির কয়েকজন চিন্তাশীল তরুণ, লেখক ও গবেষক।

তরুন উদ্যোক্তা, খাগড়াছড়ি কওমী মাদ্রাসা ও ওলামা ঐক্য পরিষদ রামগড় উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক, হাফেজ আবদুল মালেক বলেন, আলোচিত ঢাকার কলাবাগানে ঘটে যাওয়া নির্মম হৃদয়বিদারক যে ঘটনায় প্রত্যেকটা মানুষের হৃদয়কে নাড়া দিয়েছে তা একমাত্র পশ্চিমা কালচার কে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং জাগতিক শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষাকে অবজ্ঞা ও গুরুত্ব না দেওয়ার বহিঃপ্রকাশ নয় কি ? বর্তমান আধুনিক বিশ্বে প্রত্যেকটা মুসলমানের সন্তান কে দুনিয়াবী শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক অপরিহার্য করলে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা কখনো ঘটবেনা।

আমরা সহশিক্ষার বিরোধিতা করছিনা আমরা পর্দা না করার বিরোধিতা করতেছি আজ পর্দা না করার ফলে একটা পরিবার থেকে নিয়ে সমাজ দেশ জাতি সকলে স্তম্বিত।

যুব নেতা, ইসলামী যুব আন্দোলন খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সভাপতি, মাওলানা মহিউদ্দিন বিন সুরুজ বলেন, সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ন্যাক্কারজনক দূর্ঘটনার পিছনে ভিকটিমের কথিত প্রেমিক যেভাবে দায়ী ঠিক তেমনি ভাবে দায়ী তার পরিবার ও রাস্ট্র ব্যবস্থা। আমি মনে করি আনুশকার সাথে দিহানের সম্পর্ক দীর্ঘ দিনের। এবং এবিষয়ে তার পরিবার অবশ্যই জ্ঞাত ছিলেন। সহ শিক্ষা ও প্রি-মাইন্ডের দোহায় দিয়ে প্রাপ্ত বয়স্ক হবার পরেও তারা একসাথে গ্রুপ স্টাডি করতো। যা ইসলাম প্রাপ্ত বয়স্ক হবার পর সম্পূর্ণ হারাম করেছেন। কিন্তু এ ব্যপারে তাঁর মা বাবার কোন সতর্কতা ও সজাগ দৃষ্টি ছিলনা।

এখানে মা বাবা ও পারিবারিক উদাসীনতা ও দ্বায়িত্বহীনতা এজন্য দায়ী যে, মা বাবার কর্তব্য হলো তার সন্তানের ভালো মন্দের খোজ খবর রাখা। সতর্ক থাকা, সোচ্চার থাকা। আদরের সন্তান কি করে? কোথায় যায়? কার সাথে মিশে? এসব বিষয়ে সম্পূর্ণ নযর রাখা। এসব দায়ীত্ব ও কর্তব্যের ক্ষেত্রে আজ আমাদের চরম পর্যায়ের উদাসীনতায়-ই এহেন ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্ম দিচ্ছে যা অতীব দুঃখের সাথে সাথে মা বাবা ও একটি পরিবারের জন্য লজ্জাজনক।

বিকৃত যৌনাচারের জন্য দায়ী পর্ণ সাইটগুলো যদ্দরুন পর্নগ্রাফী সহজলভ্য হয়ে গেছে। উঠতি বয়সের তরুণ তরুণীরা পর্নোগ্রাফি আসক্ত হয়ে, যেনা ব্যভিচার ও ধর্ষণের মতো জঘন্য ও বিকৃত যৌনাচারে লিপ্ত হয়। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অশ্লীল সিনেমা, ওয়েব সিরিজের নামে পর্নোগ্রাফি ও পর্ণ সাইটগুলো বন্ধে রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারলে এসব অপরাধ শূণ্যের কোঠায় নেমে আসবে বলে আমি মনে করি।

বিশিষ্ট ছাত্র নেতা, খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রদল এর সহ-সভাপতি, মুহাম্মদ ইলিয়াস বলেন, ঘটনাটি হ্নদয়বিদারক,এই ঘটনায় প্রচিলিত শিক্ষা ব্যববস্থার প্রতি আস্থাহীনতা দেখা দিবে।মানুষ যদি তার সহপাঠী বন্ধু বান্ধবের কাছে নিরাপদ না থাকে তাহলে বুঝতে হবে আমাদের সামাজিক অবক্ষয় কত আতংকের হয়ে দাঁড়িয়েছে।ধর্ষণ সহ সকল সামাজিক অবক্ষয় রোধে ধর্মীয় অনুশাসন ও ধর্মীয় শিক্ষা জরুরি। প্রতিটি শিশুর অন্তত প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তিটা ধর্মীয় শিক্ষার মাধ্যমে হলে, পারিবারিক নিয়ন্ত্রণ ও সচেতনতার মাধ্যমে এমন অবক্ষয় রোধ হবে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

