২০১৯-০৩-১৩

শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০১৯

অনলাইনে সমালোচনা ও বিদ্বেষ; কী বলেন আলেমরা

OURISLAM24.COM
news-image

সুফিয়ান ফারাবী
ভ্রাম্যমাণ প্রতিবেদক

জনপ্রিয় সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট ফেসবুক। এই যোগাযোগ মাধ্যমে মতামত, চিন্তা, দর্শন প্রকাশ ও ছড়িয়ে দেওয়ার বিশেষ সুযোগ রয়েছে। স্বল্প কিছু বিধি-নিষেধ ছাড়া প্রায় মন মতো চালানো যায় ফেসবুক।

এতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যেমনিভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়, তেমনিভাবে অপ্রয়োজনীয় বিষয়ও এই ফাঁকে ফেসবুকের দেয়ালে স্থান করে নিচ্ছে। আর এসব থেকে ছড়াচ্ছে বিদ্বেষ। বাড়ছে ব্যক্তি ও গোষ্ঠীতে দূরত্ব, দ্বন্দ্ব। এসব নিয়ে কথা হয় কয়েকজন আলেমের সঙ্গে।

তার এসবে উদ্বেগ প্রকাশ করে কিছু নীতিমালা বর্ণনা করেছেন। আশা করি বিষয়গুলো সামনে রেখে চলছে সবার জন্য ফায়দা হবে।

ধারণাপূর্বক কারো সমালোচনা করা হারাম: মুফতি মুহাম্মদ আমিমুল ইহসান

ফিকহ গবেষক, মুফতি আমিমুল ইহসান বলেন, ‘আমরা এখন যেভাবে একে অপরের সমালোচনা করি তা শরিয়তে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অনলাইন অফলাইন সর্বাবস্থায় সন্দেহ ও ধারণাপূর্বক কারো সমালোচনা করা হারাম। আল্লাহ তাআলা অধিকাংশ ধারণা ও গিবত হতে দূরে থাকার জন্য নির্দেশ প্রদান করেছেন।

শরয়ি বিষয়ে কারো কোন ত্রুটি পরিলক্ষিত হলে ইসলাহের নিয়তে তাকে বিনয়ের সাথে অবহিত করা। সে যদি অনুশোচনা করে তা হতে প্রত্যাবর্তন করে, তাহলে এ নিয়ে আর বাড়াবাড়ির প্রয়োজন নেই।

অন্যকে ঘায়েল করার জন্য তার ব্যক্তিগত ত্রুটিগুলোকেও ইস্যু বানানো হয়। যা কোনভাবেই শরিয়ত সমর্থন করে না। তবে ইসলাম ও উম্মাহর ক্ষতি হয় এমন বিষয়ে জাতিকে সজাগ করা ওলামায়ে কেরামের নৈতিক ও ইমানী দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে শরিয়তের সীমারেখা অতিক্রম করা অনুচিত।

মুহাদ্দিসগণ হাদিসকে সংরক্ষণের জন্য যেভাবে জারহ তথা সমালোচনা করতেন আমাদেরও সেভাবে করা উচিত। মতানৈক্য যুগে যুগে ছিলো থাকবে। তবে কারো সম্মান ও মর্যাদা বিনষ্ট করার জন্য যাচাই বাছাই ব্যতীত অনলাইনে অনর্থক সমালোচনা মোটেই কাম্য নয়।

আসুন একে অপরকে সম্মান করি। মুমিন মাত্রই অনর্থক বিষয় হতে দূরে থাকবে।

সমালোচনা যেন পরনিন্দা পর্যায়ে না পৌঁছে: মুফতি এনায়েতুল্লাহ

বিশিষ্ট আলেম, লেখক ও সাংবাদিক মুফতি এনায়েতুল্লাহ বলেন, যুগে যুগে সমালোচকদের একটা গ্রুপ থাকবে। আপনাকে খেয়াল করতে হবে, সমালোচকরা কি শুধু সমালোচনার জন্যই সমালোচনা করছে, নাকি আপনাকে সংশোধনের জন্য সমালোচনা করছে?

যদি সমালোচনা শুধু সমালোচনার জন্যই হয় তাহলে এটা নিন্দনীয়। আর যদি সংশোধনের জন্য সমালোচনা করা হয় সেটা প্রশংসনীয়। একটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে, সমালোচনা যেন পরনিন্দা পর্যায়ে না পৌঁছে। পরনিন্দা ও অহেতুক ধারণা করা কুরআন হাদিসে নিষেধ।

তিনি আরও বলেন, ‘সমালোচনা কেন হলো?’ এ প্রশ্নটি গুরুত্ব সহকারে ভাবা দরকার। সে কাজগুলো নিন্দনীয় হলে তা থেকে বিরত থাকা দরকার।

সমালোচনা করা পূর্বে নিয়ত ঠিক করা দরকার: মাওলানা ইউসুফ নূর

কাতার ধর্মমন্ত্রণালয়ের ইমাম ও আল নূর কালচারাল সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক মাওলানা ইউসুফ নূর বলেন, সমালোচনার উদ্দেশ্যে কী এটা যাচাই করা উচিৎ। যদি বিষয়টি এমন হয়, যার সমালোচনা করছি, তার সংশোধন, তাকে সত্যের সন্ধান দেয়া, এবং এই ব্যাপারে সমাজের সকলকে সতর্ক করা তাহলে এটা প্রশংসনীয়। আর যদি দোষ খোঁজা, ছিদ্রান্বেষণ করা উদ্দেশ্যে হয় তাহলে বিষয়টি সমালোচক ও সবার জন্য ক্ষতি।

এসব ক্ষতি করা থেকে আমাদের অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। সমালোচনা করুন সংশোধনের জন্য। আবার এমন সমালোচনা নয় যাতে মানুষকে ডিপ্রেশনে ফেলে দেয়।

সমালোচনা নেক নিয়তে এবং যথাযথ হলে ভালো। তাতে ওই ব্যক্তির উপকার। কিন্তু ইদানিং অনেক সমালোচনারই উদ্দেশ্য থাকে ব্যক্তিবিদ্বেষ আর হিংসার প্রতিফলন। যা ব্যক্তি বা দলের ক্ষতি বয়ে আনে। আল্লাহ পাক আমাদের এরকম পদক্ষেপ থেকে নিরাপদ রাখুন।

আরআর