190709

প্লিজ, শপিংমল খোলার সিদ্ধান্ত পুণর্বিবেচনা করুন

মুহাম্মদ ছফিউল্লাহ হাশেমী।।

চলতি মে মাসে দেশে করোনাভাইরাসে সংক্রমণের হার সর্বোচ্চ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, এ মাসের তৃতীয় সপ্তাহ নাগাদ দেশে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগী যেমন বাড়বে তেমনি বাড়বে মৃত্যুও।

বিশ্বব্যাপী মহামারি রূপ নেয়া করোনাভাইরাস থেকে বাঁচার অন্যতম উপায় নিজেকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা বা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) প্রথম থেকেই সামাজিক দূরত্ব বজার রাখার উপরে গুরুত্ব দিয়ে আসছে। প্রথম থেকেই মানুষকে নিজেদের বাড়িতে আলাদা রাখার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বিশেষজ্ঞরা বারবার জানিয়েছেন, নভেল করোনা ভাইরাস রুখতে সবচেয়ে বড় সমাধানই হল সামাজিক দূরত্ব। এর দ্বিতীয় কোনো উপায় নেই।

এরই মধ্যে দেশে সাধারণ ছুটি শিথিল, পোশাক কারখানা, রেস্টুরেন্ট খুলে দেয়ার কারণে পাড়া-মহল্লার দোকানপাট প্রতিদিন ব্যাপক হারে খুলছে। এতে করে সংক্রমণ বাড়বে তাতে কোনোই সন্দেহ নেই। স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রধান অধ্যাপক ডা. শাহ মনির হোসেন লকডাউন শিথিলের পর পরিস্থিতি কী হতে পারে- এমন প্রশ্নে একটি দৈনিককে বলেছেন, গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত খারাপ হয়েছে। কারণ হাজার হাজার কর্মীর সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।

এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি শর্তে আগামী ১০ মে থেকে সীমিত আকারে সকাল ১০ টা হতে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সারা দেশের শপিংমল, মার্কেটগুলো খোলা রাখা যাবে জানিয়ে জননিরাপত্তা বিভাগ, সুরক্ষা সেবা বিভাগ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সব বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদের সোমবার নির্দেশনা পাঠিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

আমরা দেখেছি, দেশে প্রশাসন দিন-রাত চেষ্টা করেও মানুষের চলাচল খুব বেশি একটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারি, ডাক্তার, পুলিশ, সাংবাদিকসহ অনেকেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। বাদ যায়নি এমপি, ইউএনও, এসিল্যান্ডসহ উপজেলা-জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও। তাই দেশে এখনো দোকান-পাট ও শপিংমল খোলার সময় আসেনি। কেন সরকার এই রকম মারাত্মক একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলো?

আমাদের মনে রাখা উচিত, জীবনের চেয়ে শপিংমল বড় নয়। ঈদে শপিং অত্যাবশ্যকীয় কোনো বিষয়ও নয়। এ শপিং করতে গিয়ে মানুষ কতোটুকু সামাজিক ও শারীরিক দুরত্ব বজায় রাখতে পারবে, এটা সম্পূর্ণ প্রশ্নবিদ্ধ। শপিংমল, মার্কেট না খুললে কিছু ব্যবসায়ী সাময়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে, আর খুললে অসংখ্য মানুষ করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি হবে।

তাই সরকারের কাছে অনুরোধ, শপিংমল, মার্কেট, হাট-বাজার খুলে দেয়ার এই সিদ্ধান্ত পুণর্বিবেচনা করুন। না হয় দেশ-জাতিকে এজন্য চরম মূল্য দিতে হতে পারে। বাংলাদেশে করোনা মহামারী এমন ভয়াবহ পর্যায়ে চলে যেতে পারে, যাকে নিয়ন্ত্রণ করা কিছুতেই সম্ভব হবে না।

লেখক: প্রাবন্ধিক ও কলেজ শিক্ষক

ওআই/আবদুল্লাহ তামিম

ad