২০১৯-০৩-১৪

শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০১৯

‘মাদরাসায় পড়ানোর পাশাপাশি আগ্রহী আলেমদের ব্যবসার সুযোগ দেয়া উচিত’

OURISLAM24.COM
news-image

ইসমাঈল আযহার
আওয়ার ইসলাম

ইসলামের প্রথামিক যুগ থেকে মুসলমানরা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। নবী রাসূল ও সাহাবারা ব্যবসা করতেন। ব্যবসা হালাল রিজিকের মাধ্যম। কুরআন এবং হাদিসে ব্যবসা সম্বন্ধে অনেক আয়াত এবং হাদিস বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, আমি ব্যবসা হালাল করেছি এবং সুদকে করেছি নিষিদ্ধ।

কিন্তু বর্তমান সমায়ে ব্যবসাকে ঘিরে দেখা যায় নানান প্রশ্ন আর সমস্যা। অনেকেই ব্যবসাকে খাটো চোখে দেখেন। তারা মনে করেন ব্যবসা করবে নীচুতলার মানুষ। আবার অনেকে মনে করেন, ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক বর্তমান সময়ে ব্যবসা করা অম্ভব।

অনেক তরুণ আলেমের আবার ধারণা মাদরাসায় পড়ে আলেম হয়ে যদি শিক্ষকতা না করি, আমার মানহানি হবে। এসব প্রশ্ন কেন? কী কারণ এসব নিয়ে কথা বলছিলাম  জামিয়া ইসলামিয়া দিলুরোড মাদরাসার শিক্ষক ও মালিবাগ বাজার মাদরাসা রোডে অবস্থিত তাকওয়া ক্লথ হাউসের প্রোপাইটার মাওলানা মুফতি শরিফ হোসাইনের সঙ্গে।

ইসলাম ব্যবসা বাণিজ্যকে কীভাবে মূল্যায়ণ করে জানতে চাইলে মুফতি শরিফ হোসাইন বলেন, ইসলাম ব্যবসাকে শতভাগ হালাল করেছে। আমাদের নবী ব্যবসার প্রতি মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছেন। তিনি নিজেও ব্যবসা করেছেন। পূর্ববর্তী অনেক নবী রাসূল ব্যবসায়ী ছিলেন। এমন কি আমাদের হানাফী মাজহাবের ইমান হযরত আবু হানিফা রহ.ও ব্যবসা করেছেন।

আলেম ওলামা বা ধর্মীয় একশ্রেণির মানুষ ব্যবসাকে নেগেটিভ দৃষ্টিতে দেখে এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, নবী রাসুল ও আমাদের উত্তরসুরিরা যে কাজ করেছেন, কুরআনে ব্যবসার কথা বলা হয়েছে, এ কাজকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই বলে আমি মনে করি।

তবে হ্যা তার একটা কারণ হতে পারে আমাদের মূলধন না থাকা। ব্যবসার জন্য মুলধন লাগে, না হলে সে ব্যবসা করতে পারে না। এখন যার কাছে মুলধন কম সে তো বড় ব্যবসা শুরু করতে পারবে না। ব্যবসা ছোট হোক তাতে সমস্যা কী। এটা তো হালাল কাজ।

খেলাফতের আমলে কী পরিমাণ নারী ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন জানতে চাইলে মুফতি শরিফ হোসাইন বলেন, তখন অনেক সাহাবীয়াই ব্যবসা করতেন কিন্তু এভাবে না। এখন নারীরা যেভাবে ব্যবসা করে, সেভাবে করতো না। তারা মূলধনের জোগান দিতো। আর পুরুষরা তাদের সবকিছু দেখাশোনা আনা-নেওয়া করতো।

উনারা ব্যবসা করছেন কিন্তু শরিয়াতের কোনো বিধান লঙ্ঘণ করেননি। কিন্তু আজকে আমাদের সমাজের যারা ব্যবসা করে তাদের দেখা যায় অধিকাংশ বেপর্দা। এটা নাযায়েজ। তবে পর্দা মেনে সাহাবীয়াদের মতো কেউ যদি মুলধনের জোগান দেন, আর পুরুষরা ব্যবসার জাবতীয় কাজ আঞ্জাম দেন তাহলে ভাল।

সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনা তার দেয়া এক ভাষণে বলেছিলেন, ‘হযরত খাদিজা রা. ব্যবসায়ী ছিলেন’। এ কথা প্রধানমন্ত্রী কেন বললেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাচ্ছি না। এটা এখানেই শেষ করলে ভাল হয়।

শতভাগ হালাল পর্যায়ে ব্যবসা অম্ভব বর্তমান সময়ের অনেকেই এমন ধরণা করেন তাদের ধারণা কতটুকু সত্য? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমি আজ পনেরো বছর ধরে ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। আমি তো হারাম পন্থায় কোনো লেনদেন করি না। আমি আলেম, আমি মুফতি তার মানে আমি জানি কোনটা ইসলামে হারাম আর কোনটা হালাল। হালাল পন্থায় ব্যবসার পরিধি অনেক বড়। ইচ্ছা থাকলে সেটা সম্ভব।

তিনি পাকিস্তানের আল্লামা তক্বী উসমানীর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, আল্লামা তক্বী উসমানী বলেছিলেন, যেটা সোজাসুজি সামনে দিয়ে খাওয়া যায় না সেটা ঘুরিয়ে খেতে হয়।

তিনি বলেন, ইসলাম আমাদের বলেছে এই জিনিসটা এভাবে করলে হারাম কিন্তু এভাবে করলে হালাল। আমি মনে করি একজন আলেমের এটা বড় কাজ। সে আর দশজনের মতো করবে না। একটা কাজ সাধারণ মানুষ হারাম পন্থায় করছে তিনি হালাল পন্থায় করবেন। আর যারা হারাম পন্থায় করছেন তিনি তাদের নিকট বিষয়টি পরিস্কার করবেন।

নিজের সম্পর্কে তিনি বলেন, আমার ব্যবসায় আসা মূলত দীনের দিকে খেয়াল করে। ইফতা পড়ার পর উস্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করলাম ব্যবসা করব কি না। উনারা আমাকে ব্যবসা করার অনুমতি দিলেন। এখন আমার আশপাশে যতো ব্যবসায়ী আছে তাদের অনেকেই ব্যবসা সংক্রান্ত জটিল মাসলা মাসায়েল আমার কাছে জানতে আসে। আমি তাদের বিষয়টি পরিস্কার করে বলে দিই। এখন আমি যদি শুধু মাদরাসা নিয়ে পড়ে থাকতাম তাহলে তো দ্বীনের এই খেদমতটুুকু করার সুযোগ পেতাম না।

তিনি আরো বলেন, আমি যে শুধু ব্যবসা করি সেটা না। পাশাপাশি মাদরাসায় পড়াই। কিন্তু বেতন নিই না। বরং মাদরাসার অনেক কাজে সাহায্য করতে পারি।

অনেকে মাদরাসায় পড়ানোর পাশাপাশি ব্যবসা করতে চায় কিন্তু মাদরাসা কর্তৃপক্ষ তাদের সেই সুযোগ দিতে চায় না। যুক্তি হিসেবে তারা বলেন, ব্যবসা করলে আর পড়ানোর দিকে অতো খেলাল থাকবে না। এ বিষয়ে মুফতি শরিফ হোসাইন মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, পড়ানোর পাশাপাশি আমি ব্যবসা করছি। আমি তো পারছি। কোনোদিন খেদমতের প্রতি আমার অবহেলা হয়নি।

তাছাড়া ভারত উপহাদেশের বহু আলেম যাদের আমরা মেনে চালি। তাদের কথা আমরা সাদরে গ্রহণ করি তাদের শ্রোদ্ধা করি। আমি জানি- তাদের অনেকেই ব্যবসা করেন। মাদরাসা থেকে বেতন নেন না। ব্যবসার টাকা দিয়েই চলে তাদের সংসার। উনারা তো পারছেন তালে আমরা পারবো না কেন। আবার উনাদের আমরা সবদিক থেকেই মানি এই উনাদের এই দিকটা কেন ছেড়ে দিচ্ছি।

আরআর