২০১৭-০৭-০৮

মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ ২০১৯

ছাগলনাইয়া আজিজিয়া মাদরাসা নিয়ে আ’লীগের দু’গ্রুপে উত্তেজনা

OURISLAM24.COM
news-image

ফেনীর ছাগলনাইয়া সদরের ঐতিহ্যবাহী আজিজিয়া মাদরাসা নিয়ে আবারও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবির পর কয়েক শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি ও কয়েকজনের ছাত্রত্ব বাতিলের ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ক্ষমতাসীন দলের দুই গ্রুপ মাদরাসা অধ্যক্ষের পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দুই গ্রুপের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে এবার মাদরাসায় ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়নি। উত্তেজনার কারণে উপজেলা প্রশাসন ঈদের চার দিন আগে মাদরাসা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে। পরে বিরোধী পক্ষ মাদরাসার অদূরে জিরো পয়েন্টে ঈদের নামাজ আদায় করে।

জানা যায়, মাদরাসার নামে তোলা টাকা দিয়ে বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতিসহ নানা অভিযোগে অধ্যক্ষ মাওলানা রুহুল আমীনের পদত্যাগ দাবি করে আসছিলেন ছাত্র-শিক্ষক, প্রতিষ্ঠাতা, দাতাসহ সংশ্লিষ্টরা।

সম্প্রতি নানা অভিযোগ তুলে মাদরাসার শিক্ষক হাফেজ মাওলানা সাঈদ কপিলসহ কয়েকজনকে অব্যাহতি ও কয়েক ছাত্রের ছাত্রত্ব বাতিল করেন অধ্যক্ষ। এরপর কপিলকে ঈদের জামাত পরিচালনার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলে ফুঁসে ওঠেন মুসল্লিরা। সংশ্লিষ্টরা ঈদের জামাত পরিচালনায় মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পীর মুসার (র.) নাতি কপিল ছাড়া অন্য কাউকে মানবেন না বলে হুঁশিয়ারি দিলে অধ্যক্ষ পক্ষ উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি

মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেলের শরণাপন্ন হন। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে রমজানের শেষ জুমার দিন বৈঠক হয়। উপস্থিত লোকজন কপিলের পক্ষে থাকলেও রুহুল আমীন তা মানতে চাননি। ওই বৈঠকে পৌর মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মোস্তফা ঈদের জামাত যে কোনো মূল্যে কপিল পড়াবে বলে ঘোষণা দিলে হাজার হাজার জনতা তাতে সমর্থন করেন। এক পর্যায় ঈদের জামাত নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র বিবাদে জড়িয়ে যান। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় মুসল্লিদের কয়েকজন জানান, সোহেল চৌধুরী ছাড়াও অধ্যক্ষের পক্ষে রয়েছেন উপজেলা যুবলীগের সভাপতি এনাম মজুমদার ও তাদের অনুসারীরা। বিপক্ষে রয়েছেন মো. মোস্তফা, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী ওমর ফারুক ও তাদের অনুসারীরা। গত বুধবার পৌর সদরের বধুয়া কমিউনিটি সেন্টারে ৬নং বাঁশপাড়া ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান করেন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সোহেল চৌধুরী। অনুষ্ঠানে এনাম মজুমদার মাদরাসায় উত্তেজনা সৃষ্টির জন্য মো. মোস্তফা ও কাজী ফারুককে দায়ী করেন। সোহেল চৌধুরী পরিস্থিতির জন্য ওই দু’জনের পাশাপাশি উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুর আহাম্মদ মজুমদার ও তার পরিবারকেও দায়ী করেন। এক পর্যায়ে তিনি মাদ্রাসা নিয়ে কেউ বাড়াবাড়ি করলে তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন। এদিকে গত বৃহস্পতিবার নুর আহাম্মদ মজুমদার তার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে নিজের নিরাপত্তাহীনতার কথা তুলে ধরে আইনের আশ্রয় নেবেন বলেও জানিয়েছেন।

সোহেল চৌধুরী সমকালকে বলেন, মাঠের বক্তব্যে অনেক কিছুই আসে। তবে আমি উত্তেজনাকর কোনো বক্তব্য দেইনি। তিনি দাবি করেন, মাদরাসায় দলাদলির সঙ্গে তিনি কোনোভাবেই জড়িত নন। মাদ্রাসা শিক্ষকরা উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে আমার কাছে অভিযোগ দিলে উভয়পক্ষকে ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়েছি। কওমি মাদ্রাসায় সরকার ও বাইরের কারও হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি।

অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যক্ষ মাওলানা রুহুল আমীন বলেন, কপিল মাদরাসার বহিষ্কৃৃত শিক্ষক হওয়ায় তাকে নামাজ পরিচালনা করতে দেওয়া হয়নি। বহিষ্কারের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি কওমি মাদরাসার শূরা কমিটির সিদ্ধান্ত।

ফেনী জেলা পুলিশ সুপার এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকার বলেন, ঈদের আগের বিষয়টি নিয়ে কোনো পক্ষ নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করলে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

সূত্র: সমকাল