150544

নুসরাত হত্যায় ফেঁসে যাচ্ছে কারা কর্তৃপক্ষ

আওযার ইসলাম: কারাবিধি লঙ্ঘন করে আলোচিত আসামি সিরাজের সঙ্গে তার ক্যাডার বাহিনীকে একান্ত সাক্ষাতের সুযোগ করে দেওয়ায় এবার কারা কর্তৃপক্ষ ফেঁসে যেতে পারে বলে জানান পিবিআই সংশ্লিষ্ট সূত্র।

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় কারাগার থেকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার নির্দেশনা ছিল। তার নির্দেশনা অনুযায়ী রাফিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়।

আদালতে আসামি নুর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামীমের জবানবন্দিতে উঠে এসেছে এই তথ্য। এছাড়া সিরাজের সঙ্গে সাক্ষাতের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ এবং তথ্য জব্দ করা না হলে আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে সিরাজ বেঁচে যেতে পারেন বলে মনে করছেন নুসরাতের পরিবার।

কারাগারের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, কারাবিধি অনুযায়ী আলোচিত আসামির সঙ্গে একান্ত সাক্ষাতের সময় একজন কারারক্ষী বা কারাকর্তৃপক্ষের যে কেউ উপস্থিত থাকার কথা। অথচ অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার সঙ্গে নুর উদ্দিন ও শামীমের একান্ত সাক্ষাতের সময় কেউ উপস্থিত না থাকার ফলে দীর্ঘ দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা ধরে চলে তাদের পরিকল্পনা।

এ সময় যদি কারা কর্তৃপক্ষের কেউ উপস্থিত থাকতো তাহলে রাফিকে হত্যা করার ব্যাপারে সিরাজ উদদৌলা তাদের নির্দেশনা ও হত্যার পরিকল্পনা জানতে পারতো। ফলে তাকে পুড়িয়ে মারার মতো এমন ঘটনা হতো না বলেও ওই সূত্র দাবি করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি আইনজীবী বলেছেন, কারাগার থেকে সিরাজের নির্দেশে রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় বিধি লঙ্ঘন করায় কারা কর্তৃপক্ষ দায় এড়াতে পারে না। তাদেরকেও আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

পিবিআইর পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহ আলম জানান, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সবাইকে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চাঞ্চল্যকর রাফি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আসামি নুর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামীম ১৬৪ ধারায় ১৫ এপ্রিল ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাকির হোসেনের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা ধরে এই জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। জবানবন্দিতে আদালতে সিরাজ উদ্দৌলা ও আওয়ামী লীগ নেতা রহুল আমিনের নির্দেশনা সমূহ নুর উদ্দিন ও শামীম বর্ণনা করেন।

জবানবন্দিতে নুর উদ্দিন জানান, গত ৩ ও ৪ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার সঙ্গে ফেনী কারাগারে দেখা করেন তিনি। সেখানে শামীম, জাবেদ হোসেন, হাফেজ আবদুল কাদেরসহ আরও কয়েকজন ছিলো। তারা ‘আলেম সমাজকে হেয় করায় নুসরাতকে ‘একটি কঠিন সাজা দেওয়া’র জন্য সিরাজ উদদৌলার কাছে হুকুম চায়।

এই সময় শামীম নুসরাতকে পুড়িয়ে মারার প্রস্তাব দিলে এ প্রস্তাবে সায় দিয়ে সিরাজ উদ্দৌলা তার নির্দেশনা দিয়ে বলেন, ‘তোমরা কিছু একটা করো।’ একইসঙ্গে সিরাজ উদ্দৌলা এ নিয়ে ‘বেশ কিছু গোপন টিপস’ দেয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন নুর উদ্দিন।

নুর উদ্দিন আরও জানায়, সিরাজ উদ্দৌলার নির্দেশনা পাওয়ার পর গত ৫ এপ্রিল, শামীম, জাবেদ হোসেন ও হাফেজ আবদুল কাদেরসহ আরও কয়েকজন মাদ্রাসার পাশের পশ্চিম হোস্টেলে বৈঠকে বসে। সেই বৈঠকে নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে মারার ব্যাপারে চূড়ান্ত পরিকল্পনা নেওয়া হয়, যা ৬ এপ্রিল বাস্তবায়ন করা হয়।

আরএম/

ad

পাঠকের মতামত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *