197899

স্বীকৃতির চেয়ে স্বকীয়তার মুল্য বেশি: মাওলানা মামুনুল হক

আন্দামান নওশাদ: কওমি মাদরাসায় সরকারের স্বীকৃতির চেয়ে কওমি স্বকীয়তার মুল্য বেশি বলে মন্তব্য করেছেন জামিয়া রাহমানিয়ার সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা মামুনুল হক। সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আপনারা জোর করে আমাদের স্বীকৃতি ‍দিয়েছেন। আমরা নিতে চাইনি। সুতরাং আপনারা জেনে রাখবেন, এ স্বীকৃতির চেয়ে আমাদের কাছে অনেক বড় বিষয় হলো আমাদের ‘কওমি স্বকীয়তা’। আমি আবার বলছি, যদি স্বীকৃতির কারণে আমার কওমির স্বকীয়তার উপর কোনো আঘাত করা হয়। কিংবা স্বীকৃতির পথ ধরে আমার কওমি স্বকীয়তাকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হয়। তাহলে সে স্বীকৃতির জালপত্র বঙ্গোপসাগরে ভাসিয়ে দেয়া হবে।

গত শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) কওমি মাদরাসায় চলমান সংকট থেকে উত্তরণে দেশের শীর্ষ উলামায়ে কেরামের উপস্থিতিতে কামরাঙ্গীরচর মাদরাসায় গুরুত্বপূর্ণ ইসলাহী মাহফিলে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, আমরা আজ সময়ের সবচেয়ে সঙ্কটময় মুহূর্ত অতিক্রম করছি। কারণ আজ আমাদের মুল শিকর ও মূল ঐহিত্যে কুঠারাঘাত করার পায়তারা চলছে। আমাদের ঘুম পাড়িয়ে আঁড়ালে আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। দেড়শো বছরের দীন ও দীনদারিয়াতের ধারক বাহক দারুল উলুম দেওবন্দের আদর্শের বাতিঘর মাদারিসে কওমিয়াকে দীন ও জনতা থেকে বিচ্ছিন্ন করার হীনঅপতৎপরতা চলছে। এমন পরিস্থিতিতে আমি আজ আপানাদের ঐকথা বলবো। যে কথা হাকীমুল ইসলাম কারী তৈয়ব সাহেব রহ. বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, দারুল উলুম দেওবন্দের অনেকগুলো বৈশিষ্ট্যের অন্যতম একটি হলো,  হুকুমত ও সময়ের সরকারের সাথে দেওবন্দী মাদরাসার সম্পর্ক থাকবে মধ্যমপন্থার সম্পর্ক।

তাঁর কথার সাথে মিলিয়ে শুধু আমি নয়, আমাদের লাখো কওমি সন্তানদের কথা হলো, হুকুমতের সাথে আমাদের সম্পর্ক থাকবে মধ্যমপন্থার সম্পর্ক। আমরা সরকারের বিরুদ্ধে হঠকারীমূলক কোনো অবস্থান গ্রহণ করবো না। আমি আবারো বলছি, সরকারের বিরুদ্ধে হঠকারীমূলক কোনো অবস্থান গ্রহণ করা কোনো দেওবন্দী সন্তানের আদর্শ নয়। সাথে সাথে একথাও মনে রাখতে হবে, হঠকারিতামূলক পথ গ্রহণ করা যেমনিভাবে দেওবন্দীদের মুল বৈশিষ্ট্য নয় তেমনি চাটুকারিতার পথ অবলম্বন করাও কোনো দেওবন্দী সন্তানের আদর্শ নয়। সুতরাং স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাই, আমরা কোনো সরকারের বিরুদ্ধে হঠকারিতায় যেতে চাই না। কিন্তু আমাদের যদি চাটুকারিতায় বাধ্য করেন তাহলে আমরাও হঠকারিতার পথ অবলম্বন করতে বাধ্য হবো। বাধ্য হবো। বাধ্য হবো।

তিনি বলেন, বড় দু:খ লাগে। হৃদয়ে আমার রক্তক্ষরণ হয়। বারবার শুনতে পাই একটি কথা। অমুককে কওমি মাদারাসার মূল নেতৃত্বে আনা যাবে না। কেনো? তার কী দোষ? দোষ হলো সরকার তার ব্যাপারে ভালো দৃষ্টিভঙ্গি রাখে না।

আমার কথা হলো, এটা কওমির লোকেরা ঠিক করবে কাকে কওমির দায়িত্ব রাখবে আর কাকে দায়িত্বে রাখবে না। এটা নির্ধারণ করবো আমরা। আমাদের নেতৃত্ব নির্বাচন করবো আমরা। আমাদের নেতৃত্বের মানদণ্ড হবে ইখলাস। আমাদের নেতৃত্বের মানদণ্ড হবে তাকওয়া। আমাদের নেতৃত্ব নির্বাচনের মানদণ্ড হবে আমাদের আকাবির উলামায়ে কেরামের কাছে যারা আস্থাভাজন। তারাই নেতৃত্বের আসনে বসবেন। এখানে কে সরকারের আস্থাভাজন? কাকে সরকার ভালো চোখে দেখে। কাকে সরকার বাম চোখে দেখে। ওটা দেখার সময় কওমির সন্তানদের নেই। আমরা পরিস্কার ভাষায় বলছি। এ সরকারের আমলে আমাদের যে কথা। সরকার পরিবর্তন হলেও আমাদের সে একই কথা থাকবে ইনশাআল্লাহ।

মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী ও মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবীর যৌত সঞ্চালনায় ইসলাহী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য দেন, খিলগাঁও মাখজানুল উলুম মাদরাসার আল্লামা নূরুল ইসলাম জিহাদী, দেওনার পীর অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান চৌধূরী, ময়মনসিংহের মাওলানা আব্দুর রহমান হাফেজ্জী, বারিধারা মাদরাসার শায়খে ছানী মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, নারায়ণগঞ্জ ডিআইটি মসজিদের খতীব মাওলানা আব্দুল আউয়াল, রামপুরার মাদরাসার শায়খুল হাদিস মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, ময়মনসিংহের মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ সাদী, আরজাবাদ মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া।

বারিধারা মাদরাসার নায়েবে মুহতামিম মাওলানা নাজমুল হাসান, জামিয়া রাহমানিয়ার মুহতামিম মাওলানা মাহফুজুল হক, ইসলামবাগ মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা মুঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, বি.বাড়ীয়া প্রতিনিধি মাওলানা লিয়াকত উসমানী, হাফেজ্জী হুজুর রহ. এর মাওলানা হাবীবুল্লাহ মিয়াজী, মাওলানা শওকত হোসেন সরদার, মাওলানা মাসউদুল করীম, নাজিরহাট মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত মুহতামিম মাওলানা হাবীবুর রহমান, বেফাকের সহকারী মহাসচিব মাওলানা কেফায়েতুল্লাহ আজহারী, মাওলানা লোকমান মাজহারী, টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি মুফতি আব্দুর রহমান, কওমী ঐতিহ্যের মাওলানা মুসা বিন ইজহার।

এমডব্লিউ/

আপনার বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন- 01640523566