182916

দেওবন্দের মজলিসে শূরা বরাবর শিক্ষার্থীদের খোলা চিঠি, তোলপাড়!

নুরুদ্দিন তাসলিম ।।

সম্প্রতি ভারতের দারুল দেওবন্দের মজলিসে শূরা ও প্রশাসনের নামে লেখা দীর্ঘ ৮ পৃষ্ঠার একটি চিঠি ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। চিঠিটি দেওবন্দ শিক্ষার্থীদের বলে দাবি করা হয়েছে।

ভাইরাল হওয়া চিঠি নিয়ে ইতোমধ্যেই দারুল উলুম দেওবন্দে তোলপাড় শুরু হয়েছে। তবে কোনও শিক্ষার্থী, ইন্সটিটিউট বা সংগঠনের নাম উল্লেখ করা হয়নি চিঠিতে। -খবর মিল্লাত টাইমসের।

ভাইরাল হওয়া ওই চিঠিতে দারুল উলুমে মজলিসে শূরা বরাবর আবেদন করা হয়েছে, ‘স্বাধীনতা যুদ্ধে দেওবন্দ যেভাবে নেতৃত্ব দিয়েছিল দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আজও সেই ভূমিকা পালন করুক। দেওবন্দ আবারও একজন শাইখুল হিন্দ জন্ম দিক।’

মিল্লাত টাইমসের খবরে বলা হয়, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি আবনায়ে দেওবন্দ নামে একটি ফেসবুক পেজে চিঠিটি পোস্ট করা হলে দ্রুতই তা দেওবন্দ ও আশপাশের মাদরাসা ছাত্রদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে।

চিঠিতে দারুল উলুম দেওবন্দের প্রতিষ্ঠাতাদের মিশন এবং প্রতিষ্ঠাতার উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সাথে সাথে বর্তমানে দেওবন্দের ইলমী, আমলি কার্যক্রম ও তার সীমাবদ্ধতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, হজরত কাসেম নানুতুবী, শাইখুল হিন্দ ও শাইখুল ইসলামের তালিম তারবিয়াতের সু-খ্যাতির সাথে সাথে জীবনের প্রতিটি সমস্যার সমাধানে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালনে যোগ্য শাগরেদ তৈরি করতেন। অথচ বর্তমান অবস্থা সংকটপূর্ণ ও পূর্বের বিপরীত।

দেওবন্দের তালিম, তারবিয়াত ও সামাজিকতার উপর ভিত্তি করে চিঠির শেষে বেশকিছু প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়েছে এবং দেওবন্দ প্রতিষ্ঠার ভিত্তিমূল হজরত নানুতুবী, হজরত গাঙ্গুহী, হজরত শাইখুল হিন্দের আদর্শের উপর বহাল রেখে নববী ইলমের ওয়ারিশদের সঠিক পথে পরিচালনার দাবি করা হয়েছে। দেওবন্দ প্রশাসনের কাছে।

দেওবন্দের বর্তমান কার্যক্রম নববী মিশন ও আকাবির হজরতের আদর্শের বিপরীত বলেও দাবি করা হয়েছে চিঠিতে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, হজরত নানুতুবী ও শাইখুল হিন্দ যেভাবে ছাত্রদের ইলমি ও আমলি তারবিয়াত দিতেন সেই গাম্ভীর্যতার সাথে আবারো তালিম, তারবিয়াত শুরু করা হোক। যেই তারবিয়াতে নামাজ রোজা-পালনের সাথে সাথে সমাজ, রাজনীতিতে ভূমিকা রাখার সাথে সাথে মানুষের আধ্যাত্মিক রাহনুমায়ির প্রতিও খেয়াল রাখা হবে।

*طلبۂ دارالعلوم دیوبند کی جانب سے ارباب دارالعلوم کے نام کھلا خط.**مؤقر اراکین شوری، محترم مہتمم صاحب اور اساتذۂ عظام،…

Posted by ‎ابنائے دارالعلوم‎ on Friday, 24 January 2020

দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করে দ্রুতই কুরআন-সুন্নাহর ভিত্তিতে তা সমাধান করার দাবি জানানো হয় চিঠিতে। এসব কার্যক্রমে সরাসরি দারুল উলুমের উস্তাদদের তত্ত্বাবধায়নেরও কথা বলা হয় চিঠিতে।

যেভাবে তত্ত্বাবধায়ন করতেন শাইখুল হিন্দ, শাইখুল হাদিস, আল্লামা শিব্বীর আহমদ উসমানী রহ. প্রমুখ। প্রয়োজনে এর জন্য আলাদা প্লাটফর্ম তৈরি করা হোক অথবা এই প্লাটফর্মের অধীনেই তা কার্যকর করা হোক।

শিক্ষার্থীদের এই চিঠির ব্যাপারে দেওবন্দ কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোন প্রতিক্রিয়া জানায়নি। এই চিঠির লেখক সম্পর্কেও এখনো কিছুই জানা যায়নি।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে দেওবন্দ শিক্ষার্থীরা ভারত সরকারের অবৈধ নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নেমে দুই ঘন্টার জন্য পুরো শহর অবরুদ্ধ করে রাখেন। যে কারণে পুলিশ প্রশাসনের সাথে সাথে দেওবন্দ প্রশাসনও কঠোর পদক্ষেপ নেয়। ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশ অজ্ঞাত নামা ২৫০ জনের নামে মামলা করে।

এরপর দেওবন্দ প্রশাসন জরুরি ভিত্তিতে মজলিসে শূরার বৈঠকের ডাক দেয় এবং ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নামার ব্যাপারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম মাওলানা আবুল কাসেম নোমানী আন্দোলন করে রাস্তা অবরুদ্ধকারীদের ইসলামি শিক্ষাবিরোধী বলেও মন্তব্য করেন।

সূত্র: মিল্লাত টাইমস

আরএম/

ad