সহশিক্ষার বিষয়ে খাগড়াছড়ি জেলার রামগড়ের প্রসিদ্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বলিপাড়া ইসলামিয়া কাসেমুল উলুম মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক মুফতি ইউনুছ আমিনী বলেন, ছাত্রসমাজ দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ কর্ণধার, যার জন্য সৎ ও চরিত্রবান হওয়া বাধ্যতামূলক আদর্শ ও চরিত্রবান করে গড়ে তোলার একমাত্র স্থান হচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দুঃখজনক হলেও সত্য আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা লাভ করে দেশ বিদেশে কর্মরত অনেক শিক্ষার্থীকে দেখা যায় অসৎ চরিত্রের অধিকারী, প্রশ্ন হল উচ্চশিক্ষা লাভ করে ও চরিত্রহীন হলো কেন? ধর্ষণ মামলার এক নম্বর আসামি তালাশ করলেও দেখা যাবে সে একজন উচ্চ শিক্ষিত লোক উচ্চ শিক্ষিত হয়েও সে দর্শক হবে কেন? দেখা যায় চরিত্রহীনতার জন্য যে বা যারাই দায়ী এরা সবাই শিক্ষিত, যে প্রতিষ্ঠান থেকে চরিত্রবান লোক বের হওয়ার কথা সে প্রতিষ্ঠান থেকে বের হচ্ছে চরিত্রহীন লোক তাই বলে কি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আমরা দায়ী করব? না এর জন্য কখনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দায়ী হতে পারে না, দায়ী করা হবে শিক্ষা ব্যবস্থা কে।

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় চালু আছে সহশিক্ষা, যে সহশিক্ষা নামক মরণব্যাধি আমাদেরকে চরম ভাবে কলুষিত করছে, সহশিক্ষায় শিক্ষার্থীদের অল্প বয়সে চরিত্রহীন করছে সহশিক্ষায় রয়েছে ছাত্র-ছাত্রীদের অবাধ চলাফেরার ব্যবস্থা, আরো রয়েছে গ্রুপ স্টাডি নামে নগ্ন চলাফেরার সুবর্ণ সুযোগ যদি প্রশ্ন করা হয় কলেজ ভার্সিটির ছাত্রীরা কেন ধর্ষণ ও ইভটিজিংয়ের শিকার হয়? তার উত্তরে আমি বলব এর কারণ হলো সহশিক্ষা। নারীদের উচ্চশিক্ষা লাভ করতে ইসলামের কোনো বাধা নেই যে শিক্ষাব্যবস্থায় ইসলামের বিধান পর্দা লঙ্ঘন হয় সে শিক্ষাব্যবস্থাকে ইসলাম কখনোই সমর্থন করেনা, নারী পুরুষ আলাদা অবস্থানে থেকে পর্দা রক্ষা করে শিক্ষা অর্জন করবে এটা ইসলামের চিরন্তন বিধান ।

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে এমন অন্ধকার থেকে আলোর পথে এসে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সুন্দর সমাজ গঠন করার তাওফিক দান করুন ।

জনপ্রিয় গ্রাফিক্স ডিজাইনার ও আওয়ার ইসলামের বার্তা বাহক, মুহা: আবদুল হান্নান মানছুর বলেন, এমন হাজারো অনুশাকা আজ প্রাইভেট, কোচিং, ও বন্ধুদের সাথে আড্ডার নামে এমন কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়ে নিজেকে ও সমাজকে ধংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, মানবতা ও সামাজিক মুল্যবোধ ও মানুষের চরিত্রি চরম ভাবে ধংস হয়ে যাচ্ছে, তিনি বলেন সকল মা/বাবা তাদের সন্তান কোথায় যাচ্ছে কি করছে কার সাথে ওঠাবসা করছে এসব বিষয়ে নজরদারি করলে ও সন্তানদের কে ধর্মীয় বিষয়ে পড়াশোনা করালে এসব অপরাধ কমে আসবে বলেন এসময় তিনি আরো বলেন কোন নারী ২০ বছর বয়সের আগে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলে আমাদের সমাজ, কথিত বুদ্ধিজীবি ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা তা গ্রহণ করেনা, বাল্য বিবাহ বলে পবিত্র একটি সম্পর্ককে তারা অ-শিকার করে অথচ ২০ বছর বয়সের পূর্বে ছেলে মেয়েদের অবাদ মেলামেশা ও ধর্ষণে রাষ্ট্র ও কথিত বুদ্ধিজিবীদের কোন মাথা ব্যথা নেই।

-ওআই/আবদুল্লাহ তামিম

সর্বশেষ সব সংবাদ