194450

আল্লামা মাহমূদুল হাসান সম্পর্কে বেফাকের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের মিথ্যাচার

রিদওয়ান হাসান।।

বেশ কয়েক দিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভেসে বেড়াচ্ছে বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড-বেফাকের নেতৃবৃন্দের অডিও ফোনালাপ। ফাঁস হওয়া ফোনালাপের ভয়েসগুলোতে আছে প্রশ্নপত্র ফাঁস, বেফাকের খাস কমিটি বাতিল, সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নিয়োগের তদবিরসহ নানা ষড়যন্ত্রের কথা। আজ নতুন করে আল্লামা মাহমূদুল হাসান ও তার প্রতিষ্ঠিত ময়মনসিংহ চরখরিচা মাদরাসা নিয়ে জঘন্য মিথ্যাচারের আলাপচারিতা ফাঁস হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে সমালোচনার ঝড় ওঠেছে। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় পরীক্ষার মেধা তালিকা নিয়ে সিরিয়াল জালিয়াতি, পরীক্ষার মারকাজ নিয়ে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ, স্বজন-প্রীতি, মুরব্বি আলেমদের নামে তুচ্ছ-তাচ্ছিল এবং সহকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাওলানা আবু ইউসুফের বিরুদ্ধে।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাওলানা আবু ইউসুফ ও মহাসচিব মাওলানা আব্দুল কুদ্দুছের ফোনালাপে মিথ্যাচারের একাংশ ছিল এমন-

আব্দুল কুদ্দুছ: আরে মাহমূদুল হাসান সাহেবের মাদরাসাগুলো কোনগুলো?
আবু ইউসুফ: মাহমূদুল হাসান সাহেবের মাদরাসা কোনগুলো তার কোনো হদিসই নাই, কিছু নাই। তার মাদরাসার এখন ৬০০ না কত বাদ গেল, এখন ১২০০ পর্যন্ত পৌঁছাইছে ১৮০০ এর মধ্যে। আর গুলো এমনি এমনি ছুটি গ্যাছে। আমার মনে হয়, যাত্রাবাড়িত তন যেগুলি ছুটি গ্যাছে, সেগুলা চরখরিচায় গ্যাছে। চরখরিচায় ৬/৭জন দাওরা পড়ুন্ন্যা, না ২৯জন দাওরা পড়ুন্ন্যা, কিন্তু এ বছর ১১১জন। গতবার মেশকাতে ২৯ জন আছিল, এবার ১১১ জন।

আব্দুল কুদ্দুছ: শুধু এ বছর চলব আরি, সামনের বছর তো চলত না।
আবু ইউসুফ: আমনের বছর দেখবেন তরজ করি আরো খুলি ফ্যালাইবো।
আব্দুল কদ্দুছ: এগুলা সামনের বছর তো অন্য মাদরাসারটা চলত না আরকি!
আবু ইউসুফ: জ্বি। আচ্ছা আমি দেখবো এগুলা।

আলাপচারিতা সত্যতা যাচাই করতে চরখরিচা মাদরাসায় যোগাযোগ করে জানা গেছে, মাদরাসাটি সম্পর্কে জঘন্য মিথ্যাচার করেছেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাওলানা আবু ইউসুফ। তার কথায়-“গতবছর ২৯ জন আর এ বছর ১১১ জন”। এটি শুধু চরখরিচা মাদরাসার পরীক্ষার্থী সংখ্যা নয়, বরং অন্যান্য যে সব মাদরাসা চরখরিচাকে মারকাজ মেনে পরীক্ষা দিবে, তার সম্মিলিত পরিসংখ্যান। অর্থাৎ চরখরিচাসহ অন্যান্য সব মাদরাসার ছাত্রসংখ্যা মোট ১১১ জন।

ঘটনাপ্রবাহ ছিল অনেকটা এমন, চরখরিচা মাদরাসা থেকে হাইয়া অফিসে নাম জমা দেওয়া হয়, তারা তা গ্রহণ করেনি। তাদের বক্তব্য, চরখরিচাকে মারকাজ দেওয়া যাবে না। অথচ বৃহত্তর ময়মনসিংহের মধ্যে হাইয়ার মারকাজ হওয়ার জন্য যে সব শর্তারোপ করা হয়েছে এবং মারকাজ প্রার্থী হিসেবে যে সব মাদরাসা ফরম ফিলাপ করেছে, চরখরিচা তাদের সবচেয়ে অন্যতম এবং অগ্রগণ্য। এরপরেও তারা বিভিন্ন অজুহাতে চরখরিচাকে মারকাজ না দেওয়ার কথা বলেছেন।

এ বিষয়ে মহাসচিব, সহ-সভাপতির সাথে যোগাযোগ করার পরও কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। গত্যান্তর না পেয়ে চরখরিচা মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা মুরব্বি মুহিউস সুন্নাহ আল্লামা মাহমূদুল হাসানকে বিষয়টি জানালে তিনি সম্ভবত যুবায়ের সাহেবকে এর কারণ জানতে চেয়েছিলেন, কেন চরখরিচাকে মারকাজ দেওয়া হবে না! অথচ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাওলানা আবু ইউসুফ যা বলছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন।

-ওআই

ad