fbpx
           
       
           
       
বৃহৎত্তর ঐক্যের পথ সন্তানদের দেখে পিতারাও শিখবে!
জুন ১৩, ২০১৬ ১০:০৬ পূর্বাহ্ণ

ourislam24

নাসির উদ্দীন খান, মুখপাত্র, সর্বদলীয় ইসলামি ছাত্রঐক্য, সভাপতি, ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ

ছাত্র জমিয়ত উপমাদেশের প্রাচীনতম ইসলামি দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের ছাত্র সংগঠন হিসেবে কাজ করছে। প্রধানত কাওমি মাদরাসা ভিত্তিক সংগঠন এটি। প্রায় সারা দেশব্যাপী রয়েছে কর্ম পরিধি। শিক্ষানীতির প্রতিবাদে আন্দোলনরত সর্বদলীয় ইসলামী ছাত্রঐক্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশিদার তারা। ছাত্র জমিয়তের সভাপতি ও সর্বদলীয় ইসলামি ছাত্র ঐক্যের মুখপাত্র নাসির উদ্দীন খানের সাথে কথা বলেন আওয়ার ইসলাম টোয়েন্টিফোর ডটকমের সাব এডিটর মুহাম্মদ এহসানুল হক

আওয়ার ইসলাম : ইসলামি ছাত্র ঐক্যের গঠন সম্পর্কে একটু জানতে চাই। ঐক্য কিভাবে হলো?
নাসির উদ্দীন খান : বর্তমান এই শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে আমরা সবাই যখন যার যার ব্যানার থেকে আন্দোলন করছি। তখন আমাদের মনে হলো সবাই যদি ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করতে পারি তাহলে সেটা আরও অনেক বেশি কার্যকর হবে। আরও ফলপ্রসু হবে। এই চিন্তা থেকে আমরা ভীতরে ভীতরে পরস্পর যোগাযোগ শুরু করি। সবাই আগ্রহ দেখালে জামিয়তে তলাবায়ে আরাবিয়ার অফিসে আমরা প্রথম বসলাম। কিছু আলোচনা হলো। কিন্তু তখনও কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। এরপর বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্র মজলিসের অফিসে বসলাম। তখন সেক্রেটারিরদের সমন্বয়ে একটা সাব কমিটি করা হয়। এরপর ছাত্র সমাজের অফিসে আবার আমরা একত্র হই। তখনই ঐক্যের ব্যাপারটা চূড়ান্ত করা হয়। এবং নীতি নির্ধারনী কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

আওয়ার ইসলাম: বিভক্তি বাংলাদেশের রাজনীতির ঐতিহ্য, আপনাদের এই ঐক্য কয়দিন থাকবে মনে করেন?
নাসির উদ্দীন খান : এখন পযর্ন্ত বিভক্তির কোন সম্ভবনা দেখছি না। বিরোধ হওয়ার মত কোন সুযোগই রাখা হয়নি। আমরা আশা করি দাবি আদায় করা পযর্ন্ত আমাদের এই ঐক্য অটুট থাকবে।

আওয়ার ইসলাম : ঐক্যের নেতৃত্ব কাঠামো কি? নেতৃত্ব কে দিবে?
নাসির উদ্দীন খান : নেতৃত্বের কাঠামো এমনভাবে করা হয়েছে যাতে করে কোন বিরোধ সৃষ্টি হতে না পারে। আমাদের সিদ্ধান্ত হলো, সভাপতিদের মধ্যে থেকে আলোচনার ভিত্তিতে একজনকে মুখপাত্র করা হবে। মেয়াদ হবে এক মাস। এরপর আবার আরেকজন হবে। যদি আলোচনার মাধ্যমে সম্ভব না হয় তাহলে লটারি করা হবে। আর সেক্রেটারিদের মধ্য থেকে একই নিয়মে একজন হবে সমন্বয়কারি। তবে মুখপাত্র আর সমন্বয়কারি একদল থেকে হতে পারবে না। এই নিয়মের ভিত্তিতেই এবার আমি মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করছি। পরে আবার আরেকজন করবে। এভাবেই চলতে থাকবে।

আওয়ার ইসলাম : আপনাদের এই ঐক্য কি বৃহৎতর ঐক্যের পথ দেখাবে মনে করেন?
নাসির উদ্দীন খান : অবশ্যই। আমরা মনে করি এর মাধ্যমে বৃহৎ ঐক্যের পথ উন্মুক্ত হয়েছে। গত ৩০ তারিখ বিএম মিলনায়তনে আমাদের যে মতবিনিময় সভা ছিল সেখানে আমাদের প্রত্যেক দলের মুরুব্বি সংগঠনের দুইজন করে প্রতিনিধি ছিলেন। তাদের অনেকের আলোচনায় ঐক্যের বিষয়টি এসেছে। কেউ কেউ বলেন, অনেক সময় সন্তানদের থেকে পিতার শিক্ষা নিতে হয়। তাদের বক্তব্যে আমরা আশান্বিত হয়েছি।

nasir-jamiot copy

অন্য ইস্যু আর ইস্যু এক নয়। বর্তমান ইস্যুটা ছাত্রদের সাথে সম্পৃক্ত। আমরা যেহেতু ছাত্র সংগঠন করি তাই আমাদের উপর দায়িত্বটা একটু বেশি। আর বর্তমানে যে শিক্ষানীতি করা হচ্ছে এটা বাস্তবায়ন করা হলে স্কুল, কলেজ, মাদরাসা সবারই ক্ষতি হবে বলে মনে করি।

