148057

সাদপন্থী মাদরাসার পক্ষে হাইকোর্টের নির্দেশ, পূর্ব সিদ্ধান্তে অটল হাইয়াতুল উলইয়া

রকিব মুহাম্মদ 
আওয়ার ইসলাম

সম্মিলিত কওমি মাদরাসা শিক্ষা সংস্থা ‘আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ অধীনে কওমি মাদরাসা চলতি শিক্ষাবর্ষের দাওরায়ে হাদীস (তাকমিল) পরীক্ষা আগামী এপ্রিল মাসের ৮ তারিখ (সোমবার) শুরু হচ্ছে। ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত এ পরীক্ষা চলবে।

দেশের ৬টি কওমি মাদরাসাভিত্তিক শিক্ষাবোর্ড থেকে প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষার্থী আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ এর কেন্দ্রীয় এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে।

তবে গত ১৭ মার্চ (রোববার) ভারতের নিজামুদ্দিন মারকাজের তাবলিগের বিতর্কিত মুরুব্বি মাওলানা সাদ কান্ধলভীর ব্যাপারে দারুল উলুম দেওবন্দের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে তার পক্ষপাত করার অভিযোগে সাদপন্থী মাদরাসাগুলোর কেন্দ্রীয় পরীক্ষা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয় কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ অথরিটি ‘আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’।

হাইয়ার এমন সিদ্ধান্তে চট্টগ্রামের লালখান বাজার মাদরাসাসহ দেশের কয়েকটি মাদরাসার প্রায় ১৭৭ জন দাওরা হাদিসের পরীক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।  এই পরিপ্রেক্ষিতে বেফাক ও হাইয়াতুল উলইয়া থেকে শিক্ষার্থীদের যথাসময়ে পরীক্ষা গ্রহণ করার ব্যাপারে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেন সাদপন্থীরা।

সাদপন্থীদের ৬টি কওমি মাদরাসার পক্ষে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবি মোহাম্মদ আব্দুল কদ্দুস বাদল এর এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি এফ.আর.এম. নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে.এম. কামরুল কাদেরের দ্বৈত বেঞ্চ বৃহস্পতিবার রিটের শুনানি শেষে সাদপন্থী মাদরাসাগুলো থেকে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে পারবে বলে নির্দেশ দেন।

আগামী রোববারের মধ্যেই সাদপন্থী মাদরাসায় পড়ার কারণে পরীক্ষা অনিশ্চিত এমন শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র প্রদান করে পরীক্ষা নিতে নির্দেশ দেন আদালত।

রিট আবেদনকারী মাদরাসাগুলো হলো- রাজধানীর বারিধারর আল মাদরাসাতুল মঈনুল ইসলাম, সাভারের মারকাজুল উলূম আশ শরীয়াহ, নন্দিপাড়ার মাদরাসাতুস সুফফা আল ইসলামিয়া, চাঁদপুরের জামিয়া মাদানিয়া আশরাফুল উলুম, কিশোরগঞ্জ গাইটাইলের মাদরাসায়ে রাহমানিয়া, ময়মনসিংহ ভালুকার জামিয়া ইসলামিয়া রাহে জান্নাত মহিলা মাদরাসা।

উল্লেখিত মাদরাসাগুলোর পরীক্ষা স্থগিত করার বিষয়ে জানতে চাইলে ‘আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’র কো চেয়ারম্যান আল্লামা আশরাফ আলী জানান, আমরা কোনও শিক্ষার্থীর পরীক্ষা স্থগিত করিনি বরং যেসব সাদপন্থী মাদরাসায় হাইয়ার পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল, সে সব কেন্দ্র স্থগিত করি।”

