বৃহস্পতিবার, ০৮ জুন ২০২৩ ।। ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০ ।। ১৯ জিলকদ ১৪৪৪


দ্রব্যমূল্যের ক্রমাগত উর্ধ্বগতিতে ভালো নেই মাদ্রাসা শিক্ষকরা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

|| মুফতি যুবাইর মাহমুদ রাহমানি ||

বর্তমান এই বস্তুবাদী সময়ে সবিশেষ কওমি মাদ্রাসায় যারা পাঠদান করেন, তাদেরকে প্রকৃত 'মুখলিস' না বলে উপায় নেই। জীবিকার লোভনীয় হাজারও পথ থাকার পরও ছাত্র গড়ার অদম্য আগ্রহে যারা রাতদিন মেহনত করেন, তারাই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। মানব গড়ার অনন্য কারিগর। তবে কথা কি, যে জাতি তার মেধাবী ও গুণীজনদের কদর করে না, সে জাতি বড় দুর্ভাগা, হতভাগ্য!

হ্যাঁ, আমি কওমি মাদ্রাসার শিক্ষকদের কথাই বলছি। হালে বাজার যে আগুন লেগেছে, তার আঁচ কওমি শিক্ষকদেরও স্পর্শ করেছে। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্ধ্বগতি, কম বেতন এবং নিয়মিত সঠিক সময়ে বেতন উসুল না হওয়া বিপর্যস্ত করে তুলেছে অনেকের জনজীবন। আশার কথা হচ্ছে, কিছু মাদ্রাসা মুদ্রাস্ফীতির এ কালে উস্তাদদের বেতন বৃদ্ধি করে আদর্শ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তবে তা খুবই অপ্রতুল। এজন্য মাদ্রাসা পরিচালকদের আরও উদার ও মানবিক হতে হবে। যেমন উদার ছিলেন মুফতি রফি উসমানী রহিমাহুল্লাহ মুফতিয়ে আজম পাকিস্তান।

ঘটনা হচ্ছে, একবার নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় তিনি ভাবলেন, উস্তাদবৃন্দের বেতন বাড়াতে হবে। এ কথা ভাবতে গিয়েই মাথায় এল, আচ্ছা বেতন বাড়ালে দেব কোত্থেকে? পরক্ষণে তিনি মনে মনে বললেন, আচ্ছা, এখন যে বেতন তাদের দিচ্ছি, এটা তো আমার বাপের বাড়ি থেকে এনে দিচ্ছি না। বরং আল্লাহই ব্যবস্থা করছেন। সুতরাং বেতন বাড়ালে সেটার ব্যবস্থাও দয়ালু আল্লাহই করবেন। অতঃপর তিনি বেতন বৃদ্ধি করে দিলেন। ঘটনাক্রমে সেদিন একটা টেলিফোন এল, হুজুর আমি আপনার মাদ্রাসায় কিছু টাকা পাঠাতে চাই। হুজুর অনুমতি দিলেন। পরে গুনে দেখা গেল, সেখানে নতুন বৃদ্ধিকৃত বেতন পরিমাণ টাকা পাঠানো হয়েছে। সুবহানাল্লাহ! 

মুফতি সাহেব রহিমাহুল্লাহরই আরেকটি চমৎকার ঘটনা বলে শেষ করছি। দ্রব্যমূল্যের ক্রমাগত উর্ধ্বগতির কারণে কিছু আবাসিক উস্তাদ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ইমামতি নিয়েছেন। বিষয়টি মুফতি সাহেব জানতে পারলেন। তখন তিনি উস্তাদবৃন্দের অর্থ সংকটের কথা চিন্তা করে খুবই দুঃখিত হলেন। এদিকে উস্তাদগণ মাদ্রাসা থেকে বের হলে ছাত্রদের নেগরানিতে সমস্যা। ফলে তিনি মিটিং আহ্বান করলেন। এবং সেই মিটিংয়ে সকল উস্তাদের বেতন দ্বিগুণ করে দিলেন। আল্লাহু আকবর!

এমন উদার, আদর্শিক ও মহান মানুষের জীবন থেকে কি আমাদের কিছু গ্রহণ করার আছে? আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে তাওফিক দান করুন। আমিন।

কেএল/


সম্পর্কিত খবর