198289

কে হলেন হাটহাজারী মাদরাসার মুহতামিম!

আওয়ার ইসলাম: চট্টগ্রামের দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক বা মুহতামিম হিসেবে শুরা কমিটির মাধ্যমে তিনজনকে নির্বাচন করা হয়েছে।

আজ ১৯ সেপ্টেম্বর (শনিবার) আল্লামা আহমদ শফী রহ. এর জানাজার পর মাদরাসার শূরা কমিটি বসে এ সিদ্ধান্ত নেন বলে জানা গেছে।

আরও জানা গেছে, তিন সদস্য বিশিষ্ট এ কমিটি মাদরাসার সব কাজের সুরাহা করবেন। তাঁদের সবার সমান অধিকার থাকবে। তাদের মধ্য থেকে কেউ একজন এককভাবে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না।

কমিটিতে থাকা সদস্য তিনজন হলেন, হাটহাজারী মাদরাসার প্রধান মুফতি  ১) মুফতী আবদুস সালাম। বর্তমান সহকারী পরিচালক ২) মাওলানা শেখ আহমদ ও ৩) মাওলানা ইয়াহইয়া।

জানা গেছে, মাদরাসার সাবেক নায়েবে মুহতামিম মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরীকে নাজেমে তালিমাত ও প্রধান শায়খুল হাদীস হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ঐতিহাসিক জনস্রোতের মাধ্যমে জানাজা সম্পন্ন হয়েছে হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক, বীর সিপাহসালার হেফাজত আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর। হাটহাজারীর মাদরাসা মাঠে আল্লামা শাহ আহমদ শফীর বড় ছেলে মাওলানা আবু ইউসুফ এর ইমামতিতে বিকাল ২ টায় ঐতিহাসিক এ জানাজা সম্পন্ন হয়।

জানাজার নির্দিষ্ট সময়ের অনেক আগেই হাটহাজারী মাদরাসা মাঠ, রাস্তা-ঘাট, পথ-প্রান্তর লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়।
ইতিহাসের এই মহা নায়ককে শেষবারের মতো দেখতে হাটহাজারী মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে লাখো লাখো উলামা, ত্বলাবা,মুসুল্লী, সালেকীন,মুহিব্বীনদের ঢল নামে।

হাটহাজারী মাদরাসার সাবেক মহাপরিচালক শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফি ছিলেন একজন বিশ্ববরেণ্য আলেমে দীন, বুযুর্গ, শাইখুল হাদীস এবং অবিসংবাদিত নেতা। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে তিনি কওমি মাদরাসা অথরিটি আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তিনি প্রায় এক যুগ ধরে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের (বেফাক) সভাপতি ছিলেন। তিনি দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর যাবত দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক ও শায়খুল হাদিস হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তিনি বাংলাদেশের উলামায়ে কেরাম, মসজিদের ইমাম ও খতিব, মাদরাসার শিক্ষক ও ছাত্রবৃন্দ এবং ধর্মপ্রাণ মুসলিম জনসাধারণের একজন সফল অভিভাবকের ভূমিকা পালন করছিলেন। তিনি ছিলেন হেফাজতে ইসলামের সর্বজন শ্রদ্ধেয় আমীর।

সর্বশেষ গতকাল সন্ধ্যা ৬ টা ২০ মিনিটে রাজধানীর আসগড় আলী হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। এরপর আজ তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হলো।

জানাজার নামাজে উপস্থিত ছিলেন, যাত্রাবাড়ী মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা মাহমুদুল হাসান, নানুপুর মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা সালাহউদ্দীন নানুপুরী, মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, আল-হাইআতুল উলয়া বাংলাদেশ এর অধীন বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ এর সহসভাপতি হযরত মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী, হযরত মাওলানা মুফতী মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ নূরুল ইসলাম জিহাদী, হযরত মাওলানা সাজিদুর রহমান, হযরত মাওলানা মুফতী ফয়জুল্লাহ, হযরত মাওলানা মুছলিহুদ্দীন রাজু, হযরত মাওলানা মাহমুদুল হাসান, হযরত মাওলানা মুফতী জসীমুদ্দীন, হযরত মাওলানা আনাস মাদানী, হযরত মাওলানা আব্দুর রহমান হাফেজ্জী, হযরত মাওলানা মাহফুজুল হক, হজরত মাওলানা মামুনুল হক, হযরত মাওলানা মুফতী নূরুল আমীন, হজরত মাওলানা উবায়দুর রহমান মাহবুব, হযরত মাওলানা মোস্তাক আহমদ, হযরত মাওলানা নূরুল হুদা ফয়েজী, হযরত মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া। ইসলামী আন্দোলন এর নায়েবে আমির (চরমোনাই পীর) মুফতি ফয়জুল করীম কাসেমি।

আরও উপস্থিত ছিলেন বেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া গওহরডাঙ্গা বাংলাদেশ এর সভাপতি হযরত মাওলানা রুহুল আমীন, মহাসচিব হযরত মাওলানা শামসুল হক, আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশ এর মহাসচিব হযরত মাওলানা আব্দুল হালীম বুখারী, সহকারী মহাসচিব মুফতী শাসমুদ্দীন জিয়া, আযাদ দীনী এদারায়ে তা’লীম বাংলাদেশ এর সভাপতি হযরত মাওলানা জিয়াউদ্দীন, মহাসচিব হযরত মাওলানা আব্দুল বছীর, তানজীমুল মাদারিসিদ দীনিয়া বাংলাদেশ এর সভাপতি হযরত মাওলানা আরশাদ রাহমানী, সহসভাপতি হযরত মাওলানা মাহমুদুল আলম, জাতীয় দীনী মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড এর সভাপতি হযরত মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ, মহাসচিব হযরত মাওলানা মোহাম্মাদ আলী, মুফতি গোলাম মুহিউদ্দীন ইকরামসহ দেশের বরেণ্য আলেম উলামা সকলেই উপস্থিত হয়েছেন।

এমডব্লিউ/

ads