শিক্ষার্থীদের আল-হাইয়াতুল উলইয়ার অধীনে পরীক্ষা দিতে দেওয়ার ব্যাপারে হাইকোর্ট যে নির্দেশনা দিয়েছে তা মেনে নতুন করে মাদরাসার নামসহ পরীক্ষার্থীদের কাগজ তৈরি করা হবে কিনা – এমন প্রশ্নের উত্তরে আল্লামা আশরাফ আলী বলেন, আদালতের কোনও নির্দেশনা এখনো আমাদের হাতে পাইনি। এছাড়া, সাদপন্থী মাদরাসাগুলোর পরীক্ষা কেন্দ্র কেন বা কী কারণে স্থগিত করা হয়েছে তা সম্পর্কে আদালত কিছুই জানেন না। প্রয়োজনে আমরা বিচারপতীদের সঙ্গে আলোচনায় বসব। তবে এত স্বল্প সময়ে হাইয়াতুল উলইয়ার পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।

শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা প্রক্রিয়া কি হবে জানতে চাইলে হাইয়ার জৈষ্ঠ এই নেতা বলেন, শিক্ষার্থীরা বেফাক বা অন্য কোন মাদরাসার নামে যেভাবে কাগজপত্র তৈরি হয়েছে সেভাবে পরীক্ষায় অংশ নিতে কোন বাধা নেই।

‘আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ এর মুরুব্বিদের সঙ্গে বিষয়টি মীমাংসা না করে কেন আদালতে রিট দায়ের করা হয় এই বিষয়ে জানতে চাইল সাদপন্থী আলেম ও সাভারের মারকাজুল উলুম আশ শরিয়ার মুহতামিম মাওলানা জিয়া বিন কাসেম বলেন, “দু’বার বেফাকের মহাপরিচালক আমাদের ডেকেছেন। দুবারই আমরা সমস্যা সমাধানের জন্য সেখানে গিয়েছি। বেফাকের মহাপরিচালক মাওলানা যুবায়ের আহমদ চৌধুরী বলেছেন, আপনাদের মাদরাসার প্যাডে এই মর্মে রুজুনামা লেখেন যে, আমরা মাওলানা সাদের ভ্রান্ত মতবাদ থেকে রুজু করছি এবং আল্লামা আহমদ শফীর নির্দেশনা মেনে চলব। কর্তৃপক্ষ এই রুজুনামা পেলে আপনার ছাত্ররা পরীক্ষা দিতে পারবে।”

“এছাড়াও মাওলানা যুবাইর আহমদ বলেছেন, আপনাদের ছাত্ররা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও আপনাদের মাদরাসা নামে পরীক্ষা দিতে পারবে না।” বললেন মাওলানা জিয়া বিন কাসেম।

বেফাক ও হাইয়াতুল উলইয়া কর্তৃপক্ষ আদালতের নির্দেশনা মানবে কিনা জানতে চাইলে মাওলানা জিয়া বিন কাসেম বলেন, “আমরা দেশের সাধারণ নাগরিক সাধারণ নিয়ম মেনে আদালতের স্মরণাপন্ন হয়েছিলাম।  এখন বেফাক বা হাইয়াতুল উলইয়া আদালতের নির্দেশ মানবে কিনা সেটা আদালত ও তাদের বিষয়। ”

উল্লেখ্য, জাতীয় সংসদের ২২ তম অধিবেশনে ১৯ সেপ্টেম্বর ‘কওমি মাদরাসা সমূহের দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল)-এর সনদকে আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ এর অধীনে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) সমমান প্রদান বিল ২০১৮’ পাস হয়।

আইন পাস হওয়ার পরে সংস্থাটির অধীনে প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে ২০১৭ সালের ১১ এপ্রিল ২০১৭ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কওমি শিক্ষা সনদের মান ঘোষণা করার পর হাইআতুল উলয়ার অধীনে ৬ বোর্ডের সম্মিলিত দাওরায়ে হাদিসের পরীক্ষা ইতোপূর্বেও দুইবার (১৬-১৭ ও ১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ) অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আরএম/

ad

পাঠকের মতামত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *