191639

মুফতি সাঈদ আহমাদ পালনপুরী রহ. এর সর্বশেষ বাংলাদেশ সফর

মাওলানা আজিম উদ্দীন ।।

মুফতি সাঈদ আহমাদ পালনপুরী রহ. এর সর্বশেষ বাংলাদেশ সফর, ছোটদের প্রতি বড়দের স্নেহের এক উজ্জল নমুনা। হযরত প্রায় ৭ বছর পর বাংলাদেশে এসেছিলেন। শুধু একটি মজলিশের জন্য। ‘ঢাকা মাসনা মাদরাসা’-এর ইফতিতাহি মজলিশের কথা বলছি। ৭ সফর ১৪৩৯হি./২৭ অক্টোবর ২০১৭ জুমাবার। দিনটি আজ শুধুই স্মৃতি।

‘ঢাকা মাসনা মাদরাসা’-এর পরিচালক উসতাযে মুহতারাম মুফতি ইয়াহইয়া হাফি. ভাবছেন, ইফতিতাহী মজলিশে হযরত পালনপুরী হুজুরকে দাওয়াত দিবেন।

শুনে অসম্ভবই মনে হচ্ছিলো। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছা। অসম্ভব মনে হলেও আল্লাহ যা চান তা-ই হয়। হযরত দাওয়াত কবুল করলেন এবং বললেন, আমি শুধু তোমার মাদরাসার উদ্দেশ্যেই আসবো।

হযরত দাওয়াত কবুল করেছেন শুনেতো আকাশ থেকেই পড়লাম। যেই শুনে সেই আশ্চর্য হয়, কেউ-ই বিশ্বাস করতে চায় না। কারণ, হযরতের উসুল হলো দরস চলাকালীন কোথাও সফর করেন না।

হযরত সাধারণত শুধু রমযানেই সফর করেন। হুজুর দাওয়াত কবুল করলেন এভাবে, বৃহস্পতিবার দরস শেষ করে বাংলাদেশে আসবেন আবার শনিবার দেওবন্দ ফিরে দরস করাবেন।

ছোটদের প্রতি বড়দের স্নেহের এক উজ্জল নমুনা সেদিন দেখেছি। বড়দের জীবনে আমাদের শেখার অনেক কিছুই আছে। শারীরিক দুর্বলতা, নানা অসুস্থতা সত্তেও শুধু একজন তালিবুল ইলমের মুহাব্বতে অল্প সময়ের জন্য এতদূরের সফর করলেন তিনি।

শুনেছিলাম হযরত বাংলাদেশে আসার আগের দিন আসরের পরের মজলিশে কোন এক সাথীকে বলেছিলেন, আমার এক আযীয (প্রিয় মানুষ) আমাকে দাওয়াত দিয়েছে তাই আমার এ সফর।

প্রাসঙ্গিকভাবে মনে পড়ে গেলো আরেকটি স্মৃতি। যশোর মাসনা মাদরাসায় যে বছর প্রথম দাওরা হাদিস খোলা হয়। ১৪২৬হি./২০০৫ সালের কথা। তখনও পালনপুরী হুজুর শুধু যশোর মাসনা মাদরাসার উদ্দেশ্যেই একদিনের জন্য বাংলাদেশে এসেছিলেন। সে ছিলো এক দীর্ঘ ইতিহাস।

বলছিলাম সর্বশেষ সফরের কথা। জুমার দিন সকাল থেকে রাত প্রায় ১২ টা পর্যন্ত হযরত ঢাকা মাসনায় ছিলেন। হযরতকে ঘিরে কতো আয়োজন, কত আলেম উলামার আগমন। সেদিন ঢাকা মাসনায় হয়েছিলো বড়দের এক মিলনমেলা। দেশের শীর্ষ মুরুব্বীদের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

সে দিনটি ছিলো ‘ঢাকা মাসনা মাদরাসা’র এক স্মরণীয় দিন। আজ সেই সোনালি দিনটির কথা খুব বেশি মনে পড়ছে। মনে পড়ছে সে দিনের বিশেষ কিছু মূহর্তের কথা। কে জানতো সে দিনটিই ছিলো হযরতের বাংলাদেশের শেষ দিন। সেটিই ছিলো শেষ আগমন।

আজ এখানেই থাক। কখনো সুযোগ হলে সেদিনের বিশেষ অনূভব-অনূভুতি ও স্মৃতি নিয়ে কিছু লেখার ইচ্ছা আছে ইনশাআল্লাহ।
সর্বশেষ সকলের কাছে হযরতের জন্য দোয়া চাই।

হুজুরের জন্য আমরা সবাই সাধ্য অনুযায়ী ইসালে সওয়াব করি। আল্লাহ হযরতকে জান্নাতুল ফিরদাউস-বাসী করেন। হযরতের পরিবারবর্গসহ সমগ্র মুসলিম বিশ্বকে সবরে-জামিলের তাওফিক দান করেন। আমীন

-এটি

ad