191409

আসুন! মেয়ের বাড়ীতে পাঠানো ইফতারি নামক প্রথাকে না বলি

শাহ ইমতিয়াজ আহমেদ ।।

ইফতার সুন্নত। রোজাদার কোন ব্যাক্তিকে ইফতার করানো নিঃসন্দেহে ছওয়াবের কাজ। পুরো দিন কোন ব্যক্তি রোজা রেখে ইফতারের মাধ্যমে যে ছওয়াব অর্জন করেন, ঠিক সমপরিমাণ ছওয়াব সে অর্জন করতে পারে অন্য রোজাদার মানুষকে ইফতার করানোর মাধ্যমে।

যদি আমাদের কারো সামর্থ থাকে এবং কোন রোজাদার ব্যক্তিকে ইফতার করানোর সুযোগ পাই, তাহলে, সুযোগটি আমাদের কাজে লাগানো উচিত। কিন্তু আমাদের সমাজে এই সুযোগটিকে অনেকে লোক দেখানো, নাম কামানো তে ব্যবহার করেন। যা খুবই দুঃখজনক।

বিশেষ করে সিলেট ও চট্রগ্রাম বিভাগে মেয়ের বাড়িতে ‘ইফতারী‘ দেয়া একটি ব্যাধিতে রুপান্তরিত হয়ে গেছে। এখানে একটি প্রথা প্রায় চালু আছে যে, কারো সামর্থ থাকুক আর না-ই থাকুক, প্রতি বছর রমজান মাস আসলে মেয়ের বাড়ীতে ইফতারী পাঠাতেই হবে। না দিলে যেন ইজ্জত যায়! অর্থাৎ এখানে ইফতার দেয়াকে সামাজিক দ্বায়িত্ব এবং গ্রহন করাকে গৌরবের বিষয় ভাবতেছে। এমন কি এই কভিড-১৯ এর এই করুণ সময়েও এই প্রথা চালু রয়েছে।

রমজানের মাস সংযমের মাস।এ মাসে আমাদের সকল প্রকার খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকতে হয়। আমাদের ভেবে দেখা উচিত, আমরা কতটুকু তা করছি বা করতে চেষ্টা করছি। আমাদের সমাজে সিংহভাগ মানুষ নিন্ম-মধ্যবিত্ত অথবা দরিদ্রসীমার নীচে বাস করে। সমাজের এই মানুষগুলোই ইফতারী দেয়ার প্রথাকে সম্পাদন করতে কত যে হিমসিম খায় – তা ভেবে দেখা উচিত। আমাদের সমাজে উচ্চ বিত্ত অথবা মধ্য বিত্তরা এই ইফতারী প্রথা বাস্তবায়ন করতে মেয়ের বাড়ী ইফতার পাঠায় তখন ছওয়াব থাকে গৌন।

এখানে স্বামীর বাড়ী মেয়ের ইজ্জত বৃদ্ধিসহ জামাই, শশুর,শাশুড়িকে বেশী খুশী করতে যতটুক ইফতারী প্রয়োজন তার চেয়ে তিন-চারগুন বেশী ইফতারী নিয়ে মেয়ের বাড়ীতে অনেকে হাজির হন। স্বাভাবিক ভাবেই এইসব ইফতারী বহন করতে ঠেলাগাড়ি থেকে শুরু করে ট্রাক পর্যন্ত ব্যবহার হয়। অভিজ্ঞতায় দেখেছি, এই ঠেলা গাড়ি, ট্রাক ইত্যাদি মূলত জামাইর বাড়ির আশপাশের লোক দেখানোর জন্য-ই করা হয়ে থাকে।

এইতো দুইদিন আগেই আমাদের পাশের বাড়িতে ইফতারি আসল এক টমটম (বিদ্যুৎ চালিত অটো রিক্সা) পরিপূর্ণ করে।

টাকা আছে বলে ইফতারি আনতে বা দিতে হবে! না তাও না। কারণ আপনার টাকা আছে বলে আপনি দিচ্ছেন কিন্তু আপনাকে দেখে আপনার আশপাশের পরিবার হয়তো তাদের ঘরের বউকে চাপ দিবে তার গরীব বাপকে ইফতারি দিতে বাধ্য করতে।

আমরা যারা ইফতারী প্রথা সমর্থন করি, এটাকে সমাজে বেশ ভালো ভাবেই প্রচলন রেখেছি । সর্বপরি মেয়ের জামাইর বাড়ীর অন্যায় আবদার বা মেয়ের বাড়ীর লোকজনকে খুশী রাখতে কাজটি করছি। তারা কি একবার ভেবে দেখেছেন যে, আমাদের আশপাশের হতদরিদ্র কন্যার বাবা বা অন্যদের কী রকম মানষিক,আর্থিক ও সামাজিক বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছি??

এখন ইফতারি নিয়ে যা চলে তা বলার বাহিরে। এই রহমতের মাসটিতে অশান্তিতে আর দুঃখে থাকতে হয় অধিকাংশ পরিবারকে।

আশ্চর্য্যের বিষয় হল সিলেট বাংলাদেশের মধ্যে টপ মডেল শহর হলেও তারাই বেশি এই কুসংস্কারে আক্রান্ত। শুধু এইটা না প্রায় সব কুসংস্কারেই সিলেট বিভাগে আগে পাওয়া যায়। তার পরেই চট্রগ্রাম।

আল্লাহ তায়ালা পূন্যভূমি সিলেট এবং চট্টগ্রামসহ সারা দেশকে এবং দেশের মানুষকে এরকম সব রকম কুসংস্কার থেকে দূরে রাখুন।

লেখক: শিক্ষার্থী মাদরাসাতুল হারামাইন, বানিয়াচং।

ওআই/আবদুল্লাহ তামিম

ad