189825

লকডাউনের সময়গুলো আপনি যেভাবে মহামূল্যবান করে তুলবেন

মূল: শায়েখ ড. আহমদ আলী সিরাজ
অনুবাদ: হুসাইন মাহমুদ।।

এ কঠিন করোনার সময় আপনার সময় কীভাবে অতিবাহিত করবেন। আপনার সময়গুলো কিভাবে মহামূল্যবান করে তুলবেন, এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ-নসিহত করেছেন মদিনায় মুনাওয়ারার বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ ড. আহমদ আলী সিরাজ হাফিজাহুল্লাহ।

বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাস আমাদেরকে লকডাউন করতে বাধ্য করেছে, নারী-পুরুষ শিশু প্রত্যেকে নিজেকে নিজে রক্ষা করার জন্য ঘর বন্দি হয়ে আছে।

এ সময়টাতে বেশি বেশি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে নিজেকে রুজু করা… বর্তমান এ পরিস্থিতিতে আমরা সকলেই জানি যে, আমাদের স্বাভাবিক কোন ব্যস্ততা নেই।

এখন আমরা প্রত্যেকেই অবসর সময় পাড় করছি, আমাদের হাতে সুযোগ রয়েছে অনেক। সব সময় এমন সুযোগ আমরা খুবই কম পাই, আর পেলেও অবসর মুহূর্তে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের দিকে নিজেকে মনোনিবেশ করার সুযোগ হয়না তেমন একটা।

নবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দুটি নেয়ামত এমন অধিকাংশ মানুষ তার মূল্যায়ণ করে না। এক. সুস্থতা দুই. অবসর সময় (সহিহ বুখারি -৬৪১২) এজন্য, অবসর সময়কে আরও মূল্যবান করা আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

নবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন লোককে উপদেশ দেওয়ার সময় বলেছিলেন পাঁচটি জিনিসের আগে পাঁচটি জিনিসকে সম্পদ গণিমত মনে করতে হবে।

১. বার্ধক্যের পূর্বে যৌবনকালকে। ২ .অসুস্থতার পূর্বে সুস্থতাকে ৩. কারো মুখপেক্ষি হওয়ার পূর্বে সম্পদকে। ৪. ব্যস্ততার পূর্বে অবসর সময়কে। ৫. মৃত্যুর পূর্বে জীবিত থাকাকে মূল্যায়ন করো (নাসাঈ সুনানুন কুবরা -হাদিস ১১৮৩২)

সুতরাং অবসরকালীন এ বিশেষ দিনগুলির সাথে আমার বিশেষ কিছু নসিহত উপস্থাপন করার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ! যাতে সৌভাগ্যবান ব্যক্তির জন্য এ নসিহতগুলো আমল করার তাওফিক হয়।

(১) হোম কোয়ারেন্টের এ সময়গুলোতে সব ধরণের গুনাহ থেকে নিজেকে হিফাজত করা। গায়রে মাহরাম নারীদের সাথে দেখা থেকে নজর হিফাজত করা। গান, বাদ্য শুনা থেকে বিরত থাকা , ঘরে ছবি ঝুলানো, ছবি রাখা এবং সমস্ত অশ্লীলতা এবং গুনাহ থেকে নিজেকে বিরত রাখা।

(২) অযথা কথা-বার্তা এবং পর্যালোচনা এড়িয়ে চলা। (৩) সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করা থেকে নিজকে এবং পরিবারকে বিরত থাকার ব্যবস্থা করুন।

(৪) গবেষণা ব্যতীত কোনও সংবাদ অপরের নিকট শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন। (৫) সমাজে সন্ত্রাস ও ভয় ছড়িয়ে পড়া থেকে বাঁচার ব্যবস্থা করুন। (৬) ছয় থেকে আট ঘণ্টার বেশি ঘুমানো থেকে বিরত থাকা চেষ্টা করা।

(৭) সর্বদা মেবাইল-ফোন ব্যবহার এবং শুয়ে থাকা অবস্থায় মোবাইল ব্যবহার করা, গেইম খেলা থেকে বিরত রাখা।

যে কাজগুলো করবেন

(১) পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে বাড়িতে পড়ার ব্যবস্থা করুন, মাসনুন-নফল তাহাজ্জুদ,এশরাক-চাশত ও আওয়াবিন পড়ার পরিবেশ তৈরি করুন। (২) নামাজের পর, মাসনুন দু’আ সহ জিকির আযকার করা ।
(৩) গায়রে হাফেজ প্রতিদিন এক পারা আর হাফেজগণ দিনে কমপক্ষে তিন পারা করে পড়ার চেষ্টা করুন।
(৪) সকাল ও সন্ধ্যা মাসনুন দু’আগুলো ফজর মাগরিবের পর পাঠ করার ব্যবস্থা করুন।

(৫) দরূদ শরীফ, ইস্তেগফার, কুরআন তেলাওয়াত, লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লাবিল্লাহ এবং সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ ও আল্লাহু আকবার তিনটি তাসবিহ আদায় করার চেষ্টা করুন।

(৬)) পুরো চব্বিশ ঘন্টায় কমপক্ষে দশ থেকে পনের মিনিট সময় আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনায় ব্যয় করুন।(৭)) অধ্যয়নযোগ্য ধর্মীয় পুস্তিকা কিছু সময়ের জন্য পড়ুন অর্থ্যাৎ রাসূল সা. এর অথবা সাহাবায়ে কেরামের বা কোন আল্লাহ ওয়ালার জীবনী অধ্যয়নের পাশাপাশি ইসলামিক ভালো আলেমদের বই পুস্তুক পড়াশুনা করা আরও ভাল।।

(৮) রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শা’বান মাসে বেশি রোজা রাখতেন, এই দিনগুলোতে নফল রোজা রাখাও উওম তবে যার জিম্মায় রোজা কাজা আছে সে যেন প্রথমে তা আদায় করেন এবং কাজা নামাজ, সিজদায়ে তেলাওয়াত থাকলে যেন আদায় করার তরতিব বানিয়ে নেয়।

(৯) আপনার বাচ্চাদের এবং পরিবারকে সময় দিন, তাদের সাথে কথা-বার্তা বলুন এবং আপনার সাথে কথা বলার সুযোগ দিন।

ঘরের কাজকর্ম বাড়ির কাজগুলিতে সময় দিন এবং পরিষ্কার, ধোয়া ইত্যাদিতে ঘর ওয়ালির সাথে সহায়তা করুন। (১০) কিছু সময় ঘরে থাকার ব্যবস্থা করুন। (১১) বাড়ির সমস্ত মাহরাম আত্মীয়-স্বজন ও বাচ্চাদেরকে নিয়ে সময় করে বসে ইসলামিক বই পড়েন।

(১২) আপনার শিক্ষাগত দুর্বলতাগুলি কাটিয়ে ওঠার জন্য কিছুটা সময় নিন। এবং যদি আপনি ভালো পরামর্শদাতার সাথে পরামর্শ করুন চাই সে আপনার উস্তাদ হোক তাঁর সাথে পরামর্শ করেন, তবে এটি ভাল হবে।

(১৩) আপনি প্রতিদিনের সময়সূচীকে অনুসরণ করুন এবং এটির মাধ্যমে দিন অতিবাহিত করার চেষ্টা করুন। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। আমিন।

বাসিরাত অনলাইন থেকে হুসাইন আল মাহমুদের অনুবাদ

ওআই/আবদুল্লাহ তামিম

ad