২০১৯-০৩-১৫

মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ ২০১৯

লিনউড মসজিদে হামলাকারীর অস্ত্র কেড়ে নেন মসজিদের তরুণ খাদেম

OURISLAM24.COM
news-image

আওয়ার ইসলাম: নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে লিনউড মসজিদে হামলাকারী সন্ত্রাসীর অস্ত্র কেড়ে নেন এক তরুণ। কীভাবে সেই তরুণ সন্ত্রাসীকে পরাস্ত করে অস্ত্র কেড়ে নিলেন সেই গল্প নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডকে শুনিয়েছেন মসজিদ থেকে বেঁচে ফেরা একজন।

শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের সময় ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদ এবং কাছের লিনউড মসজিদে হামলা চালায় দুই ব্যক্তি, যাদের হাতে ছিল অটোমেটিক রাইফেল। নির্বিচারে গুলিতে আল নূর মসজিদে ৪৯ জন এবং লিনউডে মোট ৮ জন শহীদ হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, লিনউড মসজিদের খাদেম ওই তরুণ যদি হামলাকারীর বিরুদ্ধে রুখে না দাঁড়াতেন, তাহলে সেখানে নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতো।

লিনউড মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন আরেক মুসল্লি সৈয়দ মাজহার উদ্দিন। সেখান থেকে নিরাপদে ফেরার পর তিনি নিনিউজিল্যান্ড হেরাল্ডকে বলেন, মোটামুটি ৬০ থেকে ৭০ জন মানুষ ওই সময় মসজিদে উপস্থিত ছিলেন। হঠাৎ গুলির শব্দ শুরু হলে লোকজন আতঙ্কে ছুটোছুটি শুরু করে। আমি তখন লুকিয়ে পড়ার জায়গা খুঁজছিলাম। সবাই ভয়ে চিৎকার করছে। হটাৎ দেখলাম একজন মসজিদের দরজা দিয়ে প্রবেশ করল।’

হাতের অস্ত্র দিয়ে সামরিক কায়দার ক্যামোফ্লাজড গিয়ার পরিহিত ওই হামলাকারী তখন নির্বিচারে গুলি করছিল। দরজার কাছেই ছিলেন বয়স্ক কিছু মানুষ। হামলাকারী তাদের দিকেও গুলি চালায়।

মাজহার উদ্দিন জানান, এসময় মসজিদের তরুণ সেই খাদেম ভেতর থেকে এসে রুখে দাঁড়ান সন্ত্রাসীকে।

‘সুযোগ বুঝে এগিয়ে গিয়ে ও হামলাকারীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে আর হাত থেকে বন্দুকটা কেড়ে নেয়। তারপর সে হামলাকারীকেও ধরার চেষ্টা করে, কিন্তু অস্ত্রের ট্রিগারটা সে খুঁজে পাচ্ছিল না।’

হামলাকারী তখন দৌড়ে মসজিদ থেকে বেরিয়ে যায় এবং বাইরে অপেক্ষায় থাকা একটি গাড়িতে উঠে পালিয়ে যায় বলে জানান মাজহার উদ্দিন।

তিনি জানান, এই হামলার ঘটনায় তার সামনেই একজনের বুকে, আরেকজনের মাথায় গুলি লাগে। একজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত আরেকজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় ভেতরে রেখে লোক ডাকতে বাইরে যান তিনি।

‘আমি যখন দৌড়ে বাইরে এলাম, পুলিশ তখন মসজিদে ঢুকল। ওরা আর আমাকে ভেতরে যেতে দেয়নি। আমি আর আমার বন্ধুকে বাঁচাতে পারলাম না।’

আইএ