153062

মা দিবসে মাকে নিয়ে আওয়ার ইসলাম কোর্স শিক্ষার্থীদের রচনা

মোস্তফা ওয়াদুদ: মা। পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর শব্দ। যে শব্দে হৃদয় জুড়িয়ে যায়। প্রাণ ভরে যায়। অন্তর উদ্বেলিত হয়। মনে জাগে আনন্দের হিল্লোল। উচ্ছ্বাসে ভেসে উঠে চারদিক।

মা একজনই হোন। মাকে অন্য কোনো শব্দে কিংবা অন্য কোনো ভাষায় ব্যক্ত করা যায় না। মায়ের তুলনা মা-ই। মায়ের জায়গা পৃথিবীর আর কেউ দখল করতে পারেন না।

সে মাকে সারাবছরই আমরা ভালবাসি। মায়ের প্রীতি সবসময়ই হৃদয়ে থাকে। মায়ের প্রতি ভাললাগা আজন্মের। মাকে ভালবাসার জন্য কোনো সময়ের প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজন হয় না নির্দিষ্ট কোনো দিনের।

মাকে ভালবাসা যায় প্রতিদিন প্রতি মুহূর্তে। কিন্তু এরপরও স্পেশাল শুধু মায়ের জন্যই একটি দিন নির্ধারিত করলে কে না করবে? যেদিনের ভালবাসা শুধু মাকে ঘিরেই থাকবে। আর তাই বিশ্বে প্রতিবছর আজকের দিনে একসাথে পালিত হয় মা দিবস।

আজ ইংরেজি মে মাসের দ্বিতীয় রোববার। ‘বিশ্ব মা দিবস’। দিবসটির সূচনা করেছিলেন আমেরিকার অধিবাসী আনা জার্ভিস। তার মা যুক্তরাষ্ট্রের সানিটারিজম হাসপাতালে মারা গেলে তিনি দিবসটির সূচনা করেন।

মা দিবসের ছোয়া লেগেছে সবার মনে। বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হচ্ছে।
বিশেষত মূলধারার জাতীয় ইসলামী অনলাইন নিউজ পোর্টাল আওয়ার ইসলাম টোয়েন্টিফোর ডটকম আয়োজিত বাংলাদেশ লেখক ফোরামের তত্বাবধানে লেখালেখি ও সাংবাদিকতা কোর্সে মা দিবসের ছোঁয়াটা একটু বেশিই লেগেছে।

মা দিবসের জন্য কোর্সে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের হোমওয়ার্ক দেয়া হয়েছিলো ‘মা দিবস’ এর রচনা। প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থীর সবাই মাকে নিয়ে বেশ দারুণ ও মনছূঁয়ে যাওয়া রচনা লিখেছে।

সবার লেখা রচনা থেকে বাছাই করে নির্বাচিত চারটি রচনার চুম্বকাংশ তুলে ধরা হলো আওয়ার ইসলামের পাঠকদের জন্য।

মা তোমার স্বপ্ন হবো
হুজাইফা কাসিম

সালাম বিনিময় শেষে পরসংবাদে কোর্সের বিশেষত্ব বর্ণনা করে হুজাইফা কাসিম লিখেন, আম্মু! এ কোর্সটি যেহেতু বিশিষ্ট ইসলামি লেখকদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ ইসলামী লেখক ফোরাম’ এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত। তাই প্রায় সব বিশিষ্ট লেখকই এ কোর্সে ক্লাস করাবেন।

আম্মু! মনে পড়ে। একবার তুমি একটি বইয়ের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছিলে। বইটির লেখক ছিলেন মাওলানা যাইনুল আবিদীন। তিনিও গত দুদিন আমাদের ক্লাস নিয়েছেন। তার কথাগুলো তার লেখার মতোই উচ্ছল ও প্রাণবন্ত। যেনো বহতা নদীর মতো কল কল করে বয়ে যায়।

কিংবা যেনো ফুলের মতো দুলে দুলে সুবাস ছড়ায়। জানি না, কোনটি যথার্থ উপমা। ক্লাস শেষ হয়; কিন্তু মুগ্ধতা কাটে না। কখন যে তিনঘণ্টা পার হয়ে যায় টেরই পাই না। শুধু আমি না। অন্যসব শিক্ষার্থীর অনুভূতি এমনই।

আম্মু! সেই মকতবের সময় থেকে রমজানের ছুটিগুলো মাদরাসায় বা তাবলিগে কেটেছে। চেয়েছিলাম এবারের ছুটি তোমার কাছে কাটাবো। তোমার হাতে রান্না করা মজার মজার ইফতার খাবো। ভোররাতে তোমার কোমল শাসনে সাহরির জন্য জাগবো। আবার আমি সেই ছোট্ট শিশুটি হয়ে যাবো। শৈশবের স্মৃতিগুলো আমাকে খুব করে হাতছানি দেয়।

কিন্তু এ ইচ্ছাগুলো আমি বিসর্জন দিয়েছি। কারণ তোমার তো স্বপ্ন ছিলো। তোমার ছেলে অনেক বড় সাহিত্যিক ও সাংবাদিক হবে। শুদ্ধ সাহিত্য দিয়ে ইসলামের সেবা করবে।

আম্মু, জানি না পারবো কিনা? তবুও আমি চাই তোমার স্বপ্নের সমান বড় হতে। বরং স্বপ্নকেও ছাড়িয়ে যেতে। তোমার চোখের শীতল চাহনি হতে। সেজন্য যত ত্যাগ প্রয়োজন করবো।

এভাবেই বিশ্ব মা দিবসে মাকে নিয়ে মনজুড়ানো চিঠি লিখেছে লেখালেখি করতে আসা আওয়ার ইসলাম টোয়েন্টিফোর ডটকমের ‘লেখালেখি ও সাংবাদিকতা’ কোর্সের শিক্ষার্থী হুজাইফা কাসিম।

কী মায়া তার বলায়
আখতার হুসাইন

চিঠির কুশল বিনিময় করতে গিয়ে আখতার লিখে, মা! তুমি ভালো থাকো এটা আমার চাওয়া ও আমার ভালো থাকার দাওয়া। (ঔষধ)।

কী সুন্দর উপস্থাপনা। এরপর সে লিখে, মা! তোমার ছেলে একদিন লেখক হবে। সাহিত্যিক হবে। কলমের কালি দিয়ে নতুন পৃথিবীর ছবি আঁকবে। সাহিত্য দিয়ে স্বপ্ন বুঁনবে নব ধরণীর। ঈমানের নূর ছড়িয়ে দিবে বিশ্বময়। ইসলামের আলোয় আলোকিত করবে চারদিক। বল মা! এর চেয়ে বড় কী চাওয়া হতে পারে তোমার?

আমার জন্য দুশ্চিন্তা করো না। দোয়া কবুলের সময়গুলোতে দোয়া করো। তোমার দোয়ার প্রতিটি শব্দ আমার জন্য হাতিয়ার। তোমার দোয়া অপ্রতিরোধ্য।

কোর্সের বর্ণনা দিয়ে আখতার লিখে – শুনো মা! মাত্র পাঁচদিন হলো। আরো পনেরো দিন বাকি। ইতিমধ্যেই অনেক মহীরুহের ক্লাস পেয়ে ধন্য হয়েছি। আরো কত খ্যাতিমান ব্যক্তিদের দেখা পাবো। তাদের জ্ঞানের সমুদ্রে অবগাহন করে মুক্তা কুঁড়াবো। তার হিসেব নেই।

নতুন নতুন স্বপ্ন দেখবো। যতদূর জানি, আল্লামা মামুনুল হক কোর্সে ক্লাস করাবেন। উবায়দুর রহমান খান নদভীও ক্লাস নিবেন। তাদের নাম শুনলেইতো হৃদয় মন প্রশান্ত হয়ে যায়।

এবার বুঝতে পেরেছো কেমন আছে তোমার ছেলে? কেমন কাটছে তার দিনকাল? প্রজ্ঞার মতো দামি সম্পদ কুঁড়াতে এসেছি। তাই তোমাকে ছেড়ে এসেছি দূরে। এ তো কয়টা দিন। ফের আসবো চলে। তোমার কোলে। আশ্রয় নিবো তোমার আঁচলে।

ইতি তোমার ছেলে
আখতার

আরেক শিক্ষার্থী বন্ধু খালেদ বিন মোস্তফা। তার রচনার বিষয় মায়ের রান্না কচুর শাক
সালাম বিনিময় শেষে সে লিখেছে।

মা! তোমাকে ছাড়া আমার ভালো লাগে না। ভালো লাগে না সকালের স্নীগ্ধতা। পাখপাখালির কলরব। তোমাকে ছাড়া পূবালী বাতাসও হৃদয় ছুঁয়ে যায় না। ঝিঁঝির ডাক অন্তপুরে দোলা দেয় না। হর্ষ বিলাসী হয় না টিয়া। বাগানে ফুটন্ত ফুলের সেই গন্ধ পাই না। হৃদয় কোণে সর্বদা কী এক শূণ্যতা বিরাজ করে। ভালো লাগে না কিছুই। মন বসে না কোনো কাজে।

