192603

মহানবীর সুসংবাদপ্রাপ্ত ইস্তাম্বুল বিজয়কে উসমানীয় দখলদারিত্ব আখ্যা দিল মিসর দারুল ইফতা

বেলায়েত হুসাইন ।।

সম্প্রতি মিসরের রাষ্ট্রীয় ইফতা বিভাগ ‘মিসর দারুল ইফতা’ তাদের ওয়েবসাইটে ১৮১১ শব্দের দীর্ঘ একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে সিসি-সরকারের অনুগত দারুল ইফতা বরাবরের মতো সুযোগে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়িব এরদোগানকে কঠিন আক্রমণ করেছে। শুধু এতেই খ্যান্ত দেয়নি জালিম সরকারের মদদপুষ্ট ইফতা বিভাগটি; মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুসংবাদপ্রাপ্ত ঐতিহাসিক
কনস্টন্টিনোপল (ইস্তাম্বুল) বিজয়কে উসমানী শাসকদের দখলদারিত্ব আখ্যা দিয়েছে তারা।

‘ওয়ার্ড ফতোয়া ইনডেক্স’ নামের ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, তুরস্কে নিজের ক্ষমতার স্তম্ভগুলো মজবুত করতে এবং বহির্বিশ্বে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারে প্রেসিডেন্ট এরদোগান ‘ফতোয়ার অস্ত্র’ ও ‘ধর্মীয় পরিভাষা’ ব্যবহার করছে।

একইসঙ্গে মিসর দারুল ইফতা পৃথিবীর সবশেষ ইসলামি খেলাফত উসমানী শাসনব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করেছে, তাদের দাবি, উসমানী সাম্রাজ্য ১৪৫৩ সালে ইস্তাম্বুলকে অবৈধভাবে দখলে নিয়েছে। দখলদারিত্বের বর্ণনা দিয়ে কথিত দারুল ইফতা বলেছে, নির্মাণের ৯১৬ বছর পরে বিখ্যাত আয়া সোফিয়াকে গির্জা থেকে মসজিদে রূপান্তর অন্যতম দখলদারিত্ব। পরে অবশ্য ১৯৩৪ সালে প্রজাতন্ত্র তুরস্ক প্রতিষ্ঠার পর আয়া সোফিয়াকে জাদুঘরের রূপ দেয়া হয়েছে।

সৌদি আরব, মিসর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতৃত্বাধীন আরব দেশসমূহের সমর্থিত অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল খলিফা হাফতারের মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে লিবিয়ার বৈধ সরকার গভর্মেন্ট অব ন্যাশনাল এক্রোডের সহায়তা করার জন্যও এরদোগানের এক হাত নিয়েছে মিসর দারুল ইফতা।

এপ্রসঙ্গে বিবৃতিতে তারা বলেছে, বর্বরতা চালাতে তুরস্ক কয়েক হাজার ভাড়াটেকে ত্রিপোলিতে প্রেরণ করেছে। মুসলিম ব্রাদারহুডের সন্ত্রাসীদের সহযোগিতার জন্য অসংখ্য ‘মুফতি’কে নিয়োগ করেছে এরদোগানের নেতৃত্বাধীন তুরস্ক সরকার।

কিন্তু ‘ওয়ার্ড ফতোয়া ইনডেক্স’ প্রকাশের পরপরই দারুল ইফতার সমালোচনায় ফেটে পড়েছেন স্বয়ং মিসরের একাধিক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও স্কলার। তারা বলছেন, ইস্তাম্বুল বিজয়কে দখলদারিত্ব আখ্যায়িত করে ক্ষমার অযোগ্য ভুল করেছে মিসর দারুল ইফতা।

মিসর সংসদের ধর্মীয় কমিটির উপ-সচিব এবং ধর্মমন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা শেখ মুহাম্মদ আস-সাগীর দারুল ইফতার ওই বিবৃতির প্রতিবাদ করে বলেছেন, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একাধিক হাদিসে যেই শহর এবং শহরের বিজয় সম্পর্কে সুসংবাদ প্রদান করেছেন, সেই ব্যাপারে এরূপ বক্তব্য প্রদান অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ও কুৎসিত আদর্শের অনুগামী হওয়ার প্রমাণ। কেননা, আমাদের নবী হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অবশ্যই কনস্টন্টিনোপল বিজয়ী হবে, কতই না উত্তম ওই যুদ্ধের সেনাপতি এবং কতই না উত্তম ওই যুদ্ধের সৈন্যরা: (মুসনাদে আহমাদ)

শেখ মুহাম্মদ আস-সাগীর আরও বলেছেন, মিসর দারুল ইফতা পুলিশের দায়িত্ব পালন করছে, ফিকহি বিষয়ের সমাধান দেয়ার পরিবর্তে তারা রাজনৈতিক আলাপ-আলোচনা নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে। এর প্রমাণ হল, তারা সব মুসলিম দেশগুলোকে বাদ দিয়ে অব্যাহতভাবে তুরস্ককে দোষারোপ করে এবং তাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রধান জায়গা প্রেসিডেন্ট এরদোগান।

এছাড়াও, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে অনলাইন এক্টিভিস্টগণ এক সময়ের আস্থাশীল ফতোয়া বোর্ড মিসর দারুল ইফতার নানাভাবে নিন্দা জানাচ্ছেন। একটি বৃহৎ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কিভাবে এতো অবনতি হয় বিশেষজ্ঞদের সেটা বোধগম্যই হচ্ছেনা। তারা দাবি করছেন, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কুক্ষিগত করার মতো ধর্মীয় অঙ্গনকেও নিজের অনুগত রাখতে আব্দুল ফাত্তাহ আল সিসি ফতোয়া প্রদানে দারুল ইফতায় হস্তক্ষেপ করছেন।

সূত্র: আল জাজিরা আরবি

ads