আওয়ার ইসলাম : এবার আপনার সংগঠন সম্পর্কে বলুন, ছাত্র জমিয়তের কাজের অবস্থা কি?
নাসির উদ্দীন খান : বাংলাদেশ জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম দেশের প্রাচীন সংগঠন। বৃটিশ আমল থেকেই এই সংগঠন উপমহাদেশে কাজ করছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে জমিয়তেরও অনেক অবদান আছে। তবে জমিয়তের ছাত্র সংগঠন এত পুরোনো নয়। ছাত্র জমিয়তের যাত্রা শুরু হয় ১৯৯২ এ।
ছাত্র জমিয়ত এত পরে শুরু হওয়ার কারণ হলো, আমাদের মুরুব্বিরা এক সময় ছাত্র রাজনীতি তেমন ভালো চোখে দেখতেন না। কিন্তু পরবর্তীতে সময়ের প্রয়োজনে ছাত্র জমিয়ত কাজ শুরু করেছে। এবং অল্পদিনেরই ছাত্র জমিয়ত অনেক দূর এগিয়ে গেছে। ছাত্র জমিয়তের নেতারা সমাজে গুরুত্ব পূর্ণ অবদান রাখছে। বর্তমানে তিনজন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আছেন যারা ছাত্র জমিয়তের সাবেক দায়িত্বশীল। এবারের ইউপি নির্বাচনেও ছাত্র জমিয়তের সাবেক নেতাদের মধ্যে তেরজন অংশগ্রহন করেছে। ছাত্র জমিয়তের প্রথম সেক্রেটারি মাওলানা শাহিনুর পাশা এক সময় এমপিও ছিলেন।

আওয়ার ইসলাম : সারা দেশে আপনাদের শাখা আছে কতগুলো?
নাসির উদ্দীন খান : সারা দেশে আমাদের ৩৭ টি জেলায় কমিটি আছে। বাকিগুলোতে আহবায়ক কমিটি করা আছে। সেগুলোও অচিরেই পূর্ণ হয়ে যাবে।

আওয়ার ইসলাম : আপনি কোথায় পড়াশুনা করছেন?
নাসির উদ্দীন খান : না আমার ছাত্রত্ব নেই। জমিয়তের সিদ্ধান্ত হলো, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক যে থাকবে সেই হবে ছাত্র জমিয়তের সভাপতি। অথার্ৎ সভাপতি ছাত্রদের মধ্য থেকে হবে না। বাকি সব দায়িত্বশীল ছাত্রদের মধ্য থেকেই হবে।

আওয়ার ইসলাম : অনেকের অভিযোগ আছে আপনাদের জোটে বিদআতি সংগঠন আছে, এ ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কি?
নাসির উদ্দীন খান : আসলে আমরা একটা ইস্যু ভিত্তিক জোট করেছি। এই ইস্যুতে যারা আমাদের সাথে একমত হয়েছে তাদের নিয়ে কাজ করছি। অন্য সংগঠনের ভীতরগত ব্যাপারগুলোর দিকে এখানে লক্ষ্য করা হয়নি।

jomiot-nasir

আওয়ার ইসলাম : ইসলামি অন্য ইস্যুতে তো আপনাদের ঐক্যবদ্ধ দেখা যায় না, এই ইস্যু কেন?
নাসির উদ্দীন খান : অন্য ইস্যু আর ইস্যু এক নয়। বর্তমান ইস্যুটা ছাত্রদের সাথে সম্পৃক্ত। আমরা যেহেতু ছাত্র সংগঠন করি তাই আমাদের উপর দায়িত্বটা একটু বেশি। আর বর্তমানে যে শিক্ষানীতি করা হচ্ছে এটা বাস্তবায়ন করা হলে স্কুল, কলেজ, মাদরাসা সবারই ক্ষতি হবে বলে মনে করি। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে কাওমি মাদরাসা। নিবন্ধনের শর্তের বেড়াজানে মসজিদ ভিত্তিক মক্তব বন্ধ হয়ে যাবে, হেফজ বিভাগ গুলো বন্ধ হয়ে যাবে। এহেন পরিস্থিতিতে আমরা তো আর বসে থাকতে পারি না। তাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নেমেছি।

আওয়ার ইসলাম : বাজেটে হিন্দুদের ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়ে আপনাদের বক্তব্য কি?
নাসির উদ্দীন খান : আমরা অবশ্যই এর তীব্র নিন্দা জানাই। সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলমানের দেশে এমন সিদ্ধান্ত মেনে নেয়ার মত নয়।

আওয়ার ইসলাম : এব্যাপারে কি ছাত্রঐক্যের কোন কর্মসূচি থাকবে?
নাসির উদ্দীন খান : না। এই ইস্যুতে ছাত্রঐক্যের কোন কর্মসূচি থাকবে না। আমাদের এই জোট শুধু মাত্র এই শিক্ষানীতি বিষয়ে। এর বাইরে অন্য ইস্যুতে এই জোট কথা বলবে না। সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমরা যার যার দলীয় ব্যানার থেকে ভূমিকা রাখবো। কর্মসূচি পালন করবো। তবে এব্যাপারে জোটের পক্ষ থেকে কোন কর্মসূচি থাকবে না।

আওয়ার ইসলাম টোয়েন্টিফোর ডটকম / আরআর

সর্বশেষ সব সংবাদ