শহরের সুস্বাদু খাবারগুলো বড় বিশ্বাদ মনে হয়। তোমার রান্না কচু শাক আর মুগডালে যে তৃপ্তি তা পৃথিবীর কোনো খাদ্যেই আর পাই না। রোজ রোজ সাহরি ইফতারে তোমার রান্না খুব মিস করি।

ভাবি, কবে যে বাড়ি যাবো? আর তোমার চাঁদমুখ দেখে হৃদয় শীতল করবো। মা! তোমার জন্য আমার দিল কাঁদে। মন কাঁদে।

কিন্তু মা! গত কয়েকটা দিন তোমাকে কাছে না পেলেও আমি একটি বিশাল প্লাটফরম পেয়েছি।

মা! তুমি না আমাকে বলো যে, ‘তুই লেখক হবি।’ সে লেখক হওয়ার প্লাটফরম খোঁজে পেয়েছি মা। তুমি শুধু দোয়া করো। যেনো তোমার ছেলে ভালো লেখক হয়ে ইসলামের পথে মানুষকে আহবান করতে পারে। পথ দেখাতে পারে সুন্দরের।

সর্বশেষ খালেদ লিখে, মা! নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি খেয়াল রেখো। আব্বুকে সালাম দিও। ভালবাসা দিও জান্নাতকে। আজ এটুকুই।

ইতি
তোমার কলিজার ধন
খালেদ বিন মোস্তফা

সর্বশেষ নির্বাচিত হয়েছে মাকে নিয়ে লেখা রবিউল খন্দকার এর রচনা। তার রচনার বিষয় ‘কেউ কপালে চুমু আঁকে না’

তিনি লিখেছেন,
শ্রদ্ধেয়
প্রিয় ‘মা’! প্রথমে আমার সালাম জানিবেন। নিশ্চয় মহান রবের মেহেরবানিতে সুখেই আছেন। আমিও আপনার দোয়ার বরকতে বেশ ভালো আছি। নতুন পরিবেশ। নতুন বন্ধু। নতুন নতুন প্রিয় শিক্ষক। সবার সাথে সময়গুলো খুব সুন্দর কাঁটছে।

মা! সাহরির সময় খুব খারাপ লাগে। যখন তোমার মমতামাখা শীতল হাতের ছোঁয়া না পাই। যখন কেউ ডাকে না, বাবা উঠ। সেহরীর সময় হলো। ঘুমকাতর চোখে তোমার রান্না করা সুস্বাদু খাবারের ঘ্রাণ পাই না।

ফজরের নামাজ পড়ে এসে এখন আর শুনিনা তোমার কুরআন তেলাওয়াত। কাবা জিয়ারাতে গেলে তোমার স্মৃতি আমায় তাড়া করে।

বিদায়ী তাওয়াফ শেষে আজো অশ্রুসজল নয়ন আমাকে কাঁদায়। প্রবাস থেকে এলে এখন আর কেউ তোমার মত জড়িয়ে ধরে কপালে চুমু আঁকে না।

মা! আমার লেখার প্রতিটি শব্দে তোমার মমতা জড়ানো। তোমার হাতেই তো প্রথম লেখা শিখি। আমাদের গতকাল ছিলো ছড়ার ক্লাস। তোমাকে নিয়ে আমি অনেকগুলো ছড়া লিখবো।

তুমি অসুস্থ হয়েও আল্লাহর নাম নিয়েছো অবচেতন মনে। সেই মহান মালিক তোমাকে জান্নাতের সকল নেয়ামাত দিয়েছেন নিশ্চয়। আমারও একান্ত প্রার্থনা ; ‘তুমি ভালো থাকো জান্নাতে’। জান্নাতেই হবে আমাদের সাক্ষাত।

ইতি
তোমার কলিজার টুকরা
রবিউল খন্দকার

এভাবেই লেখালেখি করতে আসা শিক্ষার্থীগণ মা দিবসে মাকে নিয়ে লিখে প্রানবন্ত ও মন ছুঁয়ে যাওয়া রচনা।

-এটি

ad

পাঠকের মতামত

One response to “মধ্যপ্রাচ্য ‘সঙ্কটে’ ঐক্যের ডাক দিল আমিরাত”

  1. whoah this blog is excellent i really like studying your articles.
    Keep up the good work! You recognize, a lot of individuals are hunting round for this information, you could help them greatly.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *