186432

মাহফিলের আয়োজক কমিটির সদস্যদের নিয়ে কী ভাবছেন আলেমরা?

সুফিয়ান ফারাবী।।
বিশেষ প্রতিবেদক>

বাংলাদেশে শীতের মৌসুমে ওয়াজ মাহফিলের প্রচলন বহুদিনের। তবে বর্তমানে ওয়াজ শুধু শীতকাল বা বছরে একবার বার্ষিকীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সারা বছরই শহর কিংবা মফস্বলে ওয়াজ মাহফিল আয়োজন করছে এ দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমান। একটি ওয়াজ মাহফিলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন মাহফিল পরিচালনা কমিটি এবং ওয়ায়েজগণ। আয়োজকদের সুন্দর ব্যবস্থাপনা ও বক্তার জ্ঞানগর্ভ আলোচনার মাধ্যমে একটি মাহফিল ‘হেদায়াতের মঞ্চ’ হয়ে উঠে।

তবে বর্তমানে ওয়াজ মাহফিল নিয়ে শ্রোতা মহলের অভিযোগ অনেক। প্রথমেই তারা অভিযোগের তীর ছুঁড়ছেন বক্তার দিকে তারপর আয়োজকের দিকে। বক্তা এবং আয়োজকদের নানা অসঙ্গতির কথা উঠে আসছে তাদের অভিযোগে। এ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে মাহফিল আয়োজক কমিটির সদস্যদের ব্যক্তিগত জীবনের জন্য সুন্দর কিছু পরামর্শ।

ওয়াজে নিসওয়ান: মহিলাদের ওয়াজ

চট্রগ্রাম ওমর গণি কলেজের সাবেক অধ্যাপক মাওলানা আ ফ ম খালিদ হোসাইন বলেছেন, “যারা ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করে থাকেন তাদেরকে সর্বপ্রথম ধার্মিক হতে হবে। তাদেরকে প্র্যাকটিক্যাল মুসলিম হতে হবে। তাদের ঘরে ইসলামি পরিবেশ থাকতে হবে। অন্যথায় এ ধরনের ওয়াজ মাহফিলের মাধ্যমে সামাজিক পরিবর্তন আসবে না। মানুষের মনে প্রভাব পড়বে না।”

এ ক্ষেত্রে বক্তাগণ বড় ভূমিকা পালন করতে পারেন বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, “বক্তরা সর্বপ্রথম দিনের কথাগুলো আয়োজকদের উপর এপ্লাই করবেন। তাদের জীবন ইসলামের আলোয় আলোকিত করার চেষ্টা করবেন। যখন মানুষ দেখবে আলেমদের স্পর্শে এলাকার গণ্যমান্য বা জনপ্রতিনিধিদের জীবনে ওহীর আলোর ছোঁয়া লেগেছে, তাদের জীবন পরিবর্তন হয়েছে, তখন মানুষ আরো উৎসাহী হয়ে ইসলামের দিকে আসবেন।

তারাও প্র্যাকটিক্যাল মুসলিম হওয়ার চেষ্টা করবেন। তখন এ ধরনের ওয়াজ মাহফিল সামাজিক অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং মানুষকে সুপথ প্রদর্শন করবে।”

“তবে আশার আলো হচ্ছে, বর্তমানের যুবসমাজ কনসার্ট থেকে মুখ ফিরিয়ে ওয়াজ মাহফিলের দিকে ধাবিত হচ্ছেন। আগে বড় বড় শিল্পীদের কনসার্টে মানুষের উপচে পড়া ভিড় হত। এখন পরিস্থিতি উন্নয়নের দিকে। আমি দেখেছি কয়েকজন জনপ্রিয় বক্তার মাহফিলে শ্রোতারা হুমড়ি খেয়ে পড়েন। জায়গা না পেয়ে বাড়ির ছাদে অথবা গাছের ডালে বসে ওয়াজ শুনেন। এটা অবশ্যই পজেটিভ বিষয়।” যোগ করেন আ ফ ম খালিদ হোসাইন।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের ঢাকা মহানগরীর সভাপতি  মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী বলেন, “ওয়াজ মাহফিলের আয়োজক কমিটির সদস্যদের ব্যক্তিগত জীবন থাকা উচিত একেবারে দাগহীন। তাদের জীবন যেন ইসলামের দেখানো পথে পরিচালিত হয়। সমাজে যেন তাদেরকে নিয়ে কোন বিরূপ আলোচনা না থাকে। এটা অত্যন্ত জরুরি বিষয়। এটাকে কোনো ভাবে অবহেলা করা চলবে না।”

“সাধারনত মাহফিল আয়োজক কমিটি ধার্মিক শ্রেণীর মানুষ হয়ে থাকেন। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে আয়োজকদের ব্যক্তিগত জীবন খুব একটা ভালো হয় না। নানা অপকর্মের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা থাকে। আমাদের উচিত তাদের জন্য দোয়া করা।

পাশাপাশি বক্তারা এ ধরনের মানুষের প্রোগ্রাম বয়কট করতে পারে বলেও মতামত দেন তিনি। “যাতে করে তারা একটি মেসেজ পায় যে, ওয়াজ মাহফিল আয়োজন করতে চাইলে আমাকেও ভালো হওয়া প্রয়োজন। আশা করছি এরকম করলে তাদের জীবনেও পরিবর্তন আসবে।”

“ওয়াজ মাহফিল হক মানুষের কল্যাণে। মানবতার কল্যাণে। হোক ধর্মীয় অনুশাসন বৃদ্ধিতে সহায়ক। বন্ধ হোক এর মাধ্যমে প্রতারণা। বন্ধ হোক মাহফিলের নামে গায়ে ধর্মীয় চাদর পরিধান করা।” যোগ করেন মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী।

আরএম/এটি

ads