198749

শাহরাস্তির কৃঞ্চপুরে কারী বেলায়েত রহ. সড়কের বেহাল দশা: দেখার কেউ নেই

মোস্তফা ওয়াদুদ: চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি থানার ফেরুয়া থেকে কৃঞ্চপুর সড়ক বেহাল দশার কবলে। এজন্য দীর্ঘদিন থেকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে পথচারীদের। সড়কটি নির্মাণের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সংস্কার কিংবা মেরামত না করায় বর্তমানে পুরো সড়কে খানা-খন্দ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি এমনই যে, যেন দেখার কেউ নেই!

সড়কে অসংখ্য খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় ছোট যানবাহন, ছাত্রছাত্রীসহ জনসাধারণের চলাচলে অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসী জরুরি ভিত্তিতে সড়কটি মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেছেন।

জানা যায়, উপজেলার দক্ষিণ সূচিপাড়া ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড এর ফেরুয়া থেকে কৃঞ্চপুর পর্যন্ত সড়কটির নাম ‘শায়খুল কুরআন কারী বেলায়েত রহ. সড়ক’। এর আয়তন প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার।

এ সড়ক দিয়ে শায়খুল কুরআন আল্লামা কারী বেলায়েত রহ. কবর জিয়ারাত এর জন্য দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তাঁর ভক্তকূলবৃন্দ এসে থাকেন। তারা সড়কের বেহাল পরিস্থিতির কারণে যাতায়াতে বেশ দূর্ভোগে পড়েন। কারী বেলায়েত রহ. এর ইন্তেকালের পরই সড়কটির নামকরণ করা হয় ‘শায়খুল কুরআন কারী বেলায়েত রহ. সড়ক’।

সড়কটির বেহাল দশার কারণে এলাকাবাসীর হাটবাজারে কৃষিপণ্য বহনে যেমন অসুবিধা পোহাতে হচ্ছে, তেমনি জরুরি রোগী নিতেও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে রোগীর স্বজনদের। স্কুল কিংবা মাদরাসায় যাওয়া খুদে সোনামনিরাও হোচট খায় কাঁদামাখা সড়কের জোড়ালাইনে। সড়কটি নির্মাণের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সংস্কার কিংবা মেরামত না করার কারণে পুরো সড়কের বিভিন্ন জায়গায় ছোট-বড় শতশত গর্তসহ খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টিতে এসব খানাখন্দ ভরে যায় পানিতে। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষ পড়েন বেশ ভোগান্তিতে।

কৃঞ্চপুর গ্রামের বাসিন্ধা সাদ্দাম (৩০) আফজাল (২০) ও  নয়নসহ আরো অনেকে জানান, সড়কটি দীর্ঘদিন থেকে কোনো কাজ না করায় মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। এটি দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে শাহরাস্তি উপজেলার সূচিপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুর রশীদ আওয়ার ইসলামকে বলেন, ‘বর্তমানে সড়কটি কাঁচা। বর্ষাকালে কিংবা বৃষ্টি-বাদলের দিনে সড়কটিতে চলতে মানুষের অনেক কষ্ট হয়। আমরা ইতিমধ্যে কয়েকবার সড়কটি ব্যক্তিগত উদ্যোগ থেকে সংস্কার করার চেষ্টা করেছি। এক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতা করেছেন স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ্ব আব্দুল মান্নান ভাই। বর্তমানে করোনাকালে ইউপি পরিষদে তেমন টাকা নেই। কালেকশান সেভাবে হচ্ছে না। তারপরও মাননীয় এমপি সাহেবের মাধ্যমে আমরা এর ডিও জমা দিয়েছি। মাননীয় এমপি সাহেব আমাদের সড়কটি পাকা করার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আমরা আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি সড়কটি পূর্ণ সংস্কার করার। আমি ব্যক্তিগতভাবে চেয়াম্যান হওয়ার আগেও এ রাস্তায় অনেক বালুর ব্যাগ ও ইট পাথরের থলি ফেলেছি। আর চেয়ারম্যানের পক্ষে যেহেতু রাস্তা পাকা করার ক্ষমতা নেই তাই আমি পাকা করতে পারছি না। তবে আমি মাননীয় এলজিআরডি মন্ত্রী মহোদয় ও মাননীয় সরকার বাহাদুর এর কাছে আবেদন জানাবো আমাদের এলাকার ‘কারী বেলায়েত সাহেব রহ. সড়ক’সহ আরো অবহেলিত তিনটি সড়ক পাকা করার জন্য তারা জেলার এ বর্ডার এলাকার প্রতি সদয় দৃষ্টি দান করবেন।’

এমডব্লিউ/

 

ads