193403

বিশ্বজুড়ে নানান ধরণের ভাষার রহস্য

মূলঃ ড. ইয়াসির কাদি।।
অনুবাদ: সোহান বিন হোসেন>

আধুনিক বিজ্ঞানের অন্যতম রহস্য ভাষা, বিশেষত বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানের একটি আলোচিত বিষয় কেবল মানুষের ভাষার উৎপত্তি নিয়ে। বিষয়টির একজন বিখ্যাত লেখক বার্নার্ড ক্যাম্পবেল স্পষ্টভাবে বলেছিলেন ‘ভাষা কখন এবং কিভাবে উৎপত্তি লাভ করেছে আমরা মোটেও জানিনা এবং জানতেও পারবনা।

সম্প্রতি, অন্যতম সেরা রাজনৈতিক ভাষ্যকার নোয়াম চমস্কি যাঁর প্রকৃত দক্ষতা ছিল ভাষাতত্ত্ব, তিনি প্রস্তাব দিয়েছেন যে ভাষা আমাদের পূর্বপুরুষদের মধ্যে হঠাৎ এবং অনিবার্য জিন পরিবর্তনের ফলাফল হিসাবে এসেছে।

অন্য কথায়, তিনি দাবি করেন যে ভাষা ব্যাখ্যা করার একমাত্র উপায় বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানের সাধারণ উপায়গুলির মাধ্যমে নয়, যেখানে ক্রমবর্ধমান ভাবেই পরিবর্তনগুলি ঘটে এবং ধীরে ধীরে একটি বৈশিষ্ট্য বিকশিত হয়। যেহেতু ভাষাগত দক্ষতার দিক থেকে মানুষের ধারেকাছে আসে এমন প্রজাতির কোন প্রাণীর অস্তিত্ব পৃথিবীতে নেই, তাই এটা সুস্পষ্ট যে এই নি’আমত মানুষকে অসাধারণত্ব দিয়েছে।

আমাদের মধ্যে ‘কিছু’ অবশ্যই ঘটেছে যা অন্য কোনও প্রাণীর মধ্যে ঘটেছিল না। বিশ্ববিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী, স্টিভেন পিংকার যিনি শিশুদের ভাষা বোঝার দক্ষতার উপর জোর গবেষণা চালিয়েছেন এবং দাবি করেছেন যে ভাষা মানুষের মধ্যেকার সহজাত বৈশিষ্ট্য অথচ এই সহজাত বৈশিষ্ট্য কীভাবে এসেছে তার বাস্তবিক কোন ব্যাখ্যা না করেই।

এই সমস্ত কিছুর মধ্যে আকর্ষণীয় একটি নি’আমত যা কুরআনে সুস্পষ্টরূপে উল্লেখ করা হয়েছে, যে স্রষ্টা আদম (আঃ) কে দান করেছেন তা হল ভাষা। وَ عَلَّمَ آدَمَ الْأَسْماءَ كُلَّه এবং তিনি আদমকে সমস্ত কিছুর নাম শিখিয়েছেন (২: ৩১)

وَ مِنۡ اٰیٰتِہٖ خَلۡقُ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضِ وَ اخۡتِلَافُ اَلۡسِنَتِکُمۡ وَ اَلۡوَانِکُمۡ ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیٰتٍ لِّلۡعٰلِمِیۡنَ আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে আসমান ও যমীনের সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও তোমাদের বর্ণের ভিন্নতা। নিশ্চয় এর মধ্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে জ্ঞানীদের জন্য। (৩০:২২)

প্রকৃতপক্ষে, আমাদের কথা বলার স্বক্ষমতা এবং আমাদের ভাষার বৈচিত্র্য, আমাদের স্রষ্টার অস্তিত্বের একটি সুস্পষ্ট নিদর্শন।
সূরা আর রাহমান এ আল্লাহ মানব জাতিকে যে নিয়ামত দান করেছেন তা উল্লেখ করেছেন, الرَّحْمَٰنُ (1) عَلَّمَ الْقُرْآنَ (2) خَلَقَ الْإِنسَانَ (3) عَلَّمَهُ الْبَيَانَ (4)

১) পরম করুনাময়, ২) তিনি শিক্ষা দিয়েছেন কুরআন, ৩) তিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষ, ৪) তিনি তাকে শিখিয়েছেন ভাষা। (৫৫ঃ১-৪)
আধুনিক বিজ্ঞান দ্বারা ভাষা ব্যাখ্যা করা যায় না, কারণ এটি ছিল সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য এবং সমস্ত সৃষ্টিকুলের মধ্যে শুধুমাত্র আমাদেরই জন্য নিয়ামত। সুতরাং; তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অনুগ্রহকে অস্বীকার করবে?

ad