191406

ইসলাম ও সংস্কৃতি ভাবনা

মুফতী নাজমুল হুদা নুমানী।।

ইসলাম ধর্মের নিজস্ব সংস্কৃতি তথা জীবনাচার আছে, কিন্তু নির্দিষ্ট সংস্কৃতি তথা জীবনাচার নেই, ইসলামী সংস্কৃতি-জীবনাচার ঈমানী আদর্শভিত্তিক বহুমাত্রিক বিশ্ব সভ্যতার নাম।

শিরক – নাস্তিকতা এবং হারামের উপাদানমুক্ত তাওহিদ- রিসালাত- আখেরাত-হালালের উপাদানযুক্ত হয়ে রুপ- প্রকৃতি- ধরনে যতই ভিন্ন হোক, এমন সকল সংস্কৃতি- সভ্যতাই ইসলামী সংস্কৃতি – সভ্যতা হিসেবে গণ্য৷

এ ভিত্তিতেই আরব- ইরান- ভারত- আফ্রিকা-ইউরোপ-অষ্ট্রেলিয়া-এন্টার্কটিকার জীবনাচার কোন কালে এক ছিলনা,আজও নেই, ভবিষেৎও হবেনা।

কারন ইসলাম তার সভ্যতা-সংস্কৃতির মুলনীতি দিয়েছে কিন্তু সুনির্দিষ্ট রুপ দেয়নি৷বরং রুপ- প্রকৃতি- ধরন এই শাখা গুলোকে সে স্হান-কাল-পাত্রভেদে ভিন্ন হবে বিধায় মুলনীতি নির্ধারণ করে রুপ- ধরনকে জনগণের হাতে ছেড়েদিয়েছে।

এটাই ইসলামের প্রশস্হতা এবং উদারতা,যার কারণে ইসলাম কখনোই উক্তমুলনীতি মেনে গড়ে ওঠা আরব সভ্যতাকে বিশ্ব মুসলিমের উপর চাপিয়ে দেয়নি।

বরং ইসলাম পৃথিবীর যেখানে গিয়েছে সেখানকার সভ্যতা- সংস্কতিকে উক্তমুলনীতির আওতায় এনে আপন করে নিয়েছে৷যার কারণে একমাত্র ইসলামই বিশ্বকে উপহার দিতে পেরেছে এক ঈমানী আদর্শভিত্তিক বহুমাত্রিক বিশ্বসভ্যতা।

সাহাবাদের দ্বারা গড়ে ওঠা আরব সংস্কৃতি-সভ্যতাই একক ইসলামী সংস্কৃতি -সভ্যতা নয়,বরং তা ইসলামী সংস্কৃতি- সভ্যতার একটি সর্বশ্রেষ্ঠ অংশ,ইসলামী সংস্কৃতি ব্যাপক- বিস্তৃত- বিশাল পরিধির এক ঈমানী আদর্শভিত্তিক বহুমাত্রিক বিশ্ব সভ্যতার নাম৷

যেমনিভাবে ইসলামী লেবাস বলতে নির্দিষ্ট কোন লেবাস নেই ,বরং কাপড় পাতলা না হওয়া, টাইটফিট না হওয়া,বিধর্মীর পোষাকের সাদৃশ্য না হওয়া,এই তিন মুলনীতি মেনে রুপ-প্রকৃতি- ধরনে যতই ভিন্নতা হোকনা কেন,তার সবই ইসলামী পোষাক৷

লেখক: প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল ও প্রধান মুফতী মারকাযুল ফিকহ আল-ইসলামী বাংলাদেশ,ঢাকা

-এটি

ad