193890

কোরআন ভুলতে বসেছে হিফজ শিক্ষার্থীরা: এই সংকট নিয়ে কী ভাবছেন আলেমরা

সুফিয়ান ফারাবী
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট>

নভেল করোনা ভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে বিশ্বের অধিকাংশ দেশে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ । বাংলাদেশে ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হলে ২০ মার্চের মধ্যে ধীরে ধীরে বন্ধ করে দেওয়া হয় সকল স্কুল কলেজ ইউনিভার্সিটি ও মাদরাসা।

করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় এখন পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে অনড় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। দীর্ঘদিন মাদরাসা বন্ধ থাকায় শিক্ষকরা আশঙ্কা করছেন হিফজুল কোরআন বিভাগের শিক্ষার্থীরা পবিত্র কোরআন ভুলতে শুরু করবে।

আওয়ার ইসলাম হিফজুল কোরআন বিভাগে শিক্ষারত কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলছে। তারা জানিয়েছেন, “আমরা যারা পবিত্র কুরআনের এক তৃতীয়াংশ অথবা এর বেশি মুখস্থ করেছি, তাদের জন্য এই সময়টা চ্যালেঞ্জিং। শত চেষ্টা করেও বাড়িতে বসে আমরা মাদ্রাসার মতো পড়াশোনা করতে পারছিনা। বাড়িতে থাকলে হাজার চেষ্টা করলেও মাদরাসার মত পড়াশোনা হয় না।”

“যারা একটু উদাসীন তাদের অবস্থা খুবই খারাপ। দেখা যাবে কিছুদিন পর তাদের কাছে পবিত্র কোরআন অপরিচিত মনে হতে পারে। কোরআন নিয়মিত পড়তে হয়। আমরা যারা হিফজুল কোরআন বিভাগের সাথে সংশ্লিষ্ট তারা বিষয়টি বুঝি। অন্যরা সহজে অনুধাবন করতে পারবে না।” মনে করেন শিক্ষার্থীরা।

বিষয়টি নিয়ে বেশ চিন্তিত দেশের শীর্ষ আলেমগণ! দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম মনে করেন, করোনা সংকটের এই মুহূর্তে কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশের সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ। তবে পরিস্থিতি যেমনই হোক পবিত্র কোরআন মুখস্তরত শিক্ষার্থীদের বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে ভিন্নভাবে এবং অনতিবিলম্বে হিফজুল কোরআন বিভাগ খুলে দিতে হবে।

বাংলাদেশের শাইখুল হুফফাজ হাফেজ আব্দুল হক বলেন, আমাদের হিফজুল কুরআন শিক্ষাঙ্গন ৪ মাস ধরে বন্ধ। ইতোমধ্যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেছে। এই ক্ষতি সহসায় কাটিয়ে উঠা যাবে না। তাই আর দেরি নয়। যতদ্রুত সম্ভব শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলোতে অন্তত হিফজুল কুরআন বিভাগ চালু করা দরকার।

শিক্ষাবিদ আলেম মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী মনে করেন, সরকারের উচিত বিশেষ প্রয়োজনের দিকে লক্ষ্য রেখে মাদরাসায় শিক্ষা কার্যক্রম চালু করার অনুমতি দেয়া। যেভাবে মসজিদ উন্মুক্ত করে দিয়েছে, একই শর্তে সরকার চাইলে মাদরাসাগুলো খুলে দিতে পারে।

“তবে এর কোন দায়ভার সরকারের উপর বর্তাবে না। সরকার মাদরাসা খুলে দিবে। অভিবাবকরা সিদ্ধান্ত নিবে সন্তানদের মাদরাসায় পাঠাবেন কিনা। মাদরাসা সংশ্লিষ্টদের কাজ হবে সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। সরকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে যদি মাদরাসা খুলে দেয় তাহলে ছোট ছোট বাচ্চাদের স্বাস্থ্যের প্রতি কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই বিশেষ নজর দিতে হবে।” অভিমত মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভীর।

জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার প্রিন্সিপাল ও বেফাকের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, হিফজুল কোরআন বিভাগের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া এর শিক্ষা কার্যক্রম, পদ্ধতি এবং ধারাবাহিকতার প্রয়োজনীয়তা কেউ বুঝবে না। এ বিষয়টি একেবারে ভিন্ন। সুতরাং অবশ্যই আলাদা সিদ্ধান্ত হতে হবে।

“আমি তো মনে করি দুইদিন নয়, আগামীকাল শনিবার থেকেই দেশের সকল হিফজুল কোরআন বিভাগ খুলে দেয়া দরকার।”

বাংলাদেশের হিফজুল কোরআন বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রতিবছর আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করে শতভাগ সফলতা সাথে বাড়ি ফিরে। দেশের সীমানা পেরিয়ে বহির্বিশ্বের মুসলিম দেশগুলোর লোকমুখেও তাদের জয়গান। সফলতার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে সরকারের বেঁধে দেয়া সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাকার্যক্রম চালু করতে প্রস্তুত আন্তর্জাতিক মানের এ সকল প্রতিষ্ঠানগুলো।

মারকাজুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনালের পরিচালক হাফেজ নেছার আহমদ নাসিরী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান উন্মুক্ত করার অনুমতি পেলে আমরা শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নিতে পারব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিকট আমাদের আবেদন থাকবে, তারা প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞদের দ্বারা যাচাই করে বাংলাদেশের সকল হিফযুল কুরআন মাদরাসাগুলোতে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করার অনুমতি দিবেন।

করোনা সংকট কাটিয়ে সারাবিশ্ব আবার সুস্থ হয়ে উঠবে। ‌ সকল ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম সাধারণ ভাবে চলতে শুরু করবে। রাত তিনটা থেকে সারাদেশে একসঙ্গে উচ্চারিত হবে পবিত্র কোরআনের সুর-এমনটাই প্রত্যাশা দেশের সকল ধর্মপ্রাণ মুসলমানের।

-এএ

ad