198085

দ্রোহে ফুঁসছে শিক্ষার্থীরা: সারাদেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা

মোস্তফা ওয়াদুদ: জামিয়া মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসা। চট্টগ্রাম অঞ্চলে গড়ে উঠা এ প্রতিষ্ঠানের প্রভাব ছড়িয়ে আছে দেশ-বিদেশে। ছাত্র সংখ্যার দিক দিয়ে দেশের সবচেয়ে বড় মাদরাসা হাটহাজারী। গত দেড়শো বছরে হাটহাজারী মাদরাসা তিলে তিলে গড়ে তুলেছে লাখ লাখ প্রতিভাবান আলেম। হাটহাজারী মাদরাসার রয়েছে বিশাল গৌরবোজ্জ্বল এক ইতিহাস। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এতদিনের লালন করা সে দেদীপ্যমান উজ্জ্বল ইতিহাস আর টিকে থাকেনি এখন। নানা অনিয়ম ,ছাত্রদের উপর দমন পীড়ন ইত্যাদি বিষয়কেত সামনে রেখে ক্ষোভে ফুঁসছে হাটহাজরীর শিক্ষার্থীরা। হাটহাজারী ছাত্ররা বিক্ষোভ করেছে মাদরাসা মাঠে। গতকাল (১৬ সেপ্টেম্বর) বুধবার বাদ জোহর থেকে হাটহাজারী মাদরাসা মাঠে এ বিক্ষোভের সূচনা করেন হাটহাজারী মাদরাসার বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা।

এরপর গতরাতেই ‘ছাত্রদের দাবির অন্যতম একটি’ মাওলানা আনাস মাদানিকে বহিস্কারের সিদ্ধান্ত আসার পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও আজ আবার বিক্ষোভ শুরু করছে ছাত্ররা। সকালের পর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি এখনো। আজকের বিক্ষোভের সূচনা সম্পর্কে বলা হয়, সকালে হাটহাজারীতে মাদরাসা বন্ধের ব্যাপারে শিক্ষকদের নিয়ে একটি বৈঠক করেন মাদরাসার মহাপরিচালক আল্লামা আহমদ শফী। শিক্ষার্থীরা এ কথা জানতে পেরে পুনরায় জড়ো হতে থাকে মাদরাসা মাঠে। এরপরই বাড়তে থাকে উত্তেজনা। উত্তেজনার রেশ ধরে ডাকসু ভিপি নুরুল হক নূর ঢাবির রাজু ভাস্কর্যের সামনে বিকালে সমাবেশের ডাকও দিয়েছে। বায়তুল মোকাররমেও একটি দলের ব্যানোরে সমাবেশের পোস্টার সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা যাচ্ছে। উত্তেজিত বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা আল্লামা শফির রুমসহ কয়েকজন উস্তাদের রুমে ভাঙচুর চালিয়েছে বলেও জানা গেছে। তবে আজ বৃহস্পতিবার বাদ জোহর থেকে হাটহাজারী মাঠের পরিস্থিতি অনেকটা শান্তর দিকে বলে জানিয়েছেন আমাদের হাটহাজারী প্রতিনিধি।

জানা গেছে , আজ বৃহস্পতিবার বাদ মাগরিব মাদরাসা মাঠে শুরা সদস্যদের মিটিং অনুষ্ঠিত হবে। সে পর্যন্ত ছাত্ররা নিজ নিজ কক্ষে অবস্থান করবেন।

এদিকে একটি বিশ্বস্ত সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ আশঙ্কা রয়েছে। সূত্রটি আরও জানিয়েছে, চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ছুটি হয়ে যেতে পারে হাটহাজারী মাদরাসার সব বিভাগ।

এদিকে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর (শনিবার) শুরু হওয়ার কথা রয়েছে কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ অথরিটি ‘আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ এর কেন্দ্রীয় তাকমিল পরীক্ষা। চলমান এ আন্দোলনের প্রভাব পড়তে পারে পরীক্ষায়ও। হাইয়াতুল উলইয়ার কেন্দ্রীয় পরীক্ষা বাতিল হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

ধারণা করা হচ্ছে, হাটহাজারী মাদরাসা বন্ধ ঘোষণা করা হলে ছাত্ররা ছড়িয়ে পড়বেন সারাদেশে। এতে চলমান আন্দোলন ছড়িয়ে পড়তে পারে দেশব্যাপী।

জানা গেছে, চলমান পরিস্থিতি ও সমস্যা নিরসনে রাজধানী ঢাকার প্রতিনিধিত্বশীল আলেমদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। প্রয়োজনে আলেমদের একটি প্রতিতিনিধিটিম হাটহাজারী যাবেন। তারা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করবেন বলে বিশ্বস্ত সুত্রটি জানিয়েছে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো- হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক আল্লামা শফীর ছেলে মাওলানা আনাস মাদানীকে অনতিবিলম্বে মাদরাসা থেকে বহিষ্কার (যা ইতিমধ্যে কার্যকর হয়েছে), ছাত্রদের প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা বাস্তবায়নে সকল প্রকার হয়রানি বন্ধ, বয়োবৃদ্ধ আল্লামা শফী শারীরিকভাবে অসুস্থ ও চলতে অক্ষম হওয়ায় তাকে মহাপরিচালকের পদ থেকে অব্যহতি দিয়ে উপদেষ্টা বানানো, মাদরাসার শিক্ষক নিয়োগ কিংবা অপসারণের ক্ষমতা মজলিসে শুরাকে প্রদান, বিগত শুরার হক্কানি আলেমদের পুনরায় নিয়োগ এবং শুরা থেকে বিতর্কিত ও চিহ্নিতদের বহিষ্কার।

এমডব্লিউ/

ads