49718

রোহিঙ্গাহত্যা বন্ধ ও আরাকানকে স্বাধীন করতে বিশ্বের প্রতি আহ্বান আলেমদের

আওয়ার ইসলাম: শীর্ষ উলামা মাশায়েখ ও বিভিন্ন ইসলামী দলের নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মায়ানমারের সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধ সন্ত্রাসীরা মুসলমানদের হত্যা, ধর্ষণ, পুড়িয়ে মারা ও জবাই করে টুকরা টুকরা করাসহ যে নির্মম নির্যাতন এমনকি তাদের ঘর-বাড়ি পুড়ে তাদের ভিটে বাড়ি ছাড়া করছে তা কোনো মুসলমান ও বিবেকবান মানুষ সহ্য করতে পারে না। মায়ানমার সরকার হত্যা ও নির্যাতন বন্ধ না করলে বাংলাদেশের মুসলমানরা মায়ানমার অভিমুখে লংমার্চ করে মুসলমানদের রক্ষায় ঝাপিয়ে পড়বে।

নেতৃবৃন্দ মুসলমানদের উপর নির্মম নির্যাতনের কারণে মায়ানমার সরকারকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ঘোষণা দেয়ার দাবী জানান।

মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী জাতিসংঘ, ওআইসি ও সার্কসহ আর্ন্তজাতিক সংস্থা গুলোর প্রতি মায়ানমারে গণহত্যার বিরুদ্ধে এবং আরাকানকে স্বাধীন রাষ্ট্র করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করার আহবান জানান। মানবিক কারণে বাংলাদেশ সরকারকে মজলুম মুসলমানদের খাদ্য, চিকিৎসা ও আশ্রয় দেয়ার আহবানও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গনে শীর্ষ উলামা মাশায়েখ ও বিভিন্ন ইসলামী দলের নেতৃবৃন্দের আহবানে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমীর সভাপতিত্বে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীরে শরীয়ত শাহ মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সহ-সভাপিত মাওলানা জহিরুল হক ভূইয়া, মাওলানা জুনাঈদ আল হাবীব, মাওলানা আব্দুর রব ইউসূফী, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান এডভোকেট মাওলানা আব্দুর রকীব, মহাসচিব মাওলানা হাকীম আব্দুল করিম, মুসলিম লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আতিকুল ইসলাম, মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের, জমিয়তের যুগ্নমহাসচিব মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্নমহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমীর মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, খেলাফত মজলিসের যুগ্নমহাসচিব শেখ গোলাম আজগর, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, বীরমুক্তিযোদ্ধা শওকত আমীন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মাওলানা সুলতান মহিউদ্দীন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা কোরবান আলী কাসেমী, বায়তুলমাল সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল, মাওলানা তোফাজ্জল হোসাইন, মাওলানা আজিজুল ইসলাম।

বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীরে শরীয়ত শাহ মাওলানা আতাউল্লাহ বলেন, রোহিঙ্গা মুসলমানরা সেখানকার সেনাবাহিনীর অত্যাচার থেকে রেহাই পাচ্ছে না। সেখানে মুসলমানদের সাহায্যে এগিয়ে যাওয়া বাংলার মুসলমানদের উপর ফরজ। সুতরাং হত্যা ধর্ষণ বন্ধ না করলে আমরা যুদ্ধে যেতে বাধ্য হবো।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তে কোনো মুসলমান নির্যাতিত হলে তাদের পাশে দাঁড়ানো প্রতিটি মুসলমানের ঈমানি দায়িত্ব। তাই কোনো মুসলমান বসে থাকতে পারে না। মায়ানমারের সঙ্গে আলোচনা নয় সেখানে মুজাহিদ পাঠিয়ে আরাকানকে মুক্ত করতে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রতি আহবান জানান।

ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান এডভোকেট মাওলানা আব্দুর রকীব বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি সার্ক সম্মেলনের আহবান করে রোহিঙ্গা মুসলমানদের নির্যাতন বন্ধে মায়ানমার সরকারের উপর চাপ প্রয়োগ করুন।

মুসলিম লীগের মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলমানদের জন্য সীমান্ত খুলে দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান।

মানববন্ধন থেকে আগামীকাল দেশব্যাপী প্রতিটি মসজিদে নির্যাতিত মজলুম রোহিঙ্গা মুসলমানদের জন্য দুআ ও বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়।

আইসিইউতে আল্লামা মোস্তফা আজাদ; দোয়া কামনা

আওয়ার ইসলাম: জামেয়া হোসাইনিয়া ইসলামিয়া আরজাবাদ মাদরাসার মুহতামিম ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহসভাপতি আল্লামা মোস্তফা আজাদ অসুস্থ হয়ে দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে অবস্থার অবনতি ঘটায় তাকে আইসিউতে নেয়া হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরেই তিনি ডায়বেটিস, প্রেসার ও কিডনিসহ নানাবিধ দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত ছিলেন। গতকাল (৬ সেপ্টেম্বর) কিডনী ডায়োলাইসিস করা অবস্থায় দুর্বল হয়ে পড়েন। তখন থেকেই রাজধানীর শ্যামলীর একটি হাসাপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণকেন্দ্র আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সাবেক প্রচার সম্পাদক মাওলানা ওয়ালী উল্লাহ আরমান আওয়ার ইসলামকে বলেন, গত বছর থেকেই আল্লামা মোস্তফা আজাদ কিডনি রোগে ভুগছেন। তার দুটি কিডনিই নষ্ট হয়ে গেছে। তখন থেকেই নিয়মিত কিডনি ডায়ালাইসিস করে আসছিলেন। গতকাল হঠাৎ করে বেশি সমস্যা দেখা দিলে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।

আল্লাম মাওলানা মোস্তফা আজাদ একজন বিজ্ঞ মুফাসসিরে কুরআন ও দক্ষ মুহতামিম। ১৯৭১ সালে তিনি মুক্তিযুদ্ধেও অংশ নেন৷ মুজাহিদে মিল্লাত মাওলানা শামছুদ্দীন কাসেমী রহ. এর ইন্তেকালের পর ১৯৯৬ থেকে আজ পর্যন্ত জামিয়া হোসাইনিয়া ইসলামিয়া আরজাবাদের মুহতামিমের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

আল্লামা মোস্তাফা আজাদের সুস্থতা কামনায় তার পরিবার ও দলের নেতৃবৃন্দ দোয়া চেয়েছেন।

ad

পাঠকের মতামত

One response to “বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা বঙ্গোপসাগরে ফেলা উচিত: জব্বার”

  1. DarrellLiene says:

    Many thanks for the blog, it is filled with so much useful information. Reading this helped me a lot.
    [url]editessayservice.com[/url]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *