198126

যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচন: বিশ্ব মুসলিমের জন্য বাইডেনের যত প্রতিশ্রুতি

আওয়ার ইসলাম: আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটারদের টানতে নানা ধরনের কৌশল নিয়ে এগুচ্ছেন প্রার্থীরা। এর মধ্যে প্রধানতম দিক হচ্ছে, মুসলিম সম্প্রদায়কে ট্রামকার্ড হিসেবে ব্যবহার।

যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার মাত্র ১ দশমিক ১ ভাগ মুসলিম রয়েছেন, ঐতিহাসিকভাবে যাদের অবস্থান দেশটির ডেমোক্রেটিক দলের পক্ষে। এটিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ধর্মীয় বিভাজন রেখা টেনে সংখ্যাগরিষ্ঠ খ্রিস্টানদের ভোট টানতে বরাবরই সচেষ্ট থাকে রিপাবলিকানরা।

ফলে এবারের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেট প্রার্থী জো বাইডেন মুসলিমদের ক্ষেত্রে কী প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, সেদিকে সবারই কম-বেশি আগ্রহ রয়েছে। তাহলে জেনে নেয়া যাক, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর দেশটির প্রেসিডেন্ট হলে মুসলিম সম্প্রদায়, দেশ ও অঞ্চল নিয়ে কী ভাবছেন তিনি।

বিভিন্ন সময় নির্বাচনী প্রচারনায় জো বাইডেন ও তার রানিং মেট কমালা হ্যারিসের দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রথমেই নজর দেয়া যাক মধ্যপ্রাচ্যের দিকে। একনায়ক ও কর্তৃত্ববাদী শাসকদের কবলে থাকা অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে মোটাদাগে মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক নীতি অনুসরণের কথা বলেছেন তারা।

বাইডেন মনে করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্বৈরাচারী শাসকদের সঙ্গে তামাশা করে চললে, সৌদি নির্যাতন ক্ষমা করে দিলে, মিশরের প্রেসিডেন্টকে ‘প্রিয় একনায়ক’ সম্বোধন করলে সারা বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের নৈতিক অবস্থান প্রশ্নের মুখে পড়ে এবং বিশ্বব্যাপী অসন্তুষ্টির ঝুঁকি বেড়ে যায়।

এরই অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরবের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের বিদ্যমান সম্পর্ক পর্যালোচনা করার কথা বলেছেন বাইডেন। সেইসঙ্গে ইয়েমেনে দেশটির নেতৃত্বাধীন জোটের যুদ্ধে মার্কিন সমর্থন প্রত্যাহান করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বাইডেনের মতে, ইয়েমেন যুদ্ধ, সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যা, ভিন্নমত ও নারী অধিকারকর্মীদের দমনের মতো ভয়াবহ নীতি অনুসরণে সৌদিকে ‘ব্ল্যাংক চেক’ দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মুসলিম বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী তুরস্কের ক্ষমতা থেকে রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানকে হটাবেন বলে বছর খানেক আগে দেয়া একটি সাক্ষাৎকার সম্প্রতি সামনে আসলেও এ ক্ষেত্রে নতুন কোনো প্রতিশ্রুতি এখনো পাওয়া যায়নি বাইডেনের। ইরানের ক্ষেত্রে এবং ছয় জাতি-গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পাদিত পরমাণ ইস্যুতেও নিজের অবস্থান সেভাবে স্পষ্ট করেননি তিনি।

ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের সমান স্বাধীনতা, সুরক্ষা ও সমৃদ্ধির জন্য কাজ করার কথা জানিয়েছেন জো বাইডেন। এ ক্ষেত্রে প্রত্যেক ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলির জীবনের সমান মূল্যে বিশ্বাসী বলে জানান তিনি।

বাইডেনের মতে, দ্বি-রাষ্ট্রের ভিত্তিতে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের বিদ্যমান সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব। এর মাধ্যমেই ইসরায়েল ও ভবিষ্যতের ফিলিস্তিন রাষ্ট্রে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং উভয় দেশ পারস্পরিক স্বীকৃতির মাধ্যমে সহাবস্থান করবে।

দ্বি-রাষ্ট্রিক সমাধানের সম্ভাবনাকে দুর্বল করতে পারে- কোনো পক্ষের এমন একতরফা যেকোনো পদক্ষেপ, অবৈধ ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের বিরোধিতা করেন বাইডেন। এ ছাড়া প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে ফিলিস্তিনিদের অর্থনৈতিক ও মানবিক সহায়তা পুনর্বহালে দ্রুত পদক্ষেপ, মার্কিন আইন অনুযায়ী শরণার্থীদের সহায়তা, অবরুদ্ধ গাজায় মানবিক সঙ্কট লাঘব, পূর্ব জেরুজালেমে মার্কিন কনস্যুলেট এবং ওয়াশিংটনে প্যালেস্টাইন লিবারেশন অরগানাইজেশনের (পিএলও) মিশন ফের চালু করতে কাজ করবেন তিনি।

লেবাননে দুর্নীতি মুক্তির জন্য এবং স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে দেশটির অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিকাশ ও বাস্তবায়নে সেদেশের নাগরিকদের সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাইডেন। লেবাননের স্থিতিশীলতা রক্ষায় দেশটির সশস্ত্র বাহিনীকে সমর্থন, বৈরুত বিস্ফোরণের ক্ষতি কাটিয়ে উঠা এবং শরণার্থী সমস্যা সমাধানে সহায়তা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি।

এশিয়ার মধ্যে ভারত অধিকৃত কাশ্মিরের বাসিন্দাদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাইডেন। সেখানে গণতন্ত্র দুর্বল করতে ভিন্নমত ও প্রতিবাদ দমনে নিষেধাজ্ঞা ও ইন্টারনেট সেবার বিষয়টি নিয়েও কাজ করবেন তিনি।

আসামে ভারত সরকারের জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি) কার্যকর এবং নাগরিকত্ব (সংশোধন) আইন (সিএএ) পাস করা এবং এর প্রেক্ষাপটে পরবর্তীতে দেশটির নানা পদক্ষেপে হতাশ ব্যক্ত করেছেন জো বাইডেন। মোদি সরকারের এমন পদক্ষেপ ধর্মনিরপেক্ষতা, বহু-জাতি ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও মনে করেন তিনি।

বাইডেনের মতে, চীনের জিনজিয়াংয়ে ১০ লাখের বেশি উইঘুর মুসলিমকে জোরপূর্বক আটকে রাখা অযৌক্তিক। সেখানে বন্দী শিবির পরিচালনার বিরোধিতা করা এবং এর সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে কাজ করবেন তিনি।

মিয়ানমারের সরকারি বাহিনীর নিপীড়নের শিকার হওয়া এবং তাদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করায় দশ লাখের বেশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। সেখানে সংখ্যালঘু মুসলিমদের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও নৃশংসতাকে ঘৃণ্য কাজ মনে করেন বাইডেন। তার মতে, দেশটির এমন কর্মকাণ্ড শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করছে।

-এটি

ads