151786

ভবিষ্যতে প্রযুক্তি নির্ভর হচ্ছে হাইয়াতুল উলয়া ও বেফাকের সকল পরীক্ষা

মোস্তফা ওয়াদুদ
নিউজরুম এডিটর

ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রশ্ন পাঠানোর পর সারাদেশে আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ- এর অধীনে এবারের দাওরায়ে হাদীসের (তাকমিল) পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পরপর দুই দফা প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর নতুন এ পদ্ধতি প্রশ্নফাঁসরোধে বেশ কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে এই সাফল্যকে কিভাবে দেখছেন আলেমরা?

এ বিষয়ে বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকের সহ-সভাপতি ও হাইয়াতুল উলইয়ার সদস্য মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস বলেন, বিষয়টি খুবই কার্যকর পদ্ধতি। আল্লাহর অশেষ মেহেরবানী আমাদের উপর, আমরা অত্যান্ত সফল ও স্বার্থকভাবে প্রশ্নফাঁস প্রক্রিয়াটি বন্ধ করতে পেরেছি। ভবিষ্যতে আমরা শুধু হাইয়াতুল উলইয়ার প্রশ্নই না, বেফাকের প্রশ্নও তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর করব। সেখানে এবারের প্রক্রিয়াটিও থাকতে পারে। আবার নতুন কোনো প্রক্রিয়াও আসতে পারে।

বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকের সহ-সভাপতি, হাইয়াতুল উলইয়ার সদস্য ও জামিয়া এমদাদিয়া কিশোরগঞ্জ-এর প্রিন্সিপাল আল্লামা আযহার আলী আনোয়ার শাহ বলেন, যুগে যুগে এমন অনেক মোনাফেক চরিত্রের লোক ছিলো এবং এখনো আছে। তারা চাচ্ছিলো না আমরা সুন্দর ও সুষ্ঠু একটি বিতর্কমুক্ত পরীক্ষা উপহার দেই। তাই তারা প্রশ্নফাঁস করে আমাদের দূর্নাম করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু আল্লাহর মেহেরবানি যে, তাদের চক্রান্ত নস্যাৎ হয়েছে। হাইয়াতুল উলইয়ার পুরো সেটকে পরিবর্তন করতে পারলে ভবিষ্যতে আর এমন পরিস্থিরি সম্মুখীন হতে হবে না।

প্রশ্নফাঁসরোধে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত ও সফলতা নিয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকের সহ-সভাপতি, হাইয়াতুল উলইয়ার সদস্য ও জামিয়া ইসলামিয়া হোসাইনিয়া গহরপুর সিলেটের মুহতামিম মাওলানা মুসলেহুদ্দীন রাজু বলেন, আল্লাহর রহমত আর আমার অভিজ্ঞতাই আমাকে এমন ঝুঁকি নিতে উৎসাহিত করেছে। কারণ, আমি বেফাকের আমেলার সাথে প্রায় ১৪ বছর ধরে রয়েছি। এর আগে আমার বাবা (আল্লামা নুরুদ্দীন গহরপুরী রহ.) সভাপতি থাকাকালীন কাছ থেকে বোর্ডের কার্যক্রম দেখেছি। আমি সবসময় যে বিষয়টি লক্ষ্য করেছি তা হলো- কোন পরিস্থিতিতেই মুরুব্বিরা ভেঙে পড়তেন না। পূর্ণ হিম্মত নিয়ে সম্মুখে এগিয়ে যেতেন। তাঁদের এ হিম্মতটাকে আমি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলাম।

প্রশ্নফাঁসরোধে সহায়তাকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন,  এর পেছনে আমাকে অনেকেই সহযোগিতা করেছেন। বিশেষত মুফতি উসামা আমীনের সহযোগিতার কথা ভুলবার নয়। এছাড়া বিভিন্ন বোর্ডের আরো অনেক তরুণরাই সহযোগিতা করেছেন। আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞতা আদায় করছি।

প্রসঙ্গত, পর পর দুই দফা প্রশ্নফাঁসের ঘটনার প্রেক্ষিতে মাদরাসার সর্বোচ্চ অথরিটি ‘আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ এর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রশ্ন পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এ পদ্ধতি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর নতুন করে আর প্রশ্নফাঁস হয়নি। সবশেষ গত ৩ মে সারাদেশে ‘আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’এর অধীনে চলমান দাওরায়ে হাদীস (তাকমিল) পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।

উল্লেখ্য, ৬টি কওমি মাদরাসাভিত্তিক শিক্ষাবোর্ড থেকে প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষার্থী আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ এর কেন্দ্রীয় এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে।

আরএম/

ad

পাঠকের মতামত

৪ responses to “মধ্যপ্রাচ্য ‘সঙ্কটে’ ঐক্যের ডাক দিল আমিরাত”

  1. whoah this blog is excellent i really like studying your articles.
    Keep up the good work! You recognize, a lot of individuals are hunting round for this information, you could help them greatly.

  2. My brother recommended I might like this web site.
    He was totally right. This publish truly made my day. You can not believe simply how
    much time I had spent for this info! Thank you!

  3. I am not sure where you are getting your information, but
    great topic. I needs to spend some time learning
    much more or understanding more. Thanks for excellent information I was looking
    for this info for my mission.

  4. ১৭ বছরের আগে জানতাম বিস্ময়কর বিশ্ব মানচিত্র তৈরী করেছেন , বারিধারা মাদ্রাসার একজন ছাত্র, এখন দেখছি অন্য মাদ্রাসার ছাত্র, এর মূল আবিস্কারক কে খুজে বাহির করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *